কিশোরগঞ্জের মেসার্স মুরাদ এন্ড কোং নামের একটি পেট্রোল পাম্প থেকে পাচারের সময় জব্দ করা বিপুল পরিমাণ অকটেন রাতের আঁধারে জেলা প্রশাসনের কর্মচারীদের কাছে গোপনে বিক্রি করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে এক নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের বিরুদ্ধে।বুধবার (১৫ এপ্রিল) সন্ধ্যা ৭টার দিকে এনএসআই অফিস প্রাঙ্গণে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে কর্মরত কতিপয় কর্মচারীর কাছে এ জ্বালানি বিক্রি করা ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় জেলাজুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।জানা যায়, জেলা শহরের গাইটাল এলাকার মেসার্স মুরাদ এন্ড কোং নামের একটি পেট্রোল পাম্প থেকে প্লাস্টিকের কন্টেইনারে করে সিএনজি চালিত অটোরিকশা যোগে অকটেন পাচার করা হচ্ছিলো। গোপনে খবর পেয়ে রাষ্ট্রিয় গোয়েন্দা সংস্থা এনএসআই পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের পেছনের রাস্তা থেকে ৭৩ লিটার অকটেনসহ এক ব্যক্তিকে আটক করে। খবর পেয়ে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ আব্দুল্লাহ আল মুয়িদের নেতৃত্বে ভ্রাম্যমাণ আদালত সেখানে হাজির হয়। পরে সন্ধ্যা ৭টার দিকে এনএসআই অফিস প্রাঙ্গণে জব্দকৃত সেই জ্বালানি বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা না নিয়ে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে কর্মরত কতিপয় কর্মচারীর কাছে বিক্রি করে দেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ আব্দুল্লাহ আল মুয়িদ। এদিকে ঘটনার খবর পেয়ে সাংবাদিকরা তথ্য সংগ্রহ ও ভিডিও ফুটেজ নিতে সেখানে উপস্থিত হলে পরিস্থিতির অবনতি ঘটে। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সাংবাদিকদের কাজে বাধা প্রদান করেন এবং তাদের সাথে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন বলে অভিযোগ ওঠে। তথ্য জানতে হলে জেলা প্রশাসকের কাছে যাওয়ার পরামর্শ দেন তিনি। তেল পাচারের মতো গুরুতর অভিযোগে পাম্পের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ না নিয়ে একজন বহনকারীকে জরিমানার বিষয়টি স্থানীয় মহলে নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।এদিকে পাম্প থেকে অকটেন পাচারের অভিযোগ অস্বীকার করে পাম্প মালিক আলমগীর মুরাদ রেজা বলেন, কিছু সরকারি কর্মচারী তার পাম্পের পেছনে সরকারি গাড়ি থেকে তেল বের করে কন্টেইনারে করে বিক্রি করেছে।এ বিষয়ে জানতে চাইলে কিশোরগঞ্জের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আসলাম মোল্লা বলেন, যারা উপস্থিত ছিলেন তাদের কাছে এ জব্দকৃত অকটেন ন্যায্যমূল্যে বিক্রি করার কথা।এনআই
Source: সময়ের কন্ঠস্বর
