যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সম্ভাব্য আলোচনার প্রস্তুতির অংশ হিসেবে পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। ফলে ইসলামাবাদে টানা ৬ দিন ধরে সড়ক বন্ধ। এতে শহরের পণ্য সরবরাহ ব্যবস্থা, নিত্যপণ্যের বাজার এবং বিচারিক কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়ে জনজীবনে দেখা দিয়েছে ক্রমাগত চাপ বাড়ছে। বিবিসির প্রতিবেদনে দেশটির এমন পরিস্থিতি উঠে আসে। সেখানে বলা হয়েছে, সড়ক বন্ধ থাকায় ভারী যানবাহন শহরে প্রবেশ করতে পারছে না। তাজা সবজি ও ফলের সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে। ফলে বাজারে দামও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে গেছে। ফল-সবজি ব্যবসায়ী সংগঠনের সভাপতি আগা সিরাজ জানিয়েছেন, অনুমতির অপেক্ষায় পণ্য নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।এদিকে জ্বালানি সরবরাহেও বিঘ্ন ঘটেছে। কিছু পেট্রোল পাম্পে তেল ফুরিয়ে যাওয়ার খবরের পর কর্তৃপক্ষ জানায়, সরবরাহ আংশিকভাবে চালু করা হয়েছে। দুধসহ নিত্যপণ্যের সরবরাহও প্রভাবিত হয়েছে।সড়ক অবরোধের কারণে আইনজীবীরা আদালতে পৌঁছাতে না পারায় ইসলামাবাদ হাইকোর্টে বহু মামলার শুনানি স্থগিত করা হয়েছে।সব মিলিয়ে, যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনার প্রস্তুতির মধ্যে ইসলামাবাদকে দীর্ঘ সময় ধরে উচ্চ সতর্ক অবস্থায় রাখা কতটা টেকসই—এ নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।অবরোধ কবে তা খুলে দেওয়া হবে সে বিষয়ে এখনো কোনো স্পষ্ট ঘোষণা নেই। কারণ এখনো কোনো পক্ষই দ্বিতীয় দফা আলোচনায় চূড়ান্তভাবে সম্মত হয়নি। এদিকে আঞ্চলিক পরিস্থিতি ও চলমান যুদ্ধবিরতি নিয়ে পাকিস্তানের শীর্ষ নেতৃত্ব এবং ইরাকের কুর্দি অঞ্চলের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে পৃথক ফোনালাপে আলোচনা করেছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি।ইরানের আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা তাসনিমের বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে কাতারভিত্তিক সংবাদ মাধ্যম আলজাজিরা।তাসনিম জানায়, পাকিস্তানের উপপ্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার এবং পাকিস্তান সেনাবাহিনীর প্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরের সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। আলোচনায় ‘আঞ্চলিক পরিস্থিতি এবং যুদ্ধবিরতি-সংক্রান্ত বিষয়গুলো’ উঠে এসেছে।তাসনিম আরো জানায়, পৃথক একটি ফোনালাপে আরাগচি ইরাকের স্বায়ত্তশাসিত কুর্দি অঞ্চলের প্রেসিডেন্ট নেচিরভান বারজানির সঙ্গেও আঞ্চলিক পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলেছেন।এইচএ
Source: সময়ের কন্ঠস্বর
