টাঙ্গাইল-৬ (নাগরপুর-দেলদুয়ার) সংসদীয় আসনটি নাগরপুর উপজেলার ১২টি ইউনিয়ন ও দেলদুয়ার উপজেলার ৮টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত। এ আসনে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশি ২৪ জন। তারা সবাই মাঠ পর্যায়ে বিএনপির ৩১ দফা সম্বলিত লিফলেট বিতরণের পাশাপাশি গণসংযোগ করছেন। সভা-সমাবেশ ও সামাজিক অনুষ্ঠানে যোগ দিচ্ছেন। একই সঙ্গে বিএনপির হাইকমান্ডের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছেন।মনোনয়ন প্রত্যাশিদের মধ্যে তিনজন যুক্তরাজ্য প্রবাসী। অনেকেই বলছেন, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান দেশনায়ক তারেক রহমান তাদেরকে জনসম্পৃক্ততা বাড়ানোর পাশাপাশি মাঠে কাজ করার নির্দেশনা দিয়েছেন।আসনের নির্বাচনি ইতিহাস: ১৯৭৩ সালের প্রথম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ থেকে ব্যারিস্টার শওকত আলী এমপি নির্বাচিত হন। ১৯৭৯ সালে দ্বিতীয় সংসদে বিএনপি থেকে নূর মুহাম্মদ খান এমপি নির্বাচিত হন। পরবর্তী সময়ে ১৯৮৬ ও ১৯৮৮ সালে তিনি জাতীয় পার্টি থেকে টানা দুইবার জয় পান।১৯৯১ সালের পঞ্চম ও ১৯৯৬ সালের (ফেব্রুয়ারি) ষষ্ঠ সংসদ নির্বাচনে বিএনপি থেকে খন্দকার আবু তাহের এমপি নির্বাচিত হন। একই বছরের জুনে সপ্তম জাতীয় নির্বাচনে বিএনপি প্রার্থী অ্যাডভোকেট গৌতম চক্রবর্তী নির্বাচিত হন এবং ২০০১ সালের অষ্টম সংসদ নির্বাচনে দ্বিতীয়বার এমপি হন।২০০৮ সালের নবম সংসদ নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী বীর মুক্তিযোদ্ধা খন্দকার আব্দুল বাতেন বিজয়ী হন। ২০১৪ সালের দশম নির্বাচনে আওয়ামী লীগ থেকে তিনি পুনরায় নির্বাচিত হন।২০১৮ সালের একাদশ সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের আহসানুল ইসলাম টিটু এমপি নির্বাচিত হন এবং ২০২৪ সালের দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনেও তিনি টানা দ্বিতীয়বার জয়ী হন।বিএনপির পক্ষ থেকে ১৯৯৬ থেকে ২০১৮ পর্যন্ত প্রতিটি নির্বাচনে সাবেক মন্ত্রী গৌতম চক্রবর্তী প্রার্থী ছিলেন। ২০২২ সালে তাঁর মৃত্যুর পর এবার তাঁর স্ত্রী দিপালী চক্রবর্তী মনোনয়ন প্রত্যাশী। যদিও এ আসন থেকে বিএনপির আরও ২৪ প্রার্থী মনোনয়ন চাইছেন।তাঁরা হচ্ছেন- বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী নূর মুহাম্মদ খান, জেলা বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি মো. রবিউল আওয়াল লাভলু, শিল্পপতি ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সাবেক নেতা আতিকুর রহমান আতিক, জেলা বিএনপির সাবেক ভারপ্রাপ্ত সভাপতি অ্যাডভোকেট আলী ইমাম তপন, উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক ও সম্মানিত সদস্য মীর আবুল কালাম আজাদ (রতন), সাবেক যুগ্ম-আহবায়ক মো. শরিফ উদ্দিন আরজু, উপজেলা বিএনপির সহ সভাপতি এম ফিরোজ সিদ্দিকী, ঢাকা মহানগর উত্তরের জাসাসের আহবায়ক ও নাগরপুর উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি শরীফুল ইসলাম স্বপন, উপজেলা বিএনপির সদস্য অ্যাড. ইকবাল হোসেন খান, উপজেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার রেজাউল ইসলাম রেজা, কেন্দ্রীয় ছাত্রদল নেতা রাজীব আহমেদ, যুক্তরাজ্য প্রবাসী ব্যারিস্টার সাজ্জাদ হোসেন, টাঙ্গাইল জেলা জিয়া পরিষদের সহ-সভাপতি মোহাম্মদ শামীম চৌধুরী (বাবু), সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা মো. রফিকুল ইসলাম, অতিরিক্ত সচিব (অব.) ডি. এম. গোলাম ফারুক, যুক্তরাজ্য প্রবাসী সমাজসেবক মো. মাইনুল আলম খান কনক, দেলদুয়ার উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এসএম ফেরদৌস হোসেন, বিএনপি নেতা ও চিকিৎসক ডা. আনিসুর রহমান খান, মো. জুয়েল সরকার, স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক ডা. জি. এম. শফি, যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী আরিফুল হক আরিফ। এছাড়া নাগরপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা এম. এ. ছালাম এবং সাধারণ সম্পাদক হাবিবুর রহমান হবি দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশী।সরেজমিনে স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সাবেক মন্ত্রী গৌতম চক্রবর্তীর মৃত্যুর পর এ আসনে মনোনয়ন প্রত্যাশী বেড়েছে। গত বছরের ৫ আগস্ট ফ্যাসিস্ট সরকারের পতনের পর মনোনয়ন প্রত্যাশিদের মধ্যে প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছে। সবাই দলের হাইকমান্ডের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়িয়ে দিয়েছেন। ইতোপূর্বে তাদের কেউ কেউ দলীয় মনোনয়ন চেয়ে না পেয়ে দলের প্রার্থীর পক্ষে কাজ করছেন।দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশির তালিকা জেলার মধ্যে এ আসনে বেশি হলেও তারা প্রত্যেকেই দলীয় সিদ্ধান্তকে সম্মান জানাবেন বলে জানিয়েছেন। দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশি নেতারা প্রতিদিন ভোর থেকে রাত পর্যন্ত দলীয় সভা-সমাবেশ ও গণসংযোগের পাশাপাশি বিভিন্ন সামাজিক অনুষ্ঠানে যোগ দিচ্ছেন।তবে গণসংযোগের দৌঁড়ে জেলা বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি পরিশ্রমী নেতা মো. রবিউল আওয়াল লাভলু, ক্লিন ইমেজের অধিকারী বিশিষ্ট শিল্পপতি আতিকুর রহমান আতিক এবং নাগরপুর উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম-আহবায়ক ত্যাগী নেতা মীর আবুল কালাম আজাদ ওরফে রতন অন্যদের চেয়ে প্রচারণায় এগিয়ে রয়েছেন। এ তিন নেতা কোমর বেঁধে মাঠে নেমেছেন। তারা তৃণমূলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে নির্বাচনি মাঠে ভোটের আমেজ সৃষ্টি করেছেন।এদিকে জেলা বিএনপির সাবেক ভারপ্রাপ্ত সভাপতি অ্যাড. আলী ইমাম তপন ও সাবেক মন্ত্রী প্রয়াত গৌতম চক্রবর্তীর স্ত্রী দিপালী চক্রবর্তীসহ অন্য প্রার্থীরা সপ্তাহ বা দুই সপ্তাহের ব্যবধানে নিজস্ব সমাবেশ করছেন। পাড়া-মহল্লার চায়ের আড্ডা, হাট-বাজার ও জনবহুল স্থানে ঘুরে ঘুরে ৩১ দফা সম্বলিত লিফলেট বিলি করেছেন। পোস্টার, ব্যানার, ফেস্টুন টাঙিয়ে নিজেদের প্রার্থীতা জানান দিচ্ছেন।এদিকে, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী দলীয় মনোনীত প্রার্থী ডা. এ. কে. এম. আবদুল হামিদ নির্বাচনী মাঠ চষে বেড়াচ্ছেন। সর্বত্র জামায়াতে ইসলামীর গণজোয়ার বইছে দাবি করে তিনি বলেছেন, ৮০ শতাংশ মাঠ গোছানোর কাজ শেষ হয়েছে এবং প্রায় সব কেন্দ্র কমিটি প্রস্তুত।অন্যদিকে নির্বাচনী মাঠে সরব রয়েছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মনোনীত প্রার্থী মো. আখিনুর মিয়া, খেলাফত মজলিসের আব্দুল মান্নান শেখ, গণঅধিকার পরিষদের ইঞ্জিনিয়ার কবির হোসেন, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)র ওয়াহেদুজ্জামান সুমন। পাশাপাশি সমাজসেবক খন্দকার ওয়াহিদ মুরাদ, বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টির থেকে আব্দুল করিম নিরবে কার্যক্রম করে যাচ্ছেন বলে জানা যায়।উল্লেখ্য, টাঙ্গাইল-৬ (নাগরপুর-দেলদুয়ার) আসনের দুই উপজেলার মোট ভোটার সংখ্যা চার লাখ ৪৭ হাজার ৮১৫ জন। এর মধ্যে নাগরপুর উপজেলায় মোট ভোটার দুই লাখ ৬৩ হাজার ৫৭ জন। পুরুষ এক লাখ ৩৩ হাজার ৫২ জন, নারী ভোটার এক লাখ ২৯ হাজার ৯৮১ জন, তৃতীয় লিঙ্গের (হিজরা) ভোটার রয়েছে ৪ জন।দেলদুয়ার উপজেলায় মোট ভোটার ১ লাখ ৮৪ হাজার ৭৫৮ জন। পুরুষ ৯৩ হাজার ৫৮৪ জন, নারী ভোটার ৯১ হাজার ১৭১ জন ও তৃতীয় লিঙ্গের (হিজরা) ভোটার রয়েছে ৩ জন।এসকে/আরআই
Source: সময়ের কন্ঠস্বর
