ফরিদপুরে হত্যা, চাঁদাবাজি, প্রতারণাসহ ডজনখানেক মামলার আসামি সিকদার লিটনকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। বৃহস্পতিবার(২৮ আগস্ট) দুপুরে ফরিদপুর শহর এলাকা থেকে জেলা গোয়েন্দা পুলিশের একটি দল তাকে গ্রেপ্তার করে। এ বিষয়ে জেলা গোয়েন্দা পুলিশের কর্মকর্তা মামুনুর রশিদ বলেন, ‘চাঁদাবাজির অভিযোগে সিকদার লিটনের বিরুদ্ধে কোতায়ালি থানায় একটি মামলা হয়েছিল। সেই মামলায় আজ শহর থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাকে থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।’খোঁজ নিয়ে জানা যায়, সিকদার লিটনের বাড়ি ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা উপজেলার টগরবন্দ ইউনিয়নের চর আজমপুর গ্রামে। ২০২০ সালে একাধিক মামলায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা থাকা সিকদার লিটনকে ভাঙ্গা থেকে গ্রেপ্তার করে র্যাব।তার বিরুদ্ধে ঢাকায় ছাত্র-জনতার আন্দোলন দমনে একাধিক হত্যা, হত্যাচেষ্টা মামলা রয়েছে। এছাড়া শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনতে ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গায় ভাঙচুর ও নাশকতার অভিযোগে করা বিস্ফোরক ও নাশকতার মামলার এজাহারনামীয় আসামি সে। চলতি বছরের ৫ মে ঢাকার বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের মামলায় ফরিদপুর থেকে ডিবি পুলিশ সিকদার লিটনকে গ্রেপ্তার করে।জানা গেছে, সিকদার লিটন সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে দীর্ঘদিন ধরে নানা ধরনের প্রতারণা করে আসছিল। তার বিরুদ্ধে মামলার ভয় দেখিয়ে অর্থ উপার্জনের অভিযোগ রয়েছে। সম্প্রতি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তার বিকাশে তিন মাসে সাড়ে ২২ লাখ টাকা লেনদেনের তথ্য পেয়েছে। উল্লেখ্য, পাঁচ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকার পতনের দিন কারাগারে গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হওয়া জাবেদ নামে একজন যুবককে নিজের খালাতো ভাই দাবি করে কেরানীগঞ্জ থানায় একটি হত্যা মামলা করেন লিটন। এই মামলায় আসামি করার ভয় দেখিয়ে অনেকের কাছ থেকে টাকা নেয়ার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। ঘটনা জানাজানি হলে নিহত জাবেদের ভাই মাইনুদ্দীন ঢাকার মোহাম্মদপুর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন।
Source: সময়ের কন্ঠস্বর
