কিশোরগঞ্জের তাড়াইল উপজেলায় এক স্কুলছাত্রীর মৃত্যুর চার মাস পর আদালতের নির্দেশে কবর থেকে মরদেহ উত্তোলন করা হয়েছে। সোমবার (২৭ এপ্রিল) সকালে উপজেলার তেউরিয়া গ্রামে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে এই কার্যক্রম সম্পন্ন হয়।নবম শ্রেণির ছাত্রী মোছা. ছনিয়া আক্তারের (১৫) এই মৃত্যুকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ও উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে।জানা যায়, গত বছরের ৩১ ডিসেম্বর নিজ বাড়ি থেকে ছনিয়া আক্তারের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। প্রাথমিকভাবে বিষয়টি আত্মহত্যা বলে মনে করা হলেও পরিবারের পক্ষ থেকে শুরু থেকেই এটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড বলে দাবি করা হচ্ছিল।নিহত ছনিয়া উপজেলার তেউরিয়া গ্রামের বাসিন্দা তারু খানের মেয়ে। নিহতের বাবা তারু খান মেয়ের মৃত্যুকে রহস্যজনক দাবি করে গত ১৭ ফেব্রুয়ারি আদালতের দ্বারস্থ হন। তিনি আদালতে সাতজনের নাম উল্লেখ করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলার এজাহারে তিনি উল্লেখ করেন, তার মেয়ে আত্মহত্যা করেনি, বরং অভিযুক্তরা পরিকল্পিতভাবে তাকে হত্যা করে মরদেহ ঝুলিয়ে রেখেছিল। আদালতের নির্দেশে আজ সোমবার সকাল ১১টায় তেউরিয়া গ্রামের পারিবারিক কবরস্থান থেকে ছনিয়ার মরদেহ উত্তোলন করা হয়। এ সময় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তানজিলা আখতার উপস্থিত ছিলেন। নিহতের স্বজন ও এলাকাবাসীর উপস্থিতিতে মরদেহ উত্তোলনের পর ময়নাতদন্তের জন্য কিশোরগঞ্জ আধুনিক সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।নিহতের বাবা তারু খান কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “আমার মেয়েকে ওরা বাঁচতে দিল না। আমি নিশ্চিত তাকে হত্যা করা হয়েছে। আজ চার মাস পর মরদেহ তোলা হলো, আমি প্রশাসনের কাছে সুষ্ঠু তদন্ত ও খুনিদের ফাঁসি চাই।”তাড়াইল থানার ওসি (তদন্ত) শেখর রঞ্জন পাল বলেন, মামলাটি বর্তমানে অধিকতর তদন্তাধীন রয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে। তিনি আরও বলেন, আসামিদের বিরুদ্ধে এখনো আদালত থেকে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা না আসায় কাউকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি। অভিযুক্তরা বর্তমানে আত্মগোপনে রয়েছেন। তবে পুলিশ তাদের অবস্থান শনাক্ত করার চেষ্টা করছে এবং তদন্ত শেষে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।মরদেহ উত্তোলনের খবর ছড়িয়ে পড়লে শত শত গ্রামবাসী কবরস্থানে ভিড় জমান। এলাকায় অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছিল।ইখা
Source: সময়ের কন্ঠস্বর
