গ্রামীণ ঐতিহ্যবাহী খেলাধুলা ও লোকসংস্কৃতি সংরক্ষণে সরকার উদ্যোগ নিয়েছে। অপসংস্কৃতির হাত থেকে সমাজকে রক্ষা করতে হলে ঐতিহ্যবাহী আয়োজন ধরে রাখতে হবে। শুক্রবার বিকেল ৩টায় লালমনিরহাট সদরে বড়বাড়ী শহীদ আবুল কাশেম মহাবিদ্যালয় মাঠে বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩ উপলক্ষে আয়োজিত দুই দিনব্যাপী বৈশাখী মেলা ও উৎসবের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।মন্ত্রী বলেন ঐতিহ্যবাহী খেলাধুলা ও লোকসংস্কৃতি সংরক্ষণে সরকার উদ্যোগ নিয়েছে। একসময় জনপ্রিয় গ্রামীণ খেলা যেমন চেঙ্গুপেন্টি, দাড়িয়াবান্ধা, ঠুস ও চকোর চাল, ঘোডা দৌড়, এখন হারিয়ে যেতে বসেছে। একইভাবে পালা গান, গ্রামীন গীতগান, লোকসংগীতও বিলুপ্তির পথে। গ্রামবাংলার হারিয়ে যাওয়া লোকজ সংস্কৃতিকে নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে হবে।মেলা ঘুরে দেখা গেছে, আয়োজিত এই উৎসবের প্রধান আকর্ষণ ছিল ঐতিহ্যবাহী গ্রামীন খেলাধুলা ও ঘোড়দৌড় প্রতিযোগিতা। উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন জেলা থেকে আসা প্রায় শতাধিক সওয়ারি এই প্রতিযোগিতায় অংশ নেন। তবে গ্যালারিতে বসা লক্ষাধিক মানুষের আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল নওগাঁর আলোচিত সেই বিস্ময় বালিকা হালিমা বেগম। গতবারের চ্যাম্পিয়ন এই খুদে সওয়ারি হালিমা এবারও তার নৈপুণ্য দেখিয়ে দর্শকদের মুগ্ধ করে।মূল অনুষ্ঠানের আগে মাঠজুড়ে চলে গ্রামীণ ঐতিহ্যের হারিয়ে যাওয়া সব খেলাধুলার উৎসব। এর মধ্যে উটকুন দিয়ে দড়ি পাকানো, চকর চাল, মেয়েদের কিতকিত, ধীরগতির দড়ি খেলা, ঘুড়ি ওড়ানো, বাটুল ছোড়া, গোচা খেলা এবং চেংকু পেন্টিসহ নানা বৈচিত্র্যময় আয়োজন উৎসব প্রাঙ্গণকে মুখর করে তোলে। স্থানীয় প্রবীণরা জানান, এসব হারিয়ে যাওয়া খেলা দেখতে পেরে তারা স্মৃতিকাতর হয়ে পড়েছেন। আজ থেকে অনেক অনেক দিন আগে আমাদের বাবা দাদাদের এই সব খেলা খেলতে দেখেছি। আজ আবার সেই খেলা গুলো দেখতে পেরে বাবা, দাদাদের কথা মনে পড়ছে।উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে আসাদুল হাবিব দুলু বলেন, আমাদের শিকড় হচ্ছে এই গ্রামীণ সংস্কৃতি। অপসংস্কৃতির হাত থেকে সমাজকে রক্ষা করতে হলে ঐতিহ্যবাহী এসব আয়োজন পাড়ায় পাড়ায় ছড়িয়ে দিতে হবে।উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন মন্ত্রীর সহধর্মিণী লায়লা হাবিব, লালমনিরহাট জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান একেএম মমিনুল হক, জেলা প্রশাসক মু. রাশেদুল হক প্রধান, পুলিশ সুপার আসাদুজ্জামান এবং তাদের সহধর্মিণীগণ। এ ছাড়াও বিএনপি ও এর অঙ্গ সহযোগী সংগঠনের জেলা পর্যায়ের শীর্ষ নেতারা অনুষ্ঠানে অংশ নেন।উৎসবের প্রথম দিনের সমাপ্তি ঘটে এক মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে, যেখানে জনপ্রিয় লোকসংগীত শিল্পী লায়লা তার কণ্ঠে লোকজ গান পরিবেশন করেন।এফএস
Source: সময়ের কন্ঠস্বর
