চট্টগ্রামের সাতকানিয়ায় চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়ক ও কেরানীহাট-বান্দরবান মহাসড়ক পাশে ফুটপাত দখল করে গড়ে ওঠা শতাধিক অবৈধ দোকান ও স্থাপনা গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। বুধবার (১৮ জুন) দুপুর ১টা ৩০ মিনিট থেকে সন্ধ্যা ৬টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত এই অভিযান পরিচালনা করেন সাতকানিয়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ফারিস্তা করিম। সাহস, দৃঢ়তা ও দক্ষতার এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেন এই নারী প্রশাসনিক কর্মকর্তা। তাঁর নেতৃত্বে পরিচালিত অভিযানে যুক্ত ছিলেন বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সদস্যরা, হাইওয়ে পুলিশ এবং সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। উপস্থিত ছিলেন সাতকানিয়া সেনা ক্যাম্পে দায়িত্বরত ক্যাপ্টেন পারভেজ, সড়ক ও জনপথ দোহাজারী বিভাগের উপসহকারী প্রকৌশলী হানিফ এবং দোহাজারী হাইওয়ে থানার ওসি মাহবুব আলম। অভিযানকালে একে একে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয় মহাসড়ক ও ফুটপাত দখল করে গড়ে তোলা শতাধিক দোকান ও ছাপরা ঘর। ব্যবহৃত হয় বুলডোজার, উচ্ছেদ হয় টিনের ছাউনি ও স্থায়ী টং দোকান। দীর্ঘদিন ধরে এই অবৈধ দখলের কারণে কেরানীহাট এলাকায় মহাসড়কে তীব্র যানজট ছিল নিত্যদিনের চিত্র। পথচারীদের চলাচল যেমন বাধাগ্রস্ত হচ্ছিল, তেমনি সংকটে পড়েছিলেন স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থীরা, রোগীবাহী অ্যাম্বুলেন্সসহ জরুরি যানবাহন। এলাকার স্থানীয়দের দীর্ঘদিনের দাবি ছিল কেরানীহাট এলাকা যানজটমুক্ত করার। সেই দাবির প্রতি সম্মান জানিয়ে উপজেলা প্রশাসন সাহসী পদক্ষেপ নেয়। জনস্বার্থে গৃহীত এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। অনেকে বলেন, ‘নারী হয়েও এসিল্যান্ড ফারিস্তা করিম যে সাহস ও নেতৃত্ব দেখিয়েছেন, তা বিরল দৃষ্টান্ত। আমরা তার পাশে আছি।’ একজন পথচারী নারী বলেন, ‘কেরানীহাটে আগে চলাফেরা করাই কষ্ট ছিল। ফুটপাত দখল আর দোকানের ভিড়ে শিশুদের নিয়ে হেঁটে যাওয়া অসম্ভব হয়ে পড়েছিল। আজ যেন হাঁপ ছেড়ে বাঁচলাম।’ একজন দোকানদার বলেন, ‘জানি অবৈধ ছিল। কিন্তু ব্যবসা করে খাই। তবে প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিকল্প ব্যবস্থা নেওয়া হলে ভালো হয়।’ এ বিষয়ে এসিল্যান্ড ফারিস্তা করিম বলেন, ‘মহাসড়কের জায়গা দখল করে কেউ অবৈধভাবে স্থাপনা গড়তে পারবে না। দীর্ঘদিনের যানজট নিরসনে প্রশাসনের এই উদ্যোগ। আমরা আগেই মাইকিং দিয়েছিলাম। এরপর উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। ভবিষ্যতে পুনরায় কেউ অবৈধ দখল করলে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’ তিনি আরও বলেন, ‘সাতকানিয়ার মানুষের দীর্ঘদিনের দাবি ছিল কেরানীহাটকে যানজটমুক্ত করা। সেই দাবিকে বাস্তবায়নে আমরা মাঠে নেমেছি। আমাদের এ ধরনের অভিযান চলমান থাকবে।’ নারী কর্মকর্তা হয়েও তিনি যে নেতৃত্ব, কৌশল ও দৃঢ়তার পরিচয় দিয়েছেন, তা নিয়ে আলোচনা চলছে প্রশাসনিক মহলে এবং স্থানীয় জনগণের মুখেও। ফারিস্তা করিমের এই অভিযানে নেতৃত্ব দেওয়ার সাহসিকতা যেন হয়ে উঠেছে নারীর সক্ষমতার এক প্রেরণাদায়ী উদাহরণ। উল্লেখ্য, কেরানীহাট এলাকায় মহাসড়কের দুই পাশের অবৈধ স্থাপনার কারণে প্রতি ঈদ বা ছুটির সময় যানজট তীব্র আকার ধারণ করে। এই অভিযান সফলভাবে পরিচালনা করায় আগামীতে এই সড়কে চলাচল অনেকটাই স্বাভাবিক হবে বলে আশা করছেন স্থানীয় প্রশাসন। এসআর
Source: সময়ের কন্ঠস্বর
