দেশের সর্ববৃহৎ বেনাপোল স্থলবন্দরে অব্যবস্থাপনা, পর্যাপ্ত ক্রেণ ফর্কলিফট, স্বার্থবিরোধী কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদে পণ্য পরিবহন বন্ধ রেখে বিক্ষোভ করেছেন স্থানীয় ট্রান্সপোর্ট মালিক সমিতি ও ট্রান্সপোর্ট কর্মচারি ইউনিয়নের সদস্যরাা।এ ঘটনায় প্রায় ৪ ঘন্টা বেনাপোল বন্দর থেকে কোন মালামাল ট্রাকে লোড হয়নি। এ সময় তারা বাংলাদেশ স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান ও পরিচালকের পদত্যাগও দাবি করেন। আগামী দুই মাসের মধ্যে টেন্ডারের মাধ্যমে নতুন ইকুপমেন্ট কোম্পানীর কাছে দায়িত্ব দেওয়া হবে এমন আশ্বাসে বেলা ২টা থেকে পুনরায় মালামাল লোড শুরু করা হয়।মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) আজ বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ট্রান্সপোর্ট ব্যবসায়ীরা মিছিল নিয়ে বেনাপোল চেকপোস্ট আন্তর্জাতিক প্যাসেঞ্জার টার্মিনালে অবস্থিত স্থলবন্দরের প্রশাসনিক ভবনের নীচে আয়োজিত এক বিক্ষোভ সমাবেশে তারা নানা শ্লোগান দেন ও বক্তব্য রাখেন।বিক্ষোভ সমাবেশে বেনাপোল ট্রান্সপোর্ট মালিক সমিতির সভাপতি এ কে এম আতিকুজ্জামান সনি অভিযোগ করে বলেন, বন্দর কর্তৃপক্ষের খামখেয়ালিপনা ও বৈষম্যমূলক সিদ্ধান্তের কারণে দীর্ঘদিন ধরে ব্যবসায়ীরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। বন্দর কর্তৃপক্ষ আমাদের কাজ থেকে বিরত থাকতে বাধ্য করছে। স্থলবন্দরের চেয়ারম্যান বার বার কথা দিয়ে কথা রাখে না। আমরা তিনদিন ধরে ক্রেণ ও ফর্কলিফটের কোন মাল লোড দিতে পারছি না। প্রতিদিন ট্রাকের ক্ষতিপূরণ দিতে হচ্ছে। ক্রেণ ফর্কলিফট পোর্টে না আসা পর্যন্ত আমরা ট্রাকে কোন মাল লোড করবো না।তিনি বলেন, ট্রান্সপোর্ট মালিক সমিতির নেতৃবৃন্দের সাথে বেনাপোল বন্দরের পরিচালকের সাথে মিটিং করেছি। তারা বলছে এই মুহুর্তে তাদের পক্ষে কোন ক্রেণ ফর্কলিফট দেয়া সম্ভব না। সে কারণে যতক্ষণ পর্যন্ত ক্রেণ ফর্কলিফট বেনাপোল বন্দরে না আসা পর্যন্ত ম্যানুয়ালের কাজও আমরা করবো এটা আমাদের সমিতির সিদ্ধান্ত।অন্যান্য নেতৃবৃন্দরা বলেন, বেনাপোলবাসীর ধৈর্য্যের বাধ ভেঙ্গে গেছে। দীর্ঘদিন ধরে বন্দর কর্তৃপক্ষ আমাদের সাথে প্রতারনা করছেন। বার বার টেন্ডারের কথা বলে বন্দরের চেয়ারম্যান কালক্ষেপন করছেন। তেলের দাম বৃদ্ধির অজুহাতে তিনিই নতুন কোন সংস্থাকে টেন্ডার দিচ্ছেন না। বন্দরের অব্যস্থাপনার জন্য আমরা চেয়ারম্যানের পদত্যাগ দাবি করছি। তিনি বারবার টেন্ডারের দোহাই দিচ্ছেন, কিন্তু তেলের দাম বাড়লে টেন্ডারের মূল্যও তো বাড়ার কথা। আমরা আমদানিকারক ও সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টরা টাকা দিয়ে কাজ করি, বিনা পয়সায় নয়।বিক্ষোভের ফলে সকাল ১১ টা থেকে বেলা ২টা পর্যন্ত বেনাপোল বন্দর থেকে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে পণ্য পরিবহন সাময়িকভাবে বিঘ্নিত হয়। পরে স্থানীয় নেতৃবৃন্দের সাথে বন্দর কর্তৃপক্ষের সাথে আগামী দুই মাসের মধ্যে ক্রেণ, ফর্কলিফট এর সমাধান করা হবে এমন আশ্বাসে ট্রান্সপোর্ট সমিতির নেতৃবৃন্দরা বন্দর থেকে ট্রাকে মালামাল লোড দেয়।বেনাপোল স্থলবন্দরের পরিচালক (ট্রাফিক) শামীম হোসেন জানান, বিষয়টি স্থলবন্দরের প্রধান কার্যালয় ঢাকায় জানানো হয়েছে। পরে ট্রান্সপোর্ট মালিক সমিতির নেতৃবৃন্দের সাথে ফলপ্রশু আলোচনা হয়েছে। আগামী দুই মাসের মধ্যে ক্রেণ, ফর্কলিফট এর সমস্যার সমাধান করা হবে এই আশ্বাস দেওয়ার পর তারা বন্দর থেকে মালামাল লোড শুরু করেছে। এসআর
Source: সময়ের কন্ঠস্বর
