রাজমিস্ত্রির কাজ করতো ছেলে। তার উপার্জন দিয়ে চলতো সংসার। প্রেমে ব্যর্থ হয়ে দুমাস আগে আত্মহননের পথ বেছে নেন একমাত্র ছেলে মুন্না হোসেন। ছেলের শোকে স্বামী মানসিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়লে প্রতিবেশীদের নিকট সহযোগিতা তুলে চিকিৎসকদের নিকট নিয়ে যাওয়ার আগের দিন গলায় ফাঁস দেন তিনিও।দুই মাসের ব্যবধানে স্বামী-সন্তানকে হারিয়ে এখন অসহায় ও দিশেহারা মনোয়ারা বেগম। স্বামীর রেখে যাওয়ার ভিটেমাটি আর ছেলের ১টি ছোট গরু ছাড়া সম্বল বলতে কিছুই নেই। ১০ বছর বয়সী মেয়েকে নিয়ে কী খাবে, কীভাবে চলবে সংসার সেই দুশ্চিন্তায় বাকরুদ্ধ তিনি।ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গী উপজেলা ভানোর ইউনিয়নের বাড়ী গ্রামে মনোয়ারা বেগমের। গত শুক্রবার রাতে স্বামী নুর ইসলাম শয়ন ঘরে গলায় ফাঁস মারা গেছেন। শনিবার বিকালে তাকে দাফন করা হয়েছে।সোমবার বিকালে সরেজমিনে গেলে মনোয়ারা বেগম জানান, ‘মোর ছুয়াডা রাজমিস্ত্রির কাম করে যে টাকাডি পাছিনো, ওইডা দিয়ে কুনোমতে সংসারটি চালাছিনু। ওয়ার বাপেতো আগ থেকে অচল, এখুদি সুস্থ হইলে কাজ করিবা যাছিল মাইনসের বাড়ীত। বেটাডা মরে যাবার পর শোকে আরো বেশি অসুস্থ হই গেইছিল। পাড়া প্রতিবেশির কাছত সহযোগিতা উঠানু ডাক্তারের লুগুন লেজাবার তানে। সকাল হইলেইতো লেগানুহে ডাক্তারের লুগুন। রাতেই কি যে মনডাত পড়িল, বিছনা খানতে উঠে গলাত দড়ি দিল।’মনোয়ারা কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘মি এলা কেংকরে চলিম, কি খাম, ছুটু বেটিরাক কি খিলাম, বাপগে মি কিছু বুঝে উঠপা পারছু নি। আল্লাহ কেনে মোর সব কাড়ে নিল।’প্রতিবেশীদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, রাজমিস্ত্রির কাজ করতো মনোয়ারা বেগমের একমাত্র ছেলে মুন্না হোসেন। প্রতিবেশী মেয়ের সাথে প্রেমের সম্পর্কে জড়িয়েছিল। ওই মেয়ের বিয়ে হয়ে যাওয়ার কারণে নিজেকে সামলাতে পারেনি। বাবাও ছেলের শোকে একই পথে হেটেছেন। এখন পরিবারটি অচল। উপার্জন করার মত কেউ নেই।ছোট শিশু মুন্নি জানান, ‘ভাইয়ার কাছ থেকে সকালে ৫ টাকা নিয়ে মাদ্রাসায় যেতাম। ভাইয়া চলে যাওয়ার পর কেউ টাকা দেয়নি। এখন বাবাও নেই। কার কাছে টাকা চাইবো। মাতো বাবার মৃত্যুর পর কথাই বলে না। খালি একদিকে বসে থাকে।’মনোয়ারা বেগমের ভাই সাদ্দাম হোসেন বলেন, ‘আমাদের ভিটে মাটিও নেই। ঢাকায় থাকি পরিবার নিয়ে কোনমতে সংসার চলে। নিজে খাবো কী আর বোনকেই বা কী সহযোগিতা করবো। বাবা-ছেলের এমন মৃত্যুতে আমরাও খুব বিপদে পড়েছি।’প্রতিবেশী আনোয়ার হোসেন জানান, ‘আমরা কিছু টাকা প্রতিবেশীদের কাছ থেকে তুলে দিয়েছিলাম। নুর ইসলামকে চিকিৎসকে দেখানোর জন্য। এখন দুদিন ধরে প্রতিবেশীরা যা দিচ্ছে, তাই খেয়ে বেচে আছে মা ও মেয়ে। যদি কোন মানবিক ব্যক্তি এগিয়ে আসে পরিবারটির পাশে দাঁড়ায়, তাহলেই পরিবারটি খেয়ে বেচে থাকতে পারবে।’বালিয়াডাঙ্গী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পলাশ কুমার দেবনাথ বলেন, ‘আমারতো বদলি হয়ে গেছে। তবুও ঘটনাটি হৃদয়বিদারক। উপজেলা প্রশাসন থেকে যতটুকু সম্ভব তাকে সহযোগিতা করা হবে।’এনআই
Source: সময়ের কন্ঠস্বর
