কিশোরগঞ্জ সদর, করিমগঞ্জ ও ইটনা উপজেলায় পৃথক ঘটনায় তিনজনের অস্বাভাবিক মৃত্যু হয়েছে। তাদের মধ্যে পানিতে ডুবে ও বাসার ছাদ থেকে পড়ে ২ জনের মৃত্যু হয়। অপরজনের লাশ উদ্ধার করা হয় রাস্তা থেকে।মঙ্গলবার (২৪ জুন) কিশোরগঞ্জ জেলা শহরের বত্রিশ এলাকায়, করিমগঞ্জ উপজেলার গুণধর ইউনিয়নের বড় হাওরে, ও ইটনা উপজেলা পরিষদ এলাকায় এসব হতাহতের ঘটনা ঘটে।নিহতরা হলেন, অজিত দেবনাথ শহরের বত্রিশ এলাকার স্থায়ী বাসিন্দা এবং একই এলাকার রেডক্রিসেন্ট মোড়ের ঔষধ ব্যবসায়ী। বৃদ্ধ সিরাজুল ইসলাম খয়রত গ্রামের বাসিন্দা এবং কৃষক ছিলেন। রতন মিয়া ইটনা উপজেলা সদরের পাথারহাটি গ্রামের মোহাম্মদ আলী ওরফে আক্কু মিয়ার মানসিক ভারসাম্যহীন ছেলে।পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার সকালে কিশোরগঞ্জ শহরের বত্রিশ এলাকায় অজিত দেবনাথ (৬০) নামে এক ঔষধ ব্যবসায়ী সকালে পূজার ফুল সংগ্রহ করতে বাসার ছাদে ওঠেন। একসময় তিনি পা পিছলে নিচে পড়ে যান। আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে কিশোরগঞ্জের সদর হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত ডাক্তার তাকে মৃত ঘোষণা করেন।নিহতের ছোট ছেলে বিশ্বজিত দেবনাথ জানান, সকালে তার বাবা-মা হাটতে বেরিয়ে ছিলেন। সেখান থেকে ফিরে ছাদ বাগান থেকে পূজার ফুল সংগ্রহ করতে যান। এ সময় অসাবধানতাবশত বৃষ্টিভেজা ছাদে পা পিছলে চারতলার ছাদ থেকে নিচে পড়ে যান। ছাদে কোনো রেলিং না থাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিচে পড়ে গিয়ে বুকে ও মাথায় আঘাত পান। হাসপাতালে নেওয়ার পর তাকে মৃত ঘোষণা করা হয়।এদিকে, মঙ্গলবার দুপুরে হাঁসের জন্য শামুক কুড়াতে ঠেলা জাল নিয়ে সকাল দশটার দিকে সিরাজুল ইসলাম (৮০) হাওরে গিয়েছিলেন। দুপুর একটার দিকে আব্দুল হামিদ সড়কের পশ্চিম পাশে বড় হাওরের গভীর পানিতে ঠেলা জালসহ তাকে মৃত অবস্থায় দেখতে পান এলাকাবাসী। পরে পরিবার ও স্থানীয় লোকজন তাকে মৃত অবস্থায় উদ্ধার করেন। পানিতে ডুবে তার মৃত্যু হয়েছে বলে ধারণা পুলিশের।অপরদিকে, রতন অনেকদিন ধরে মানসিক ভারসাম্যহীন। প্রতিদিনই বাড়ির বাইরে বেরিয়ে এদিক-সেদিক চলে গেলে পরিবারের লোকেরা খুঁজে আনতেন। গতকাল সন্ধ্যার পর রতন বাড়ি থেকে বের হয়ে আর বাড়ি ফিরেনি। আজ সকালে রাস্তায় তার মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে পুলিশে খবর দেয় স্থানীয়রা। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে।কিশোরগঞ্জ সদর মডেল থানার ওসি আব্দুল্লাহ আল মামুন, করিমগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ ম্মদ মাহবুব মোরশেদ ও ইটনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ জাফর ইকবাল এসব হতাহতের ঘটনার সততা ‘সময়ের কণ্ঠস্বরকে’ নিশ্চিত করেছেন।এসকে/আরআই
Source: সময়ের কন্ঠস্বর
