রাজধানীর উত্তরায় গৃহকর্মী সেজে বাসায় ঢুকে চেতনানাশক খাইয়ে সর্বস্ব লুটে নেওয়ার চক্রের এক সক্রিয় সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। ভিন্ন ভিন্ন নাম ব্যবহার করে পরিবারগুলোর বিশ্বাস অর্জন করে দুর্ধর্ষ চুরি করাই ছিল তার প্রধান কৌশল। সম্প্রতি উত্তরায় এক বৃদ্ধাকে অতিরিক্ত চেতনানাশক খাইয়ে হত্যার ঘটনা তদন্ত করতে গিয়ে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে আসে।সোমবার (২৭ এপ্রিল) দুপুরে পিবিআই ঢাকা মেট্রো (উত্তর) কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান অতিরিক্ত ডিআইজি মো. এনায়েত হোসেন মান্নান।পিবিআই জানায়, গ্রেপ্তারকৃত নারী কখনও বিলকিস, কখনও রিনা আবার কখনও শিউলি এমন সব ছদ্মনাম ব্যবহার করে বাসাবাড়িতে কাজ নিত। কাজে যোগ দেওয়ার অল্প দিনের মধ্যেই পরিবারের সদস্যদের আস্থা অর্জন করত সে। সুযোগ বুঝে খাবারের সঙ্গে উচ্চমাত্রার চেতনানাশক ওষুধ মিশিয়ে পরিবারের সবাইকে অচেতন করে ফেলত। এরপর আলমারি ভেঙে নগদ টাকা ও স্বর্ণালংকার নিয়ে চম্পট দিত।তদন্ত সংশ্লিষ্টরা জানান, উত্তরার একটি বাসায় কাজ নেওয়ার পর একইভাবে চেতনানাশক প্রয়োগ করে ওই নারী। তবে ওষুধের মাত্রা অতিরিক্ত হওয়ায় ওই বাসার এক বৃদ্ধার মৃত্যু হয়। এই ঘটনায় মামলা দায়েরের পর পিবিআই প্রযুক্তির সহায়তায় গাজীপুর থেকে অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সে ঢাকা ও আশেপাশের এলাকায় আরও ৭ থেকে ৮টি একই ধরণের চুরির ঘটনা ঘটিয়েছে বলে স্বীকার করেছে।সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, গ্রেপ্তারকৃত বিলকিসের কোনো জাতীয় পরিচয়পত্র (NID) ছিল না। ভুয়া নাম ব্যবহারের কারণে তাকে শনাক্ত করাও ছিল কঠিন। সে চুরির কাজগুলো একাই সম্পন্ন করত এবং চোরাই স্বর্ণালংকার বিক্রির জন্য ভিন্ন ভিন্ন মাধ্যম ব্যবহার করত।গৃহকর্মী নিয়োগের ক্ষেত্রে নাগরিকদের সতর্ক হওয়ার আহ্বান জানিয়ে অতিরিক্ত ডিআইজি মো. এনায়েত হোসেন মান্নান বলেন, বাসায় নতুন কাউকে নিয়োগ দেওয়ার আগে অবশ্যই তার জাতীয় পরিচয়পত্র যাচাই করতে হবে। প্রয়োজনে নিকটস্থ থানায় তথ্য দিয়ে রাখা এবং নিয়োগদাতার অধিকতর সচেতন হওয়া জরুরি।বর্তমানে গ্রেপ্তারকৃত আসামিকে সংশ্লিষ্ট মামলায় আদালতে পাঠিয়ে রিমান্ডের আবেদন জানানো হয়েছে বলে জানিয়েছে পিবিআই।এসআর
Source: সময়ের কন্ঠস্বর
