রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) শিক্ষক নিয়োগে সাবেক সংসদ সদস্য ও জামায়াত নেতা লতিফুর রহমানের সুপারিশ ঘিরে তোলপাড় শুরু হয়েছে। চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ আসনের সাবেক এই এমপি সম্প্রতি আজমীরা আরেফিন নামের এক প্রার্থীর জন্য সুপারিশ করেন। আজমীরা রাবির ক্রপ সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি বিভাগে প্রভাষক পদের প্রার্থী এবং সোমবার (৪ জুলাই) সকালেই তাঁর সাক্ষাৎকার হওয়ার কথা।বিতর্কের সূত্রপাত শনিবার দিবাগত রাতে। বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন খানের ফেসবুক স্টোরিতে আজমীরার প্রবেশপত্রের ছবি আপলোড হয়ে যায়। ওই প্রবেশপত্রে ইংরেজিতে সুপারিশকারী হিসেবে লতিফুর রহমানের নাম স্পষ্টভাবে লেখা ছিল।ছবিটি স্টোরিতে আসা নিয়ে রবিবার রাতে এক স্ট্যাটাসে দুঃখ প্রকাশ করেন অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন। তিনি দাবি করেন, ‘কীভাবে এটি স্টোরিতে আপলোড হয়েছে বুঝতে পারছি না। আমার ছেলে ফোনে গেম খেলছিল, হয়তো তখনই ভুলবশত স্টোরিতে চলে এসেছে।’ তিনি আরও জানান, প্রতিদিনই বিভিন্ন প্রার্থী বা তাদের পক্ষে কেউ সিভি ও প্রবেশপত্র দিয়ে যায়। অনেকে ফোন বা হোয়াটসঅ্যাপে প্রার্থীর কাগজপত্র পাঠান, কেউ কেউ আবার টেক্সট করে সুপারিশ জানান।অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন লেখেন, ‘রুয়ার নির্বাচনের সময় সাবেক এক এমপির সঙ্গে পরিচয় হয়েছিল। সম্প্রতি তিনি তাঁর এলাকার একজন আবেদনকারীর (আজমীরা আরেফিন) প্রবেশপত্র পাঠিয়েছেন। তবে এসব সুপারিশ কোনোভাবেই লিখিত বা মৌখিক পরীক্ষায় প্রভাব ফেলে না।’তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি হয়েছে। অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন, ‘ডজনখানেক রেফারেন্সের মধ্যে শুধুই কি জামায়াত নেতার পাঠানো প্রবেশপত্রটাই “ভুল করে” ফাঁস হলো?’ একজন মন্তব্য করেছেন, ‘এটা ভুল নয়, পরিকল্পিত একটি এজেন্ডার অংশ। এর পেছনে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য থাকতে পারে।’এদিকে রাবি অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের (রুয়া) নির্বাচন বিএনপিপন্থীরা বর্জন করায় জামায়াতপন্থী হিসেবে পরিচিত প্রার্থীরা বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন। একই সময়ে রাকসু নির্বাচন ঘিরেও ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের মধ্যে মেরুকরণ স্পষ্ট। এমন সময়ে জামায়াত নেতার সুপারিশ ফাঁস হওয়াকে অনেকেই রাজনৈতিক অস্থিরতা তৈরির উপাদান হিসেবে দেখছেন।বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এখন পর্যন্ত বিষয়টি নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো তদন্তের ঘোষণা দেয়নি।বিষয়টি নিয়ে কথা বলতে আজ রোববার সকালে সাবেক সংসদ সদস্য লতিফুর রহমানকে ফোন কল করা হয়। সাংবাদিক পরিচয় দিলে তিনি অন্য আরেকটি কলে কথা বলছেন বলে জানান। তিনি কিছুক্ষণ পরে কল করতে বলেন। পরবর্তীতে আবার ফোন কল করা হলে তিনি রিসিভ করেননি।এসআর
Source: সময়ের কন্ঠস্বর
