বরিশালের গৌরনদী পৌরসভায় আদালতের নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে ফের দেয়াল নির্মান করে আটকে দেওয়া হয়েছে চলাচলের রাস্তা। ফলে পুরোপুরি অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছেন ২০টি পরিবারের সদস্যরা। রবিবার (২৮ সেপ্টেম্বর) দুপুর থেকে বিকেল পর্যন্ত শ্রমিক দ্বারা এ দেয়াল নির্মাণ করা হয়।ঘটনাটি বরিশালের গৌরনদী পৌরসভার তিখাসার মহল্লার। ভূক্তভোগী নুরুজ্জামান খান বলেন, ‘গৌরনদী ও পাশ্ববর্তী কালকিনি উপজেলা থেকে অসংখ্য লোকজন জড়ো করে আদালতের নির্দেশ অমান্য করে রাস্তার মধ্যে দেয়াল নির্মান করেছেন প্রতিবেশী সৌদি প্রবাসী কামাল সরদার। ফলে ২০টি পরিবার এখন অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছেন। ভয়ে স্থানীয় কেউ তাদের সামনে যেতে সাহস পায়নি।’নুরুজ্জামান খান অভিযোগ করেন, ‘বিষয়টি থানা পুলিশকে অবহিত করা সত্বেও তারা রহস্যজনক কারণে ঘটনাস্থলে আসেনি।’জানা গেছে, নুরুজ্জামান খানের আবেদনের প্রেক্ষিতে বিগত ১৭ সেপ্টেম্বর ঐ সম্পত্তির ওপর শান্তি শৃঙ্খলা বজায় রাখতে ১৪৪/১৪৫ ধারায় নিষেধাজ্ঞা জারি করেন আদালত। এ নিয়ে ১৩ নভেম্বর আদালতের পরবর্তী শুনানির দিন ধার্য করা হয়। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রবাসী কামাল সরদার রাস্তার জায়গা তার ক্রয় করা সম্পত্তি দাবি করে গত মাসে প্রথম দেয়াল নির্মান করেছিলেন। ঐ সময় স্থানীয় বাসিন্দারা নির্মানাধীন দেয়াল ভেঙে ফেলেন। পরবর্তীতে দ্বিতীয় দফায় ১৪ সেপ্টেম্বর কামাল সরদার পুনরায় রাস্তা বন্ধ করে দেয়াল নির্মান করেন। খবর পেয়ে উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিষ্ট্রেট মো. মেহেদী হাসান সরেজমিন পরিদর্শন করে জনসাধারণের চলাচলের পথ বন্ধ করে পৌরসভার অনুমতি না দিয়ে দেয়াল নির্মাণ করায় তা ভেঙে দিয়ে জনসাধারণের ব্যবহার্যে রাস্তা উন্মুক্ত রাখার নির্দেশ প্রদান করেন। এবার আদালতের ১৪৪/১৪৫ ধারার নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে তৃতীয়বারের মতো ফের দেয়াল নির্মাণ করেন তিনি।স্থানীয় বাসিন্দা মিজানুর রহমান, দেলোয়ার হোসেনসহ একাধিক ব্যক্তিরা বলেন, তিকাসার গ্রামের রবিউল ভিলা সংলগ্ন পাইকবাড়ি এলাকার প্রায় ২০টি পরিবারের চলাচলের দীর্ঘদিনের একমাত্র রাস্তাটি তারা নিজস্ব অর্থায়নে একাধিকবার মেরামত করেছেন। পরবর্তীতে গৌরনদী পৌরসভা থেকে রাস্তাটি সংস্কার করতে আসলে কামাল সরদার ও তার পরিবারের সদস্যরা বাঁধা প্রদান করেন।অভিযোগের ব্যাপারে জানতে চাইলে কামাল সরদার বলেন, ‘২০১১ সালে আমার ক্রয় করা ২০ শতক সম্পত্তির মধ্যে স্থানীয় কতিপয় ব্যক্তিরা তিনটি রাস্তা দাবি করেন। আমি প্রধান সড়কের জন্য ইতোমধ্যে এক শতক জমি দিয়েছি।’ তিনি আরও বলেন, ‘বাকি দুইটি রাস্তার জন্য জমি না দেয়ায় আমার ক্রয় করা জমিতে নির্মিত দেয়াল স্থানীয়রা একাধিকবার ভেঙে ফেলেছে। পুনরায় আমি আমার ক্রয় করা সম্পত্তিতে দেয়াল নির্মান করেছি।’আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে দেয়াল নির্মানের ব্যাপারে জানতে চাইলে কোন মন্তব্য করতে রাজি হননি তিনি।এসএম
Source: সময়ের কন্ঠস্বর
