পটুয়াখালীর বাউফল থেকে ঢাকাগামী একটি ডাবল ডেকার লঞ্চে ৬ থেকে ৮ মাস বয়সী এক কন্যাশিশুকে রেখে উধাও হয়ে গেছেন এক ব্যক্তি, যিনি নিজেকে শিশুটির বাবা বলে পরিচয় দিয়েছিলেন। ঘটনাটি ঘিরে লঞ্চজুড়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। পরবর্তীতে শিশুটিকে যাত্রীদের সহায়তায় নিরাপদে রাখা হয়েছে এবং তার পরিবারের সন্ধানে তৎপরতা শুরু হয়েছে।বুধবার (১৫ এপ্রিল) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে উপজেলার কালাইয়া বন্দর লঞ্চঘাট থেকে ছেড়ে যাওয়া এমভি বন্ধন-৫ লঞ্চে এ ঘটনা ঘটে।লঞ্চের যাত্রী ও কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা যায়, বুধবার বিকেল ৪টার দিকে লঞ্চটি কালাইয়া বন্দর ঘাট থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করে। পরে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে ধুলিয়া লঞ্চঘাটে নোঙর করলে এক ব্যক্তি কোলে একটি কন্যাশিশু নিয়ে লঞ্চে ওঠেন। তিনি নিজেকে শিশুটির বাবা পরিচয় দিয়ে অন্যান্য যাত্রীদের সঙ্গে বসেন এবং সিটে বিছানা করে অবস্থান নেন।কিছু সময় পর তিনি উপস্থিত যাত্রীদের বলেন, শিশুটির মা আসছেন—এ কথা বলে লঞ্চ থেকে নেমে যান। নামার আগে পাশের সিটে থাকা যাত্রীদের কাছে শিশুটির খেয়াল রাখার অনুরোধও জানান।কিন্তু লঞ্চ ধুলিয়া ঘাট ত্যাগ করার পরও শিশুটির মা কিংবা কোনো স্বজন লঞ্চে না আসায় যাত্রীদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়। এক পর্যায়ে শিশুটি কান্নাকাটি শুরু করলে বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে ওঠে। পরে যাত্রীরা লঞ্চ কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি অবহিত করেন।লঞ্চের যাত্রী মো. সোহেল বলেন, “লোকটি ধুলিয়া ঘাট থেকে ওঠার পর কিছুক্ষণ বসে ছিলেন। পরে বললেন শিশুটির মা আসছেন, এই বলে নেমে যান। যাওয়ার সময় আমাদের শিশুটির দিকে খেয়াল রাখতে বলেন। এরপর আর তিনি ফিরে আসেননি।”লঞ্চ কর্তৃপক্ষ জানায়, বর্তমানে শিশুটিকে কয়েকজন নারী যাত্রীর তত্ত্বাবধানে রাখা হয়েছে এবং তার পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা চলছে।এ বিষয়ে এমভি বন্ধন-৫ লঞ্চের সুপারভাইজার মো. সজল বলেন, “কেন বা কী কারণে ওই ব্যক্তি শিশুটিকে রেখে চলে গেছেন, তা জানা যায়নি। শিশুটি নিরাপদে রয়েছে। আমরা যাত্রীদের সহযোগিতায় তার পরিবারের খোঁজ নেওয়ার চেষ্টা করছি।”অন্যদিকে, কালাইয়া বন্দর পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ পরিদর্শক মো. আল মামুন বলেন, “বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে জানতে পেরেছি। ঘটনাটি গুরুত্বসহকারে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।এনআই
Source: সময়ের কন্ঠস্বর
