ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর উপজেলায় সরকারি স্যানিটেশন প্রকল্পে ভয়াবহ অনিয়ম, দুর্নীতি ও দায়িত্বহীনতার অভিযোগ উঠেছে। “মানব সম্পদ উন্নয়নে গ্রামীণ পানি সরবরাহ, স্যানিটেশন এবং স্বাস্থ্যবিধি” প্রকল্পের আওতায় টুইন পিট ল্যাট্রিন নির্মাণে নিম্নমানের কাজ, উপকারভোগীদের কাছ থেকে অর্থ আদায় এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ না করার অভিযোগে তীব্র ক্ষোভ দেখা দিয়েছে স্থানীয়দের মধ্যে।প্রকল্প সূত্রে জানা যায়, উজানচর ইউনিয়নে হতদরিদ্র পরিবারের জন্য ২২৯টি টুইন পিট ল্যাট্রিন নির্মাণে ৮০ লাখ ৩৯ হাজার ৭৩২ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। প্রতিটি ল্যাট্রিনের ব্যয় ধরা হয় ৩৫ হাজার ১০৮ টাকা (ওয়াই জংশনসহ)। ২০২৪ সালের ২৫ জুলাই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান “মেসার্স ইসলাম এন্টারপ্রাইজ”-এর সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। চুক্তি অনুযায়ী ছয় মাসের মধ্যে কাজ শেষ করার কথা থাকলেও প্রায় দুই বছর অতিবাহিত হলেও প্রকল্পটি এখনো সম্পূর্ণ হয়নি।কার্যাদেশ অনুযায়ী সাত কর্মদিবসের মধ্যে কাজ শুরু করার বাধ্যবাধকতা থাকলেও সেটিও যথাসময়ে বাস্তবায়ন হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে।সরেজমিনে, উজানচর গ্রামে মাদ্রাসা সংলগ্ন এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, ল্যাট্রিন নির্মাণ সামগ্রী তৈরিতে নিম্নমানের ইট, সুরকি, বালু এবং রিং তৈরিতে দুর্বল মানের তার (গুনা) ব্যবহার করা হচ্ছে। নির্মাণাধীন রিং, স্ল্যাব ও পাইপের মান ও আকার সিডিউল অনুযায়ী না হওয়ায় তা দ্রুত নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে বলে স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন।স্থানীয় উপকারভোগীরা অভিযোগ করেন, ল্যাট্রিন সরবরাহের কথা বলে বিভিন্ন এলাকায় অর্থ আদায় করা হয়েছে। অনেকেই এখনো ল্যাট্রিন পাননি। এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে চরম অসন্তোষ ও ক্ষোভ বিরাজ করছে।ফরদাবাদ ইউনিয়নে ২৪৫টি ল্যাট্রিন নির্মাণের অনুমোদন থাকলেও মাত্র ১২৯টি ল্যাট্রিন নির্মাণ করেই পুরো বিল উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে। এতে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার এবং জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের উপসহকারী প্রকৌশলী আবু সিয়ামের বিরুদ্ধে গুরুতর অনিয়মের অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয়রা।বাকি কাজ বাস্তবায়নে কোনো কার্যকর উদ্যোগ না নেওয়ায় প্রকল্পটি প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়েছে।এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের “মেসার্স ইসলাম এন্টারপ্রাইজ”-এর বক্তব্য জানতে চাইলে দেওয়ান শহিদুল হক বলেন, কোথায় কোথায় অনিয়ম হচ্ছে, কি কি সমস্যা লিখে পাঠান, আমরা সমাধান করে দিবো। আমাদের লস গেলেও সমস্যা নাই।প্রকল্পের অনিয়ম ও দুর্নীতি ও ঘুষের বিষয়ে কথা বলতে গেলে উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৈাশল অধিদপ্তরের উপসহকারী প্রকৌশলী মোঃ আবু সিয়াম বলেন, কয়েকজন উপকার ভোগীর কাছ থেকে টাকা নিয়েছে আমার কাছে অভিযোগ এসেছিলো, পরে আমি ঠিকাদারকে চিঠি ইস্যু করে বিষয়টিকে সমাধান করি। নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করে কাজ হচ্ছে বলে শুনেছি। আগামীকাল সরেজমিনে যাবো, যদি খারাপ হয় বিষয়টি দেখবো।এছাড়াও ফরদাবাদ ইউনিয়নে প্রকল্পের পুরো কাজ শেষ না করে বিল উত্তোলন এবং বাকি কাজের অগ্রগতি নিয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এই বিষয়টি নিয়ে কথা বইলেন না, এটা বাদ দেন।বাঞ্ছারামপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ তারিকুল ইসলাম বলেন, বিষয়টি জেনেছি, তদন্তে অনিয়ম পাওয়া গেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।এসআর
Source: সময়ের কন্ঠস্বর
