দেশে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের ছায়ায় প্রশাসনিক শৈথিল্যের সুযোগে চট্টগ্রাম মহানগরীতে আশঙ্কাজনক হারে বিস্তৃত হয়েছে “স্পা সেন্টার” নামের ছদ্মবেশী ভিআইপি পতিতালয়। আধুনিক সাজসজ্জা, ভিন্ন আঙ্গিকের মার্কেটিং আর সাংবাদিক পরিচয়ে পরিচালিত এই স্পা নামধারী দেহব্যবসা বর্তমানে নগরের অভিজাত আবাসিক এলাকা থেকে শুরু করে শিক্ষাঙ্গন ও পর্যটনকেন্দ্র পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়েছে ব্যাপক হারে।চট্টগ্রামের আগ্রাবাদ, চৌমুহনী, খুলশী, জিইসি, মেহেদীবাগ, ফ্রিপোর্ট ও পতেঙ্গা এলাকায় গড়ে উঠেছে শতাধিক নামসর্বস্ব স্পা সেন্টার, যাদের বেশিরভাগেরই নেই কোনো নামফলক, সাইনবোর্ড বা বৈধ অনুমোদন।এই স্পা সেন্টারগুলো মূলত operate করে সংঘবদ্ধ দালালচক্র ও তথাকথিত ‘সাংবাদিক’ পরিচয়ধারীরা। নামমাত্র ভুঁইফোড় অনলাইন পোর্টাল বা ইউটিউব চ্যানেলের কার্ড গলায় ঝুলিয়ে চক্রের মূলহোতারা প্রশাসনের চোখে ধুলা দিয়ে চালিয়ে যাচ্ছে এই অবৈধ কর্মকাণ্ড।তথ্যানুসন্ধানে জানা যায়, এসব স্পা সেন্টারে নিয়োগ দেওয়া হয় ১৬–২৫ বছর বয়সী কিশোরী ও যুবতীদের। অনেক সময় তাদের প্রলোভন দেখিয়ে, আবার অনেক সময় সামাজিক ও অর্থনৈতিক অসহায়ত্বের সুযোগ নিয়ে ঠেলে দেওয়া হয় দেহব্যবসায়।এক কলেজছাত্রী ছদ্মনাম তাহমিনা জানান, ‘আমাকে বলা হয়েছিল রিসেপশনিস্ট পদে মাসে ৩০ হাজার টাকা বেতনে চাকরি। কিন্তু পরে বুঝি আমাকে ‘ম্যাসাজ’ এর নামে শারীরিক সেবা দিতে বলা হচ্ছে। আমি ভয়ে পালিয়ে আসি।’আরেক সাবেক কর্মী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ‘ভিতরে সব বিদেশি স্টাইলের সাজসজ্জা, কিন্তু বাইরে কিছুই নেই। ফেসবুক, হোয়াটসঅ্যাপ, টেলিগ্রাম আর দালালের মাধ্যমে গ্রাহক আসে। মাঝেমাঝে প্রভাবশালী মানুষরাও আসে, তাই কেউ কিছু বলে না।’চক্রটি সাধারণত নিজেদের ‘অনলাইন সাংবাদিক’ পরিচয় দেয়, যার কারণে পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসন প্রায়শই জড়িয়ে পড়ে দ্বিধায়। নগরের একজন গোয়েন্দা কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে সময়ের কন্ঠস্বর-কে জানান, ‘আমরা বেশ কয়েকটি স্পা সেন্টারের কার্যক্রম সম্পর্কে অবগত। তবে অনেক সময় ‘মিডিয়া চাপ’, ‘রাজনৈতিক পরিচয়’ বা প্রশাসনিক হস্তক্ষেপের কারণে তৎক্ষণাৎ ব্যবস্থা নিতে জটিলতা তৈরি হয়।’নগরবাসী এবং বিশিষ্ট নাগরিক সমাজ বলছে, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে চট্টগ্রামের সামাজিক কাঠামো ভেঙে পড়বে। উঠতি প্রজন্ম বিপথে যাবে, মাদক ও কিশোর গ্যাংয়ের সঙ্গে এসব স্পা সেন্টারের যোগসাজশও বাড়ছে।নগরীর যেসব এলাকায় স্পা সেন্টার ছদ্মবেশে দেহব্যবসা বেশি বিস্তৃত– আগ্রাবাদ কমার্শিয়াল এরিয়া, চৌমুহনী ও খুলশী আবাসিক জোন, জিইসি, মেহেদীবাগ, শিল্পাঞ্চল ইপিজেড এবং পর্যটন কেন্দ্র পতেঙ্গা ও সী-বিচ সংলগ্ন এলাকায়।চট্টগ্রামের সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব সায়েম উদ্দিন সময়ের কন্ঠস্বর-কে বলেন, ‘চট্টগ্রাম একসময় শিল্প-সংস্কৃতি, বাণিজ্য আর প্রগতির নগরী ছিল। এখন সাংবাদিকতার ভূয়া সাংবাদিক পরিচয়ের মাধ্যমে দেহব্যবসার আখড়া ও মাদকের অবাধ বিকিকিনি বেড়ে উঠেছে আশঙ্কাজনক হারে। এটা কেবল আইনশৃঙ্খলা নয়, পুরো সমাজ ব্যবস্থার ওপর আঘাত।’এনআই

Source: সময়ের কন্ঠস্বর

সম্পর্কিত সংবাদ
বিরোধীদলীয় নেতার পিএস নিয়োগ দিল সরকার
বিরোধীদলীয় নেতার পিএস নিয়োগ দিল সরকার

জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধী দলীয় নেতা ডা. মো. শফিকুর রহমানের একান্ত সচিব (পিএস) নিয়োগ পেয়েছেন পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের Read more

রহস্য উদঘাটনে ২০ দিনেও ব্যর্থ পুলিশ
রহস্য উদঘাটনে ২০ দিনেও ব্যর্থ পুলিশ

গাজীপুরের কাশিমপুরে তুরাগ নদী থেকে উদ্ধার হওয়া অজ্ঞাতনামা এক ব্যক্তির মরদেহের রহস্য ২০ দিনেও উদঘাটন করতে পারেনি পুলিশ। এতে করে Read more

যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন ছাড়া ইসরাইল একদিনও টিকবে না: ইরানের স্পিকার
যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন ছাড়া ইসরাইল একদিনও টিকবে না: ইরানের স্পিকার

ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাকের গালিবাফ বলেছেন,  যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন ছাড়া দখলদার ইহুদিবাদী ইসরাইলি শাসনব্যবস্থার অস্তিত্ব বিলুপ্ত হয়ে যাবে।বৃহস্পতিবার (১৯ জুন) Read more

সাংবাদিকের জমি থেকে মাটি বিক্রি, ছাত্রদল নেতা বহিষ্কার
সাংবাদিকের জমি থেকে মাটি বিক্রি, ছাত্রদল নেতা বহিষ্কার

সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ায় এক সাংবাদিকের জমি থেকে মাটি বিক্রির অভিযোগে সিরাজগঞ্জ জেলা ছাত্রদলের যুগ্ন-সাধারণ সম্পাদক পাভেল মিয়াকে বহিষ্কার করা হয়েছে। সে Read more

আমরা নিরপেক্ষ নই ,    জনতার পক্ষে - অন্যায়ের বিপক্ষে ।    গণমাধ্যমের এ সংগ্রামে -    প্রকাশ্যে বলি ও লিখি ।   

NewsClub.in আমাদের ভারতীয় সহযোগী মাধ্যমটি দেখুন