মালয়েশিয়ার ইমিগ্রেশন বিভাগ (জেআইএম) পরিচালিত এক বিশেষ অভিযানে ৬ বাংলাদেশি নাগরিককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। রাজধানী পুত্রাজায়া ও আশেপাশের এলাকায় আটককৃতরা দীর্ঘদিন ধরে অবৈধ হুন্ডি কার্যক্রম পরিচালনা করছিল বলে অভিযোগ রয়েছে।ইমিগ্রেশন বিভাগের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ২৭ জুলাই সন্ধ্যা ৭টা ৮ মিনিটে পুত্রাজায়া সংলগ্ন ৪টি স্থানে একযোগে অভিযান চালানো হয়। অভিযানটি পরিচালনায় বিভিন্ন পদের গোয়েন্দা ও বিশেষ অভিযানের কর্মকর্তারা অংশ নেন।দুই সপ্তাহ ধরে চলা গোয়েন্দা নজরদারির ভিত্তিতে এই অভিযানে এক ব্যক্তিকে ‘দালাং উতামা’ বা মূল হোতা হিসেবে শনাক্ত করে গ্রেপ্তার করা হয়। তার সাথে আরও ৫ জন বাংলাদেশিকে ‘গ্রাহক’ হিসেবে আটক করা হয়। আটককৃতদের বয়স ২৬ থেকে ৪৮ বছরের মধ্যে।অভিযান চলাকালে, প্রায় ১.২১ মিলিয়ন রিঙ্গিত (বাংলাদেশি ৩ কোটি ৫০ লাখ টাকার বেশি) নগদ অর্থ জব্দ করা হয়। এসব অর্থ অবৈধ মানি চেঞ্জিং বা হুন্ডি লেনদেন থেকে আসা বলে ধারণা করা হচ্ছে।এছাড়াও অবৈধ লেনদেনের হিসাব সংরক্ষিত হিসাব বই, ২টি মোবাইল ফোন, হুন্ডি কার্যক্রমে ব্যবহৃত একটি গাড়ি উদ্ধার করা হয়েছে। ভিসা ও ডকুমেন্ট না থাকায় ৫ জন অবৈধ অভিবাসী গ্রেপ্তার হওয়া ৬ জনের মধ্যে একজনের পাস পেঙ্গাজিয়ান (কাজের অনুমতি) থাকলেও, বাকি ৫ জনের কারও কাছে বৈধ পাসপোর্ট বা অভিবাসন অনুমতি ছিল না।মূল অভিযুক্তের বিরুদ্ধে ইমিগ্রেশন অ্যাক্ট ১৯৫৯/৬৩-এর ৫৬(১)(ডি) ধারায় এবং অন্যদের বিরুদ্ধে ধারা ৬(৩) অনুযায়ী মামলার প্রস্তুতি চলছে। তাদের পুত্রাজায়ার ইমিগ্রেশন দপ্তরে স্থানান্তর করে তদন্ত শুরু করা হয়েছে। চক্রটির সাথে সম্পৃক্ততার অভিযোগে একজন স্থানীয় নারী ও আরও ২ বাংলাদেশি পুরুষকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নোটিশ (Notis Saksi) ইস্যু করা হয়েছে।ইমিগ্রেশন বিভাগের ভাষ্যমতে, এই চক্রটি প্রায় এক বছর ধরে পুত্রাজায়ার বিলাসবহুল কন্ডোমিনিয়ামে অবস্থান করে বাংলাদেশি অভিবাসীদের লক্ষ্য করে অবৈধ মুদ্রা বিনিময় (হুন্ডি) কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছিল।অভিযানের পর ইমিগ্রেশন বিভাগ জানিয়েছে, দেশের অর্থনীতি ও নিরাপত্তার স্বার্থে এ ধরনের অবৈধ আর্থিক লেনদেন ও অনিবন্ধিত অভিবাসীদের বিরুদ্ধে তাদের অভিযান চলমান থাকবে।আরডি
Source: সময়ের কন্ঠস্বর
