যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (যবিপ্রবি) বীর প্রতীক তারামন বিবি ছাত্রী হলের খাবার খেয়ে অন্তত ৮০ জন ছাত্রী অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। অসুস্থ শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের ডা. এম আর খান মেডিকেল সেন্টার থেকে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন। তবে জরুরি এই সময়ে কোনো নারী চিকিৎসককে কর্মস্থলে খুঁজে পাওয়া যায়নি বলে অভিযোগ উঠেছে।খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বুধবার (২২ এপ্রিল) রাতে হলের ডাইনিংয়ে খাবার খাওয়ার পর ভোর থেকে শিক্ষার্থীরা একে একে অসুস্থ হতে থাকেন। বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) সকাল ৯টা পর্যন্ত ৮০ জন শিক্ষার্থী মেডিকেল সেন্টার থেকে চিকিৎসা নেন। অসুস্থ শিক্ষার্থীর সংখ্যা বাড়তে থাকায় চিকিৎসা দিতে হিমশিম খান সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক ও সহকারীরা। তবে এ সময় দায়িত্বে থাকা মেডিকেল ইনচার্জ ডা. মোছা. মাসুমা নূরজাহান ও নারী আবাসিক চিকিৎসক ডা. নুসরত জামান কর্মস্থলে উপস্থিত ছিলেন না।সূত্র জানায়, বুধবার রাতে ১৬৬ জন শিক্ষার্থী হলের ডাইনিংয়ে খাবার গ্রহণ করেন। যারা ডাইনিংয়ের খাবার খেয়েছিলেন, তাদের মধ্যে ৮০ জন বমি, পাতলা পায়খানা, পেটব্যথা ও তীব্র শারীরিক দুর্বলতায় আক্রান্ত হন; এমনকি কেউ কেউ অজ্ঞান হয়ে পড়েন। শিক্ষার্থীদের দাবি, যারা ডাল খাননি, তাদের মধ্যে অসুস্থ হওয়ার প্রবণতা কম দেখা গেছে।ডাইনিংয়ের অস্বাস্থ্যকর পরিবেশের বিষয়ে ছাত্রীরা অভিযোগ করে জানান, দুপুরের রান্না করা খাবার রাতে গরম করে পরিবেশন করা হয়, যা থেকে প্রায়ই দুর্গন্ধ আসে। ডাল ও তরকারিতে মুরগির পালক, চুলসহ বিভিন্ন অস্বাস্থ্যকর উপাদান পাওয়ার ঘটনা নিয়মিত। এ ছাড়া প্লেট-বাটি অপরিষ্কার থাকা এবং ডাইনিং এলাকায় বিড়ালের উপদ্রব তো রয়েছেই।নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন শিক্ষার্থী বলেন, “বিভিন্ন শর্তের মাধ্যমে আমাদের জিম্মি করে রাখা হয়েছে। চার মাসের ফিক্সড টোকেন না কাটলে সিট বাতিলের হুমকি দেওয়া হয়। আগে টাকা পরিশোধ করলেও খাবারের মান নিয়ে অভিযোগ করলে কোনো সমাধান মেলে না। উল্টো যে অভিযোগ করে, তার ওপরই ‘মিল ম্যানেজার’-এর দায়িত্ব চাপিয়ে দেওয়া হয় এবং রুমে ডেকে নিয়ে অপমান করা হয়।”শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, খাবারের মান অত্যন্ত নিম্নমানের হওয়া সত্ত্বেও হল প্রশাসন তাদের এই খাবার খেতে বাধ্য করছে। পাশাপাশি হলে নিয়মিত পানীয় জল সরবরাহ করা হয় না বলেও তারা জানান।এনআই
Source: সময়ের কন্ঠস্বর
