রংপুরে মিঠাপুকুর উপজেলার পায়রাবন্দ বেগম রোকেয়া স্মৃতি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে পরীক্ষা দিচ্ছেন ২৮ জন তৃতীয় লিঙ্গের এসএসসি পরীক্ষার্থী। বিষয়টি এক নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপনসহ অন্তর্ভুক্তিমূলক শিক্ষার ক্ষেত্রে এটি একটি উল্লেখযোগ্য মাইলফলক হিসেবে দেখছে সচেতন মহল। শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) সকাল ৯টায় বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে শুরু হওয়া এসএসসি পরীক্ষায় পায়রাবন্দ বেগম রোকেয়া স্মৃতি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে অংশ নেন তারা।পরীক্ষার্থী আনোয়ারা ইসলাম রানী বলেন, এটি শুধু একটি পরীক্ষা নয়, আমাদের অস্তিত্বের স্বীকৃতি। আমরা দীর্ঘদিন অবহেলার শিকার হয়েছি। এখন সুযোগ পেয়েছি এটাই আমাদের বড় শক্তি। আমরা পড়াশোনা করে নিজের পায়ে দাঁড়াতে ও এবং সম্মানের সঙ্গে বাঁচতে চাই।তৃতীয় লিঙ্গের মানুষ দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষা ও সামাজিক ক্ষেত্রে বৈষম্যের শিকার হয়ে আসছেন। সাম্প্রতিক সময়ে সরকারি-বেসরকারি উদ্যোগে তাদের শিক্ষায় অন্তর্ভুক্তির পথ প্রসারিত হয়েছে।পরীক্ষায় অংশ নিয়ে শিক্ষার্থীরা জানান, নানা প্রতিকূলতা অতিক্রম করে এই পর্যায়ে পৌঁছানো তাদের জন্য গর্বের বিষয়। শিক্ষা অর্জনের মাধ্যমে সমাজে নিজেদের অবস্থান গড়ার প্রত্যাশা । সরকারের দেওয়া সুযোগ কাজে লাগিয়ে তারা পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছেন এবং ভালো ফলাফলের আশা তাদের।রংপুরের সুশাসনের জন্য নাগরিক-সুজনের রংপুর জেলা সভাপতি অধ্যক্ষ খন্দকার ফখরুল আনাম বেঞ্জু জানান, শিক্ষা সবার মৌলিক অধিকার-এই বাস্তবতাকে সামনে এনে নতুন ইতিহাস গড়েছে রংপুরের তৃতীয় লিঙ্গের শিক্ষার্থী। তাদের অদম্য প্রচেষ্টা, সাহস, মনোবল এবং পারিপার্শ্বিক পরিস্থিতি মোকাবিলা করে এগিয়ে যাওয়ার যে আকাঙ্ক্ষা ও অন্যদের জন্য অনুপ্রেরণা ।রংপুর বিভাগের উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের আঞ্চলিক ৯টি কেন্দ্রে মোট এক হাজার ১৩২ জন পরীক্ষার্থী অংশ নিচ্ছেন। তাদের মধ্যে ২৮ জন তৃতীয় লিঙ্গের শিক্ষার্থী মিঠাপুকুর উপজেলার পায়রাবন্দ বেগম রোকেয়া স্মৃতি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে পরীক্ষা দিচ্ছেন। এই কেন্দ্রে মোট পরীক্ষার্থী ১৫৯ জন। উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের স্কুলভিত্তিক এসএসসি প্রোগ্রামে ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষ থেকে তৃতীয় লিঙ্গের শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষ সুবিধা চালু করা হয়েছে। তাদের কোর্স ফি’র ৬০ শতাংশ মওকুফ করা হয়েছে।রংপুরের মিঠাপুকুরের পায়রাবন্দ বেগম রোকেয়া স্মৃতি গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজের প্রধান শিক্ষক মো. মাহেদুল আলম জানান, একসঙ্গে ২৮ জন তৃতীয় লিঙ্গের শিক্ষার্থীর অংশগ্রহণ ব্যতিক্রমী ঘটনা। তাদের জন্য স্বাচ্ছন্দ্যপূর্ণ পরিবেশ নিশ্চিত করেছি তারা কোনো ধরনের সংকোচন ছাড়াই পরীক্ষা দিতে পারেন।রংপুরে উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের আঞ্চলিক পরিচালক আবু হাফিজ মো. ফজলে নিজামি জানান, তৃতীয় লিঙ্গের শিক্ষার্থীরা যাতে কোনো বৈষম্যের শিকার না হয় সে জন্য পরীক্ষা কেন্দ্রে সহায়ক পরিবেশ তৈরি করা হয়েছে।উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. মোহাম্মদ ছিদ্দিকুর রহমান খান বলেন, শিক্ষা সবার মৌলিক অধিকার। লিঙ্গ পরিচয়ের কারণে কেউ যেন শিক্ষা থেকে বঞ্চিত না হয় সেটিই আমাদের লক্ষ্য।এনআই
Source: সময়ের কন্ঠস্বর
