নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ থানা পুলিশের মাদকবিরোধী ধারাবাহিক অভিযানে এক রাতেই পাঁচ মাদক কারবারিকে আটক করেছে সিদ্ধিরগঞ্জ থানা পুলিশ। সোমবার (১৫ জুলাই) সন্ধ্যা ৬ টার দিকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন (ওসি) শাহীনুর আলম। আটককৃতরা হলো- সুব্রত সরকার শুভ (২৯), মো. বাদল মিয়া (৫১), মো. বিল্লাল হোসেন (৩০), মো. আবুল কালাম (৪৪), আবদুল মতিন (৪৮)। এ সময় তাদের কাছ থেকে গাঁজা, হেরোইন, ইয়াবা ও ফেনসিডিল উদ্ধার করা হয়। সোবার (১৪ জুলাই) রাতে সোনা মিয়া মার্কেট, বিহারী ক্যাম্প ও সুমিলপাড়ায় অভিযান চালিয়ে ওই পাঁচজনকে আটক করা হয়। আটককৃতরা দীর্ঘদিন ধরেই সিদ্ধিরগঞ্জ এলাকায় ভাড়াটিয়া হিসেবে অবস্থান করে মাদক ব্যবসা পরিচালনা করে আসছে। সিদ্ধিরগঞ্জ থানার এসআই মোহাম্মদ শাহ আলম, এসআই মো. মামুন খালাসী, এসআই মো. জহুরুল ইসলাম ও এএসআই নূরুল ইসলাম। পুলিশ জানায়, সিদ্ধিরগঞ্জ অঞ্চলে মাদক কারবারিদের একাধিক নেটওয়ার্ক সক্রিয় রয়েছে, যারা বহিরাগতদের ভাড়া বাসায় রেখে পরিচালনা করে। এদের মধ্যে আটককৃত সুব্রত সরকার শুভ সানারপাড় এলাকায় আরিফের বাড়িতে ভাড়াটিয়া। তার দেহ তল্লাশিতে কালো প্যান্টের পকেট থেকে ২৫ পুরিয়া হেরোইন উদ্ধার করা হয়। মো. বাদল মিয়া নিমাই কাশারী এলাকায় ভাড়াটিয়া। তার লুঙ্গির কোচা থেকে ১০ পুরিয়া হেরোইন উদ্ধার হয়। মো. বিল্লাল হোসেন বর্তমানে কদমতলী খালপাড় এলাকায় মনির বাড়ির ভাড়াটিয়া। তার কাছ থেকে একটি প্লাস্টিক ব্যাগে রাখা দুই কেজি গাঁজা উদ্ধার করা হয়। মো. আবুল কালাম মৌচাক কান্দাপাড়া এলাকায় ভাড়া থাকতেন। তার টি-শার্টের পকেট থেকে ৩৫ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। আবদুল মতিন সুমিলপাড়ার স্থায়ী বাসিন্দা। তার হেফাজত থেকে ভারতীয় আমদানি নিষিদ্ধ ১০ বোতল ফেনসিডিল উদ্ধার করা হয়, যার বাজারমূল্য প্রায় ৩০ হাজার টাকা। সিদ্ধিরগঞ্জ এলাকা মাদক পাচার ও খুচরা বিক্রির ক্ষেত্রে বেশ কিছুদিন ধরেই আলোচনায়। বিশেষ করে বিহারী ক্যাম্প ও আশপাশের অঞ্চলগুলোয় মাদকের বিস্তার উদ্বেগজনক হারে বেড়েছে বলে স্থানীয়দের অভিযোগ। এদিকে স্থানীয়রা এই অভিযানকে সাধুবাদ জানিয়ে বলেন, এলাকায় রাতের বেলায় নানা অপরাধমূলক তৎপরতা বেড়ে যাচ্ছিল। পুলিশের এই সক্রিয়তা এলাকার নিরাপত্তা বাড়াবে। আমরা চাই নিয়মিত এমন অভিযান হোক। এ বিষয়ে সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহীনুর আলম জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে একযোগে কয়েকটি স্পটে অভিযান চালানো হয়। আটককৃতদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে নিয়মিত মামলা রুজু করা হয়েছে। মাদকের বিরুদ্ধে আমাদের জিরো টলারেন্স নীতি চলমান থাকবে। এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে এবং মাদকের বিরুদ্ধে সমাজের সব স্তরের মানুষের সহযোগিতা কামনা করি।এনআই
Source: সময়ের কন্ঠস্বর
