ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ মানেই আলাদা উত্তেজনা। চলতি এশিয়া কাপেও এর বাইরে নয়। অবশ্য এবার মাঠের লড়াইয়ের চেয়ে অন্য একটি বিষয় এই উত্তেজনার সৃষ্টি করেছে। আর তা হলো ‘হ্যান্ডশেক’ কাণ্ড। ম্যাচ শুরুর আগে কিংবা শেষে কেউ কারো সঙ্গে হাত মেলাবেন কি না, সেটাই যেন এখন বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে। আর সেই বিতর্কের রেশ না কাটতেই আজ আবার মুখোমুখি হচ্ছে দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী।দুবাই আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে আজ রোববার (২১ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ সময় রাত সাড়ে ৮টায় মাঠে গড়াবে ম্যাচটি। মাত্র এক সপ্তাহ আগেই একই ভেন্যুতে মুখোমুখি হয়েছিল দুই দল। সেই ম্যাচে পাকিস্তান বড় ব্যবধানে হেরে যায়, তবে ম্যাচশেষে আলোচনা ছিল অন্য কিছু নিয়ে—হ্যান্ডশেক ইস্যু নিয়ে সরগরম হয়ে ওঠে গোটা ক্রিকেটবিশ্ব।গত সপ্তাহের ম্যাচে টসের সময় ভারতের অধিনায়ক পাকিস্তানের অধিনায়কের সঙ্গে হাত মেলাননি। পাকিস্তান দাবি করে, ম্যাচ রেফারি অ্যান্ডি পাইক্রফট নাকি নিজেই হাত মেলানো থেকে বিরত থাকতে বলেছেন ভারতীয় অধিনায়ককে। ম্যাচশেষেও কোনো ভারতীয় ক্রিকেটারকে দেখা যায়নি পাকিস্তানের কারও সঙ্গে হাত মেলাতে।পরে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি) অভিযোগ করে আইসিসিতে এবং ম্যাচ রেফারিকে বাদ দেওয়ার দাবি তোলে। যদিও আইসিসি সেই দাবি আমলে নেয়নি।এরই ধারাবাহিকতায় সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিপক্ষে নিজেদের পরবর্তী ম্যাচের আগে সংবাদ সম্মেলন বয়কট করে পাকিস্তান। এমনকি ম্যাচ শুরুর নির্ধারিত সময়ের এক ঘণ্টা আগে পাকিস্তানি কর্তারা বৈঠকে বসেন। পরে দাবি করা হয়, ম্যাচ রেফারি পাইক্রফট ক্ষমা চাওয়ায় তারা খেলতে রাজি হয়েছেন।আজকের ভারত ম্যাচের আগেও একই কৌশল নেয় পাকিস্তান। ম্যাচের আগের দিন (২০ সেপ্টেম্বর) নির্ধারিত সংবাদ সম্মেলনে কাউকে পাঠায়নি তারা। যদিও এই সিদ্ধান্তের কোনো ব্যাখ্যা দেয়নি পিসিবি বা এশিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিল (এসিসি)।এই পরিস্থিতিতে ভারতের অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদবের কাছে জানতে চাওয়া হয়েছিল, মাঠের বাইরের এত কাণ্ড-কারখানার প্রভাব ক্রিকেটারদের ওপর পড়ে কি না। উত্তরে সূর্যকুমার বলেন, ‘রুমের দরজা বন্ধ করে দাও, মুঠোফোন বন্ধ রাখো আর ঘুমাও।পরক্ষণেই যোগ করেন, ‘সবসময় না শুনে থাকা যায় না, বাইরে থেকেও অনেক ইতিবাচক বার্তা পাওয়া যায়, যা মাঠে কাজে লাগে।’ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ মানেই উত্তেজনা, সেটি মাঠে যতই একপেশে হোক না কেন। সর্বশেষ পাঁচ ম্যাচে একটিতেও জয় পায়নি পাকিস্তান। তবু ম্যাচ ঘিরে আগ্রহে এতটুকু ঘাটতি নেই। গ্যালারি থাকে কানায় কানায় পূর্ণ, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চলে কথার লড়াই।আরডি
Source: সময়ের কন্ঠস্বর
