শেষ কবে মমতাকে ভোটের দিন এত সকালে রাস্তায় দেখেছে তা হয়তো কেউ মনে করতে পারবেন না। ভোট-প্রবীণেরা বলছেন, ১৯৮৯ সালে। যখন তিনি যাদবপুর লোকসভা কেন্দ্রে দ্বিতীয়বার লড়েছিলেন। অনেকে আবার বলছেন তারও আগে ১৯৮৪ সালে, যখন ভোট ময়দানে আনকোরা এক মেয়ে প্রথমবার লড়তে নেমেছিলেন লব্ধপ্রতিষ্ঠ রাজনীতিক সোমনাথ চট্টোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে। এবার সেই মমতাকে গত দেড় দশক পর ভোটের দিন সকাল থেকে দেখা গেল। ভোটগ্রহণ শুরুর এক ঘণ্টা কাটতে না কাটতেই পৌঁছে গেলেন চেতলায়। বুথে বুথে ঘুরলেন। এমনকি দিনের শেষে কালীঘাটে গেলেন পুজো দেওয়ার জন্যও। এর আগে, গত প্রায় দেড় দশক ধরে ভোটের (বিধানসভা হোক বা লোকসভা) দিন মমতার রুটিন বদলায়নি। তিনি সারাদিন বাড়িতেই থাকেন তিনি। দলীয় স্তরে ফোন করে খবর নিতেন কোথায় কেমন ভোট হচ্ছে। বিকালের দিকে যেতেন মিত্র ইনস্টিটিউশনের বুথে ভোট দিতে। সেখান থেকে হয় তিনি বাড়ি ফিরে আসতেন বা কোথাও গোলমাল হচ্ছে খবর পেলে সেখানে যেতেন। এদিকে আজ বিকালে ভোট দিতে গিয়ে আত্মবিশ্বাসী মমতা জানিয়ে দিয়েছেন, তাঁরা দুই-তৃতীয়াংশ গরিষ্ঠতা নিয়ে ক্ষমতায় ফিরছেন। দু’আঙুল তুলে ‘ভি’ অর্থাৎ ‘ভিক্ট্রি’ চিহ্নও দেখান তিনি। এসময় তিনি যে এখনও ‘চেয়ারে’ আছেন, সেটাও স্মরণ করিয়ে দেন। তবে অনেকের মতে, সকাল সকাল বাড়ি থেকে বেরিয়ে পড়া তাঁর নির্বাচনী কৌশলেরই অংশ। এর মধ্য দিয়ে দলের নীচুতলার কর্মীদের ভোটের সকাল থেকে চাঙ্গা করে দিলেন নেত্রী। ভবানীপুরে এ বারের নির্বাচন গত নির্বাচনগুলির চেয়ে আলাদা। মুখ্যমন্ত্রী মমতার বিরুদ্ধে ভোট ময়দানে নেমেছেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু। পাঁচ বছর আগে নন্দীগ্রামে যে দ্বৈরথ শুরু হয়েছিল, এ বার ভবানীপুর তার দ্বিতীয় পর্ব বলেও অনেকের বক্তব্য। ফলে ভবানীপুর নিয়ে রাজ্য তো বটেই, গোটা দেশেরও কৌতূহল রয়েছে। প্রসঙ্গত, এসআইআর পর্বে ভবানীপুরের ভোটার তালিকা থেকে ৫০ হাজারেরও বেশি নাম বাদ গিয়েছে। ভোট দেওয়ার পরে কালীঘাট মন্দিরে পুজো দিতে গিয়েছিলেন মমতা। ঘটনাচক্রে, এই প্রথম বার! ভোটের দিন এর আগে তাঁকে কখনও কালীঘাটে পুজো দিতে দেখা যায়নি। যেমন গত সাড়ে তিন দশকে তাঁকে দেখা যায়নি সকালেই ভোটের ময়দানে বেরিয়ে পড়তে।এবি
Source: সময়ের কন্ঠস্বর
