ভারতের পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচনের কারণে বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে তিন দিন পাসপোর্টধারী যাত্রী চলাচল সীমিত করেছে ভারতের পেট্রাপোল ইমিগ্রেশন।জরুরি চিকিৎসার জন্য শুধু অ্যাম্বুলেন্সে বহনকারী মুমূর্ষ রোগী ভারতে যেতে পারবেন। এ জন্য সোমবার (২৭ এপ্রিল) সকাল থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত আনুমানিক চারশ‘ পাসপোর্ট যাত্রী ভারতে যেতে না পেরে ফিরে গেছেন।জানা গেছে, বুধবার (২৯ এপ্রিল) পশ্চিমবঙ্গের উত্তর ২৪ পরগণার বিভিন্ন কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। এ উপলক্ষে জেলা প্রশাসনের নির্দেশনায় ২৬ এপ্রিল সন্ধ্যা ৬টা থেকে ভোটগ্রহণ শেষ না হওয়া পর্যন্ত ৩০ এপ্রিল ভোর ৬টা পর্যন্ত সীমান্ত দিয়ে সব ধরনের পাসপোর্টযাত্রী পারাপার বন্ধ থাকবে। এই সময়ে মানুষ ও যানবাহনের চলাচল কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হবে। ফলে বেনাপোলসহ সংশ্লিষ্ট সীমান্ত দিয়ে পাসপোর্টধারী যাত্রীদের যাতায়াত সাময়িকভাবে বন্ধ থাকবে। তবে জরুরি চিকিৎসা, ভারতীয় ভোটারদের ভোটদানের উদ্দেশ্যে যাতায়াত এবং পচনশীল পণ্যবাহী যানবাহনের ক্ষেত্রে কিছু ছাড় রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।এদিকে হঠাৎ করে পাসপোর্টযাত্রী যাতায়াতে ভারতীয় নির্বাচন কমিশনার নিষেধাজ্ঞা দেয়ায় বিপাকে পড়েছে শত শত বাংলাদেশি পাসপোর্টযাত্রীরা। দুই পারে কয়েকশ‘ যাত্রী আটকা পড়ে আছে। তারা সীমান্ত সংলগ্ন এলাকার বিভিন্ন হোটেলে আশ্রয় নিয়েছে। নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের পর তারা দুই দেশের মধ্যে যাতায়াত করবে বলে জানা গেছে।অন্যদিকে, সীমান্ত বন্ধের ঘোষণায় যাত্রী ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। ব্যবসায়ীরা বলছেন, এতে আমদানি-রফতানি কার্যক্রমে সাময়িক প্রভাব পড়তে পারে এবং রপ্তানিমূখী প্রতিষ্ঠানের জরুরি পণ্য না আসায় অনেক শিল্প প্রতিষ্ঠানে পণ্য উৎপাদন ব্যাহত হতে পারে। এসব পণ্য দিনে দিনে এসে ছাড় হয়ে গন্তব্যে চলে যায়।ভারতে যাওয়ার জন্য খুলনা থেকে আসা মনোয়ারা খাতুন বলেন, ভারতে তিনদিন বন্ধ থাকায় বেনাপোল ইমিগ্রেশন পুলিশ থেকে ফেরত দিয়েছে। ৩০ এপ্রিল সকালে আসার কথা বলেছেন । সে কারণে বাসায় ফিরে যাচ্ছি।মনোয়ারা খাতুনের মত ঢাকার ঢাকার তাতী বাজারের গোবিন্দ লাল সাহা, সূত্রাপুরের অনিমেষ চক্রবর্তী, স্ত্রী কমলা চক্রবর্তী, বাগেরহাটের অনিতা ঘোষ, ঢাকার ধানমন্ডির শাহা জালাল, গাজিপুরের আশরাফ হোসেন, যশোরের জাইদুল ইসলাম, পাবনার খলিলুর রহমান জানান, আমরা ভিসা নিয়ে ভারত যাওয়ার জন্য সকালে বেনাপোল চেকপোস্টে এসে জানতে পারি ভারতে নির্বাচনের কারনে তিন দিন যাতায়াত বন্ধ। আগে থেকে জানতে পারলে আমাদের ভোগান্তি অনেকটা কম হতো। এদের মধ্যে অনেকে বাড়ি ফিরে গেছেন। অনেকে যশোরে আত্মীয়ের বাড়ি থাকবেন বলে জানান। ২/৩ জন বেনাপোলের আবাসিক হোটেলে অবস্থান নিয়েছে। যাত্রী চলাচল শুরু হলে তারা আবার ভারতে যাবেন বলে জানান। বন্ধের বিষয়টি আগে জানালে তাদের এতো হয়রানি হতে হতো না।বেনাপোল ইমিগ্রেশন পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এস এম সাখাওয়াত হোসেন জানান, বিশেষ অনুমোদন সাপেক্ষে জরুরি ক্ষেত্রে সীমিত পরিসরে পাসপোর্টযাত্রী পারাপারের সুযোগ রাখা হতে পারে। ভারতীয় কর্তৃপক্ষ সবাইকে অপ্রয়োজনীয় ভ্রমণ থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছে। অ্যাম্বুলেন্সে বহনকারী মুমূর্ষ রোগী যাতায়াতে কোনও বাধা নেই। দেশের অধিকাংশ পাসপোর্টধারী যাত্রীরা এ নিষেধাজ্ঞা না জানা থাকায় কিছুটা সমস্যায় পড়েছেন। সোমবার সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত আনুমানিক চারশ’ যাত্রী ভারতে যেতে পারেননি।তিনি আরো জানান, ইমিগ্রেশনে আসা যাত্রীদের আগামী বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) সকালে আসার জন্য বলা হয়েছে। ওইদিন সকাল ৭টা থেকে যাত্রী চলাচল স্বাভাবিক থাকবে।ইখা
Source: সময়ের কন্ঠস্বর
