বরগুনার আমতলীতে পানি উন্নয়ন বোর্ডের কোটি টাকার জমি দখল করে পাকা ভবন নির্মাণ কাজ বন্ধ করে দিয়েছে প্রশাসন। মঙ্গলবার বিকেলে উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মোঃ রোকনুজ্জামান খাঁনের নির্দেশে এ কাজ বন্ধ করা হয়।জানা গেছে, ১৯৬৭ সালে পানি উন্নয়ন বোর্ড আমতলী উপজেলার হলদিয়া ইউনিয়নের দক্ষিণ তক্তাবুনিয়া এলাকায় ৫৪/বি পোল্ডারে প্রায় ১০ একর জমি অধিগ্রহণ করে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ নির্মাণ করে। বাঁশবাড়িয়া নদীর তীরবর্তী এ বাঁধে নির্ভর করে অন্তত ৩০ হাজার মানুষ, তাদের ফসল ও গবাদি পশু সুরক্ষিত থাকে।কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে হলদিয়া অফিস বাজার এলাকায় কবির মল্লিক ৬ শতাংশ এবং লিবিয়া প্রবাসী লিটন হাওলাদার ৫০ শতাংশ জমি দখল করে পাকা ভবন নির্মাণ শুরু করেন। এছাড়াও ওই বাজার এলাকায় শতাধিক ব্যক্তি পানি উন্নয়ন বোর্ডের অনুমতি ছাড়া অবৈধ স্থাপনা গড়ে তুলেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।স্থানীয়রা জানান, বাঁধের দুই পাশে এসব স্থাপনা নির্মাণের কারণে বাঁধ নড়বড়ে হয়ে পড়েছে। প্রাকৃতিক দুর্যোগ হলে বাঁধ ভেঙে ভয়াবহ প্লাবনে হাজারো প্রাণহানীর আশঙ্কা রয়েছে।মঙ্গলবার বিকেলে খবর পেয়ে ইউএনও’র নির্দেশে হলদিয়া ইউনিয়ন ভূমি অফিসের তহসিলদার মোঃ সাদিক মিয়া ঘটনাস্থলে গিয়ে নির্মাণ কাজ বন্ধ করে দেন।এ বিষয়ে অভিযুক্ত কবির মল্লিক বলেন, ‘আমি বিএনপি করি। আমার ডিসিআর প্রয়োজন নেই। পানি উন্নয়ন বোর্ডের অনুমতি নিয়েই কাজ করছি।’ তবে অনুমতির কাগজপত্র দেখাতে তিনি ব্যর্থ হন। লিবিয়া প্রবাসী লিটন হাওলাদারের সঙ্গে একাধিকবার ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করলেও তিনি সাড়া দেননি।তহসিলদার মোঃ সাদিক মিয়া বলেন, খবর পেয়ে গিয়ে অবৈধ ভবন নির্মাণ বন্ধ করে দিয়েছি। ইউএনও মোঃ রোকনুজ্জামান খাঁন বলেন, এরপর যদি আবার কাজ শুরু হয়, দখলদারদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী হান্নান প্রধান জানান, দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে। অন্যদিকে, বরগুনা জেলা প্রশাসক মোহাঃ সফিউল আলম বলেন, ‘বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধে কোনো অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ করা যাবে না। এ বিষয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ডকে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশ দিয়েছি।’এসআর
Source: সময়ের কন্ঠস্বর
