দুই যুগ পর গত বছরের ১৩ মে বহুল আলোচিত ২০০১ সালে রমনা বটমূলে বর্ষবরণ অনুষ্ঠানে বোমা হামলা মামলায় হাইকোর্ট রায় ঘোষণা করেন। ইতোপূর্বে হাইকোর্টের কয়েকটি বেঞ্চ এ মামলা শুনতে অপারগতা প্রকাশ করেন। অবশেষে বিচারপতি মোস্তফা জামান ইসলামের নেতৃত্বাধীন হাইকোর্ট চাঞ্চল্যকর এ মামলার রায় ঘোষণা করেন। ২০২৫ সালের ১৩ মে বহুল আলোচিত রমনা বটমূলে বর্ষবরণ অনুষ্ঠানে বোমা হামলা মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি মাওলানা তাজ উদ্দিনকে সাজা কমিয়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও বিচারিক আদালতে যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত শাহাদত উল্লাহ জুয়েলের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড বহাল রাখেন আদালত। এই মামলায় সাজাপ্রাপ্ত ৯ আসামির সাজা কমিয়ে ১০ বছর করে কারাদণ্ড ও ৫০ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে। মুফতি হান্নানসহ ৩ আসামি মারা যাওয়ায় তাদের ক্ষেত্রে এই মামলা অকার্যকর ঘোষণা করা হয়। বিচারপতি মোস্তফা জামান ইসলাম ও বিচারপতি নাসরিন আক্তারের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় ঘোষণা করেন। দুইদিন ব্যাপী এ রায় ঘোষণা করা হয়।এ বিষয়ে জানতে চাইলে অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল গণমাধ্যমকে বলেন, হাইকোর্টের রায় ঘোষিত হয়েছে। এখনও প্রকাশ হয়নি। রায় প্রকাশ হওয়ার পর তা দেখে আমরা পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেব। আপিল বিভাগে এই মামলা যেন দ্রুত নিষ্পত্তি হয়, সে বিষয়ে আমরা অগ্রণী ভূমিকা পালন করব।আসামিপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ শিশির মনির গণমাধ্যমকে বলেন, রমনা বটমূলে বোমা হামলা মামলায় ১৪ জনকে সাজা দিয়েছিল নিম্ন আদালতে এবং তার বিচার হয়েছে হাইকোর্টে। এই মামলার পূর্ণাঙ্গ রায় এখনো প্রকাশ হয়নি। পূর্ণাঙ্গ রায় যেহেতু প্রকাশ হয়নি, এজন্য এটি এখনো আপিল করেনি। পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশিত হওয়ার পর আসামিপক্ষ আপিল করলে এটি আপিল বিভাগে শুনানি হবে। তারপরে পূর্ণাঙ্গ সিদ্ধান্ত হবে।২০২৫ সালের ৮ মে রমনা বটমূলে বর্ষবরণ অনুষ্ঠানে বোমা হামলা মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিদের ডেথ রেফারেন্স ও আপিলের রায় ঘোষণা শুরু হয়। গত বছরের ১৮ ফেব্রুয়ারি রমনা বটমূলে বর্ষবরণ অনুষ্ঠানে বোমা হামলা মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিদের ডেথ রেফারেন্স ও আপিলের রায়ের ওপর শুনানি শেষ হয়।হাইকোর্ট ও অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, রমনা বোমা হামলার ঘটনায় হত্যা মামলায় আট আসামির ডেথ রেফারেন্স (মৃত্যুদণ্ড অনুমোদন) ও আপিল হাইকোর্টের কয়েকটি বেঞ্চের কার্যতালিকায় উঠেছিল। কিন্তু শুনানি শেষ হয়ে মামলাটি নিষ্পত্তি হয়নি। মামলার বিবরণে জানা যায়, বাংলা বর্ষবরণ অনুষ্ঠানে বোমা হামলার ঘটনায় করা হত্যা মামলার রায় হয় ওই হামলার প্রায় ১৩ বছর পর, ২০১৪ সালের ২৩ জুন। রায়ে নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন হরকাতুল জিহাদ বাংলাদেশের (হুজি-বি) শীর্ষ নেতা মুফতি আবদুল হান্নানসহ আটজনকে মৃত্যুদণ্ডাদেশ এবং ছয়জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডাদেশ দেন আদালত। একই বছর বিচারিক আদালতের এ রায়ের বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ড প্রাপ্তদের মধ্যে মাওলানা তাজউদ্দিন, হাফেজ জাহাঙ্গীর আলম, মুফতি শফিকুর রহমান, মুফতি আবদুল হাই, মাওলানা আবু বকর ও আরিফ হাসান ওরফে সুমন হাইকোর্টে ফৌজদারি আপিল দায়ের করেন। এছাড়া মৃত্যুদণ্ড প্রাপ্ত মুফতি আবদুল হান্নান, মাওলানা আকবর হোসাইন ওরফে হেলাল উদ্দিন, আরিফ হাসান ওরফে সুমন জেল আপিল দায়ের করেন।২০০১ সালের ১৪ এপ্রিল রমনা বটমূলে বর্ষবরণ অনুষ্ঠানে বোমা হামলায় ১০ জন নিহত ও বেশ কয়েকজন আহত হন। ঘটনাস্থলেই মারা যান ৯ জন। তারা হলেন, আল-মামুন হোসেন, রিয়াজুল ইসলাম, জান্নাতুল ফেরদৌস শিল্পী, আবুল কালাম আজাদ, মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন, মোহাম্মদ এমরান হোসেন, অসীম চন্দ্র সরকার, ইসমাইল হোসেন স্বপন ও আনসার আলী। একজনের নামপরিচয় জানা যায়নি। এ ঘটনায় পুলিশ রমনা থানায় মামলা করে। ২০০৬ সালের ১৯ নভেম্বর এ মামলায় মুফতি আবদুল হান্নান আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেওয়ার পর ঘটনার জট খোলে। সেনা সমর্থিত সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে এ মামলার তদন্তে গতির সঞ্চার হয়। ২০০৮ সালের ২৯ নভেম্বর মুফতি হান্নানসহ ১৪ জনকে আসামি করে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) আদালতে ওই ঘটনায় দুটি অভিযোগপত্র দেয়। এর একটি হত্যা ও অপরটি বিস্ফোরক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে।তবে বিস্ফোরণের ঘটনার ২৫ বছর পার হলেও এখনো বিস্ফোরকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে করা মামলাটির বিচার শেষ হয়নি। আদালত সূত্রে জানা যায়, ২০২২ সালের জুলাইয়ে ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-১ থেকে মামলাটি ঢাকা মহানগর বিশেষ ট্রাইব্যুনাল-১-এ স্থানান্তর করা হয়। পরে ২০২৩ সালের জানুয়ারিতে মামলাটি মহানগর বিশেষ ট্রাইব্যুনাল-১৫-এ পাঠানো হয়। এই আদালতেই মামলাটি এখনো আসামিদের আত্মপক্ষ সমর্থনের পর্যায়ে রয়েছে।এবি
Source: সময়ের কন্ঠস্বর
