তিন ঘণ্টার জন্য প্যারোলে মুক্তি পেয়ে মাকে শেষবারের মতো দেখলেন কক্সবাজার পৌরসভার সাবেক নারী কাউন্সিলর শাহেনা আক্তার পাখি। বুধবার (১৩ আগস্ট) দুপুর ১টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত। দাফন শেষে আবারও তাকে ফিরতে হয়েছে কারাগারের চার দেওয়ালের ভেতরে।পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, মঙ্গলবার রাত পৌনে ২টার দিকে কক্সবাজার শহরের একটি হাসপাতালে বার্ধক্যজনিত কারণে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন পাখির মা ফাতেমা বেগম (৭৫)।অনেকে বলছেন, মেয়ের কারাবন্দি হওয়ার পর থেকেই শাহেনা আক্তার পাখির জন্য মা ফাতেমা বেগমের মন ভেঙে পড়েছিল। শারীরিক শাস্তি নয়, বরং মানসিক কষ্ট—মায়ের শারীরিক দুর্বলতা, মেয়ের প্রতি উদ্বেগ, আর নিরপরাধ মেয়ের বন্দি জীবনের চাপ—সব মিলিয়ে তার হৃদয় ধীরে ধীরে ফেটে যাচ্ছিল। কেউ কেউ বলছেন, সেই ভাঙা মন আর সহ্য অযোগ্য কষ্টই শেষ অবধি তাকে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়তে বাধ্য করেছিল। লোহার দরজা যত কঠোরই হোক, তার চোখের অশ্রু ও হৃদয়ের ব্যথা কোনো শিকলের ভেতরে আটকানো সম্ভব হয়নি।মায়ের মৃত্যুসংবাদ কারাগারে পৌঁছাতেই শোকে ভেঙে পড়েন শাহেনা আক্তার পাখি। স্বজনরা জেলা প্রশাসনের কাছে প্যারোলে মুক্তির আবেদন করেন। অনুমতি মেলায় দুপুরে পুলিশি পাহারায় তিনি রামুর খুনিয়াপালং ইউনিয়নের ধেঁছুয়াপালং গ্রামের পৈতৃক বাড়িতে পৌঁছান।মায়ের মুখ দেখে তিনি হাউমাউ করে কেঁদে ওঠেন। বারবার মায়ের মুখে হাত বুলিয়ে বলেন, ‘মা, আমি এসেছি… তুমি তো আমাকে এতদিন ডাকলে।’পাশে দাঁড়িয়ে কাঁদছিলেন পাখির বাবা খুনিয়াপালং ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুল গনি। তিনি বলেন, ‘পাখি গ্রেপ্তার হওয়ার পর থেকে তার মা টেনশনে ছিলেন। সারাক্ষণ ‘পাখি, পাখি’ বলে ডাকতেন। হয়তো এই কষ্টই তার বুক ভেঙে দিয়েছে।’পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, কক্সবাজার সদর মডেল থানায় দায়ের হওয়া একটি মামলার ৬২ নম্বর আসামি শাহেনা আক্তার পাখি। গত ৩১ জুলাই তাকে গ্রেপ্তার করে আদালতে হাজির করার পর কারাগারে পাঠানো হয়।বিকেল গড়াতেই জানাজা শেষে মায়ের দাফন সম্পন্ন হয় গ্রামের কবরস্থানে। বিদায়ের সময় আবারও ভেঙে পড়েন পাখি। কবরের পাশে দাঁড়িয়ে শেষবারের মতো প্রার্থনা করেন, ‘আল্লাহ, মাকে জান্নাত নসিব করো, আর আমাকে ধৈর্য দাও।’ঠিক বিকেল ৪টার আগে, পুলিশের কড়া পাহারায় আবারও তাকে নিয়ে যাওয়া হয় কারাগারে। কয়েক ঘণ্টার সেই অস্থায়ী মুক্তি শেষ হয় লোহার দরজার আড়ালে।এইচএ
Source: সময়ের কন্ঠস্বর
