বৈরী আবহাওয়ার কিছুদিন কাটিয়ে চট্টগ্রাম নগরীর কোরবানির পশুর হাটগুলোতে ফিরেছে ক্রেতাদের সরব উপস্থিতি। ঈদুল আজহার আর মাত্র দুই দিন বাকি। সময় সঙ্কট আর ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতার তাড়নায় ক্রেতারা এখন হাটমুখী হচ্ছেন। ফলে জমে উঠতে শুরু করেছে নগরীর সাগরিকা, বিবিরহাট ও অন্যান্য পশুর হাটগুলো।গত কয়েকদিনের টানা বৃষ্টিতে পশুর হাটগুলো ছিল প্রায় ক্রেতাশূন্য। যারা গিয়েছেন, তারা মূলত দামের ধারণা নিতেই হাট পরিদর্শন করেছেন। তবে গতকাল (বুধবার) সকালেও কিছুটা গুঁড়িগুঁড়ি বৃষ্টি হলেও দুপুরের পর আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় হাটে ক্রেতা উপস্থিতি বাড়তে থাকে। এতে করে কিছুটা স্বস্তি ফিরে এসেছে পশু ব্যবসায়ীদের মাঝে।বিক্রেতারা জানান, কয়েকদিন বৃষ্টির কারণে বিক্রি একেবারেই হয়নি। সারাদিন গরুর পরিচর্যায় সময় গেছে। তবে এখন বেচাকেনা কিছুটা গতি পেয়েছে। চাহিদা বেশি ছোট ও মাঝারি আকারের গরুতে। বড় গরুর প্রতি আগ্রহ তুলনামূলক কম, ফলে লোকসানের আশঙ্কায় রয়েছেন বড় পশুর ব্যবসায়ীরা। চট্টগ্রামের খুলশি এলাকা থেকে সাগরিকা বাজারে গরু কিনতে আসা ক্রেতা মাহবুবুর রহমান সময়ের কন্ঠস্বর-কে জানান, ‘বিক্রেতা ১ লাখ ৬৫ হাজার টাকা চাইলেও ১ লাখ ২০ হাজার টাকায় একটি গরু কিনেছি। ঈদের সময় খুব কাছাকাছি, তাই দেরি করার ঝুঁকি নিতে চাইনি।’অন্যদিকে সিরাজগঞ্জ থেকে আসা বিক্রেতা আকম আলী জানান, এ বছর তিনি ৩৫টি গরু এনেছেন। এখন পর্যন্ত ১২টি বিক্রি করেছেন। ‘বড় গরুর বিক্রি নিয়ে শঙ্কা রয়েছে। কোরবানির আগের দিন গরু অবিক্রিত থাকলে তা হবে বড় ধরনের ক্ষতির কারণ।’ময়মনসিংহ থেকে আসা খামারি নাসিরুদ্দিন বলেন, ‘ঋণ করে গরু প্রতিপালন করেছি। আজ দুপুরের পর দুটি গরু বিক্রি করেছি, এতে প্রায় ৩০ হাজার টাকা লাভ হয়েছে।’নগরীর স্থায়ী পশুর হাট সাগরিকা ও বিবিরহাট পরিদর্শনে দেখা গেছে, কয়েকদিনের বৃষ্টির কারণে মাঠজুড়ে কাদা জমে গেছে। ক্রেতাদের কাদায় ভিজে গরু দেখতে হচ্ছে। এরপরও পছন্দসই গরু পেলে দরদাম করে অনেকে বাড়ি ফিরছেন।বেসরকারি মাহবুব চৌধুরী বলেন, ‘আমাদের পরিবার ছোট, তাই ছোট গরু কিনতে এসেছি। তবে যেসব গরুর দাম গত বছর ছিল ৮০-৮৫ হাজার টাকা, সেগুলো এখন ১ লক্ষ টাকার উপরে বিক্রি হচ্ছে।’বিক্রেতারা বলছেন, ছোট ও মাঝারি গরুর সরবরাহ কম হওয়ায় দাম তুলনামূলক বেশি। বাঁশখালীর বিক্রেতা ইনছাপ মিয়া জানান, ‘বাজারে বড় গরুর প্রতি আগ্রহ নেই বললেই চলে। ছোট ও মাঝারি গরুর চাহিদা বেশি। তাই দামও কিছুটা বেশি রাখা হচ্ছে।’অন্যদিকে কর্ণফুলী (নূর নগর হাউজিং) পশুর হাটে গিয়ে দেখা যায়, প্রায় এক কিলোমিটার এলাকা জুড়ে বাজার হলেও সেখানে ক্রেতার উপস্থিতি খুবই কম। খামারি দিদারুল হক বলেন, ‘নিজের খামারের ২২টি গরু এনেছি, এখন পর্যন্ত বিক্রি হয়েছে ৭টি। ক্রেতারা যেসব দাম বলছেন, তাতে গরু বিক্রি করা সম্ভব নয়।’সল্টগোলা রেলক্রসিং সংলগ্ন পশুর হাটেও একই পরিস্থিতি। প্রত্যাশামতো বিক্রি হচ্ছে না বলে জানিয়েছেন বিক্রেতারা। তবে পোস্তারপাড় ছাগলের বাজারে দেখা গেছে বিপরীত চিত্র। সেখানে ছাগলের বেচাবিক্রি বেড়েছে। বিক্রেতা নাজিমউদ্দীন বলেন, ‘বৃষ্টির কারণে গত কয়েকদিন তেমন বিক্রি হয়নি। আজকে বিক্রি অনেক বেড়েছে।’চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন (চসিক) সূত্রে জানা গেছে, এ বছর নগরীতে তিনটি স্থায়ী হাটের পাশাপাশি ১০টি অস্থায়ী পশুর হাট বসেছে। স্থায়ী হাটগুলো হলো, সাগরিকা পশুর বাজার, বিবিরহাট গরুর হাট এবং পোস্তারপাড় ছাগলের বাজার। অস্থায়ী হাটগুলো বসেছে, কর্ণফুলী পশুর বাজার (নূর নগর হাউজিং এস্টেট), পূর্ব হোসেন আহম্মদ পাড়া (পতেঙ্গা), সাইলো রোডের পাশে, সিডিএ বালুর মাঠ, দক্ষিণ হালিশহর, মুনিরনগর আনন্দ বাজার সংলগ্ন রিং রোডের পাশে, গলাচিপাপাড়া বারানিঘাটা মাঠ, উত্তর হালিশহর, চরপাড়া আলমগীর সাহেবের মাঠ, বাটারফ্লাই পার্ক উত্তরের চেয়ারম্যান মাঠ, বড়পোল খালপাড়, সল্টগোলা রেলক্রসিং সংলগ্ন খালি মাঠ এবং ধুমপাড়া সাগরপাড় লিংক রোডসংলগ্ন রেজাউল আমিন মাঠ।সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, আজ এবং আগামীকাল ঈদের এই দুই দিনে ক্রেতার সংখ্যা আরও বাড়বে। তবে বিক্রেতারা মনে করছেন, চাহিদার তুলনায় বড় গরুর বিক্রি কম থাকায় তাদের লোকসানের আশঙ্কা রয়েছে। অন্যদিকে, ক্রেতারা প্রত্যাশা করছেন শেষ মুহূর্তে কিছুটা দাম কমতে পারে।এসআর
Source: সময়ের কন্ঠস্বর
