যখন মোবাইল ছিল না তখন দূর-দূরান্তে অবস্থানরত আত্মীয়-স্বজনদের সঙ্গে কথা বলার একমাত্র মাধ্যম ছিল টেলিফোন। সময়ের ব্যবধানে মোবাইল সহজলভ্য হওয়ায় টেলিফোনের ব্যবহার কয়েকগুণ কমেছে। এর ফলে হারিয়ে যেতে বসেছে টেলিফোন এক্সচেঞ্জ অফিসের কাজকর্মও।জরাজীর্ণ ভবন ও জনবল সংকট দিয়ে চলছে ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গায় বাংলাদেশ টেলিকমিউনিকেশন কোম্পানি লিমিটেড (বিটিসিএল) এর নামমাত্র কার্যক্রম। এক যুগ ধরে উপজেলা বিটিসিএল অফিসে নেই কোনো কর্মকর্তা। মাত্র একজন লাইনম্যান দিয়েই চলছে পুরো কার্যক্রম। উপজেলা বিটিসিএল অফিস সূত্রে জানা গেছে, ২০০৮ সালে উপজেলায় বিটিসিএলের কার্যক্রম ডিজিটাল করা হয়। পুরো উপজেলা জুড়ে সরকারি-বেসরকারি মিলে বিটিসিএলের মাত্র ৪২টি টেলিফোন সংযোগ রয়েছে। এরমধ্যে সরকারি প্রতিষ্ঠানের সংযোগ রয়েছে ৩৫টি।সরেজমিনে দেখা যায়, জরাজীর্ণ অবস্থায় পড়ে আছে উপজেলা বিটিসিএল অফিসটি। আশির দশকে নির্মিত দু’তলা ভবনটি সংস্কার ও রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে পড়ে আছে বেহাল দশায়। চারপাশে ঝোপঝাড় ও আগাছায় ভরপুর। ভবনের দেয়ালের রঙে পড়েছে বিবর্ণ আস্তরণ। বেশিরভাগ কামড়ায় ঝুলছে তালা। ফাইলপত্রে জমেছে ধুলোবালি। এছাড়াও ভবনের দরজা, জানালা ও কাচ ভেঙে গেছে। অফিসের সম্মুখভাগে কাঁটাতারের সীমানা প্রাচীরের কোনো চিহ্নই নেই। বর্তমানে কর্মরত লাইনম্যান তার পরিবার নিয়ে ভবনের নিচতলা জুড়ে বসবাস করছেন। এসময় আলফাডাঙ্গা টেলিফোন এক্সচেঞ্জের লাইনম্যান ইমরান আলী মিয়ার সঙ্গে এই প্রতিবেদকের কথা হয়। তিনি বলেন, ‘২০০২ সাল থেকে এখানে কর্মরত আছি। জনবল না থাকায় সবকিছু আমিই দেখাশোনা করছি। মাঝেমধ্যে লাইনে সমস্যা হলে জেলা থেকে ইঞ্জিনিয়ার এসে ঠিক করে যান। এখন আগের মতো কাজ নেই। কারণ, সবার হাতে হাতে এখন মোবাইল। বর্তমানে আমাদের ৪২টি সংযোগ রয়েছে।’উপজেলা কৃষি অফিসের কর্মকর্তা তুষার সাহা বলেন, ‘আমাদের অফিসে টেলিফোনের সংযোগ আছে। প্রতি মাসে সর্বনিম্ন ১৭৩ টাকা বিল পরিশোধ করতে হয়। তবে মোবাইল ফোনেই সবসময় অফিসের যোগাযোগ কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়। তথ্য প্রযুক্তি এমন একটা ক্ষেত্র; যেখানে যুগের পর যুগ যোগাযোগের মাধ্যম পরিবর্তন হয়ে আসছে। আগের টেলিফোনের গ্রাহক এখন মোবাইলের দিকে ধাবিত হয়েছে। তাই বর্তমানে টেলিফোনের চাহিদা দিনকে দিন কমে যাচ্ছে।’উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা সাগর হোসেন সৈকত জানান, ‘এই উপজেলায় নতুন যোগদান করেছি। আমি আসার পর অফিসে টেলিফোন দেখিনি। তবে আমাদের টেলিফোন নাম্বার আছে। মাসিক বিল পরিশোধ করতে হয়।’আলফাডাঙ্গা উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তরের কর্মকর্তা ডা. ভবেন বাইন জানান, ‘আগে আমাদের অফিসে টেলিফোনের সংযোগ ছিল। কিন্তু এখন মোবাইলেই অফিসের যাবতীয় যোগাযোগ করা হয়। একারণে গতবছর থেকে টেলিফোন সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে।’এ বিষয়ে ফরিদপুর জেলা টেলিফোন এক্সচেঞ্জের ব্যবস্থাপক অপূর্ব সরকার বলেন,‘প্রতি বছর পর্যাপ্ত লোক নিয়োগ না হওয়ার কারণে লোকবল কমে যাচ্ছে। এছাড়া আমাদের কাজের পরিধিও কম। এই কারণেই প্রতি উপজেলায় একজন লাইনম্যান দিয়েই কাজ চলছে। তবে গ্রাহক কমে গেলেও যতগুলো সংযোগ আছে সবগুলো সচল আছে।’আরডি
Source: সময়ের কন্ঠস্বর
