ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গায় নির্মাণ কাজ শেষ হওয়ার আগেই বৃষ্টির পানিতে ধ্বসে গেছে মধুমতি নদীর ডান-তীর রক্ষা বাঁধ। এতে নদীর তীরে বসবাসরত শতাধিক পরিবারের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।সোমবার (৪ আগস্ট) দুপুরে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, উপজেলার গোপালপুর ও টগরবন্দ ইউনিয়নের মিলনস্থল চর আজমপুর এলাকায় ডান-তীর রক্ষায় ৩০০ মিটার বাঁধের নির্মাণ কাজ প্রায় শেষ করেছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। কিন্তু গত কয়েকদিনের টানা বৃষ্টির পানিতে বাঁধের আনুমানিক ৩০ মিটার ধ্বসে পড়েছে। এতে সিসি ব্লকগুলো পর্যায়ক্রমে নদীগর্ভে চলে যাচ্ছে।স্থানীয়দের অভিযোগ, কাজের মনিটরিং ব্যবস্থা দুর্বল থাকায় এবং যথাযথ ডাম্পিং না করে সিসি ব্লক বসানোর কারণে বৃষ্টির পানিতেই বাঁধে ধস দেখা দিয়েছে। তবে পানি উন্নয়ন বোর্ড বলছে, প্রকল্পের কাজ চলমান থাকায় কাজের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে তারা এখনো কাজ বুঝে পাননি। কাজে অনিয়ম হলে তার দায়ভার ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের।জানা গেছে, পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে ফরিদপুর জেলার মধ্য দিয়ে প্রবাহিত খরস্রোতা ‘মধুমতি নদী ব্যবস্থাপনা ও উন্নয়ন’ শিরোনামে ২০২৩ সালের ৬ জুন জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) বৈঠকে একটি প্রকল্প গ্রহণ করা হয়। প্রকল্পটির ব্যয় ধরা হয়েছে ৪৮১ কোটি ১০ লাখ টাকা, যা ২৮টি প্যাকেজে বর্তমানে জেলার আলফাডাঙ্গা, বোয়ালমারী ও মধুখালী এলাকার সাড়ে সাত কিলোমিটার এলাকাজুড়ে পাউবোর তত্ত্বাবধানে বাস্তবায়িত হচ্ছে।ফরিদপুর পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) সূত্রে জানা যায়, মধুমতি নদীর ডান তীর রক্ষায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের বাস্তবায়নে ২ নং প্যাকেজের আওতায় আলফাডাঙ্গা উপজেলার টগরবন্দ ইউনিয়নের চর আজমপুর এলাকায় ৩০০ মিটার বাঁধ নির্মাণের জন্য কাজ পায় মেসার্স লিটন মল্লিক নামের একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান।স্থানীয় বাসিন্দা হান্নান শরীফ বলেন, ‘নদী ভাঙন প্রতিরোধে বাঁধ নির্মাণের কাজ শুরু হলে আমরা আশায় বুক বেঁধেছিলাম। কিন্তু কাজ শেষ না হতেই বৃষ্টির পানিতেই বাঁধ ধ্বসে পড়েছে। দ্রুত তীর সংরক্ষণ বাঁধ মেরামত না করা হলে অর্ধশতাধিক বাড়িঘর নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার আশঙ্কা করছেন তারা।’আক্ষেপ করে অপর এক বাসিন্দা শেফালী বেগম বলেন, ‘স্থায়ী বাঁধ হওয়ার কারণে গত দুই মাস আগে ধারদেনা করে বাড়িতে একখান ঘর দিয়েছি। কিন্তু সেই স্থায়ী বাঁধও নদীতে ভেঙে যাচ্ছে। আমাদের এখন কি হবে?’ কথাগুলো বলতে বলতে চোখের পানি ধরে রাখতে পারেননি শেফালী বেগম।জানতে চাইলে মেসার্স লিটন মল্লিক ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজার জিয়াউর রহমান বলেন, ‘নদীতে অতিরিক্ত পানির চাপে বাঁধের কিছু অংশ ধ্বসে গেছে। জরুরি ভিত্তিতে ওই অংশে বালু ভর্তি জিও ব্যাগ ফেলানো হবে। পরবর্তীতে নদীর পানি কমলে তা মেরামত করে দেওয়া হবে।’এ বিষয়ে ফরিদপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রাকিব হোসেন সময়ের কন্ঠস্বরকে বলেন, ‘খবর পেয়ে আমাদের প্রতিনিধি দল সেখানে পরিদর্শন করেছে। বিষয়টি নিয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কথা হয়েছে। প্রকল্পের কাজ চলমান থাকায় দায়িত্ব তাদের। বাঁধের ধ্বসে যাওয়া অংশের কাজ পুণরায় করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কাজে কোনো অনিয়ম থাকলে সেটিও খতিয়ে দেখা হবে।’এসআর
Source: সময়ের কন্ঠস্বর
