বর্ষার দিনগুলো ফুরিয়ে প্রকৃতিতে এখন নীলাকাশ আর কাশফুলের শুভ্রতা। পঞ্জিকার পাতায় দুর্গোৎসবের ধ্বনি। দেবী দুর্গাকে বরণে ব্যস্ত সময় করছেন দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে আগত প্রতিমা শিল্পীরা। এদিকে কাঙ্খিত মজুরি না থাকায় অনেকেই ছেড়ে দিয়েছেন বাপ-দাদার এ পেশা, তাই চাইলেন সরকারি আর্থিক সহযোগিতা। দুর্গোৎসব ঘিরে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে বলে জানান জেলা ও উপজেলা প্রশাসন।সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা ঘিরে প্রতিমা তৈরির ধুম পড়েছে। কারিগরদের দম ফেলার ফুসরত নেই। এরই মধ্যে প্রতিমার গায়ে পড়েছে রঙের আঁচড়। সারাদেশের মতো যশোর জেলার শার্শা-বেনাপোলে পুরোদমে চলছে পূজার প্রস্তুতি। শার্শা উপজেলা ও বেনাপোল পোর্ট থানার ১টি পৌরসভা ও ১১টি ইউনিয়নে এবার ২৯টি মন্ডপে প্রতিমা তৈরিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন মৃৎশিল্পীরা। গত বছরে ২৮টি মন্ডপে পূজা অনুষ্ঠিত হয়েছিল।সরেজমিনে মন্দিরে গিয়ে দেখা যায়, দুর্গোৎসবকে কেন্দ্র করে মন্ডপে মন্ডপে চলছে প্রতিমা তৈরির কাজ। অনেক মন্দিরে রং তুলির কাজ চলছে। দেবী দুর্গার সঙ্গে কার্তিক, গণেশ, লক্ষ্মী, সরস্বতী প্রতিমা তৈরিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন মৃৎশিল্পীরা। আয়োজকরা বলছেন, বিগত বছরগুলোর চেয়ে এবছর বেশি মজুরি নিচ্ছেন কারিগররা। যে কারণে পূজার খরচ বেড়েছে বহুগুণ।প্রতিমা তৈরি কারিগর লক্ষণ, সুজন দাস, কার্তিক বলেন, “আমরা প্রতি বছর শার্শা উপজেলাতেই কাজ করে থাকি। এবার গত কয়েক বছরের তুলনায় ভালোভাবে পূজার প্রস্তুতি নিয়েছেন। কমিটির লোকজনের চাহিদা অনুযায়ী এবার প্রতিমার আকার ও ডিজাইনে ভিন্নতা এসেছে। বর্তমানে আমরা মাটি দিয়ে প্রতিমা তৈরির কাজ শেষ করে রঙের কাজ করছি। সময় ঘনিয়ে আসায় রাতদিন কাজ করছি। লক্ষ্য নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যেই যেন কাজ শেষ হয়। রঙের কাজ শেষ করে কমিটির লোকজনের কাছে প্রতিমা বুঝিয়ে দেওয়া হবে।”শার্শা উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক নীল কোমল সিংহ জানান, “প্রতিমা তৈরি সম্পন্ন, এখন রঙের কাজ চলছে। চক্ষুদান ও প্রতিমায় বস্ত্র পরিধান বা সাজসজ্জা পূজার দুদিন আগেই সম্পন্ন করবো। উৎসব নির্বিঘ্ন করতে কাজ করে যাচ্ছি। সার্বিক দেখভাল করার জন্য আসন্ন দুর্গোৎসব সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করার জন্য ইতোমধ্যে প্রত্যেকটি পূজা মন্দিরে স্থানীয়ভাবে পর্যবেক্ষণ কমিটি গঠন করা হয়েছে। প্রত্যেকটা মন্ডপে পর্যাপ্ত সিসি ক্যামেরা বসানোর জন্যেও প্রশাসনের সাথে কথা হয়েছে। আশা করছি যে, শান্তিপূর্ণ পরিবেশে এবার দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হবে।”শার্শা উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি শ্রী বৈদ্যনাথ দাস বলেন, “শারদ উৎসব মূলত তিন পর্বের। মহালয়া, বোধন ও সন্ধ্যাপূজা। আশ্বিন মাসের শুক্লপক্ষকে বলা হয় দেবীপক্ষ। সাধারণত আশ্বিন মাসের প্রথমপক্ষের ষষ্ঠ থেকে দশম দিন পরবর্তী সময়ে শারদীয় দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হয়। এই পাঁচ দিন যথাক্রমে ষষ্ঠী, সপ্তমী, অষ্টমী, নবমী ও বিজয়া দশমীর মধ্য দিয়ে সনাতনদের সবচেয়ে বড় এ উৎসব শেষ হয়। দুর্গা পূজা উপলক্ষে জাতীয় উৎসবে একটি ঐক্য ও সমন্বয়ের ধারা প্রতিষ্ঠা করতে চায় যা জাতীয় জীবনে আজ বড় প্রয়োজন। প্রতিটি পূজামন্ডপ ও মন্ডপগামী সড়কগুলোয় বিশেষ করে রাতের বেলায় নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করারও দাবি জানান তিনি।”বেনাপোল পোর্ট থানা ও শার্শা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রাসেল মিয়া ও আব্দুল আলিম জানান, “হিন্দু ধর্মালম্বীদের ধর্মীয় উৎসব দুর্গা পূজা নির্বিঘ্নে পালন করতে পারে সেজন্য প্রশাসনিকভাবে সকল প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে আমরা বিভিন্ন পূজা কমিটির লোকজনের সাথে কথা বলেছি। গুরুত্ব অনুসারে পূজা মন্ডপগুলোকে কয়েকটি শ্রেণিতে বিভক্ত করে সে অনুপাতে অফিসার-ফোর্স মোতায়েন করার ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। পাশাপাশি কয়েকটি পূজামন্ডপ মিলে থাকবে পেট্রল টিম। তারা ঘুরে ঘুরে পূজামন্ডপগুলো মনিটরিং করবে।”এদিকে যশোরে শারদীয় দুর্গাপূজা উদযাপন উপলক্ষে আইনশৃঙ্খলা বিষয়ক প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক আজহারুল ইসলাম। তিনি সকলকে ঐক্যবদ্ধভাবে শারদীয় দুর্গাপূজা উদযাপনের আহ্বান জানিয়ে বলেন, “যদি কেউ উৎসবে বিঘ্ন ঘটানোর চেষ্টা করে, তাহলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পূজা মন্ডপগুলো নিরাপত্তা দেওয়ার জন্য পুলিশ, আনসার কাজ করবে। সেই সাথে মন্ডপগুলোতে সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা হবে। এর কন্ট্রোল রুম থাকবে জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে। সীমান্ত এলাকার পূজা মন্ডপগুলোতে বিজিবি কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা করবে।”জেলা প্রশাসক আরও বলেন, “দুর্গাপূজা উপলক্ষে মোবাইল কোর্ট চলমান থাকবে। পূজা মন্ডপে নিয়মিত তল্লাশি করা হবে। সন্দেহভাজন এমন কাউকে মনে হলে প্রশাসন তল্লাশি করতে পারবে। কন্ট্রোল রুম থেকে পূজার যাবতীয় বিষয় নিয়ন্ত্রণ করা হবে।”এসআর
Source: সময়ের কন্ঠস্বর
