রাজশাহীতে ৫ আগস্টের পর নগরের কুমারপাড়ায় অবস্থিত মহানগর আওয়ামী লীগের গুড়িয়ে দেওয়া দলীয় কার্যালয়ের জায়গা নিয়ে রাজশাহী জেলা প্রশাসক ও আওয়ামী লীগের মহিলা বিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট পূর্ণিমা ভট্টাচার্যের পাল্টা-পাল্টি দাবি উঠেছে। সোমবার (৬ এপ্রিল) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে জায়গাটিতে ডিসি অফিসের পক্ষ থেকে ‘অর্পিত সম্পত্তি’র সাইনবোর্ড স্থাপন করা হয়। এর আগে, ২৪শে মার্চে জায়গাটিতে ওয়ারিশ সূত্রে জমিটির মালিক বলে সাইনবোর্ড স্থাপন করেন অ্যাডভোকেট পূর্ণিমা ভট্টাচার্যের ছেলে ডা. দুর্জয় মৈত্র।সাইনবোর্ডে উল্লেখ করা হয়েছে, জায়গাটি ‘ক’ তফসিলভুক্ত অর্পিত সম্পত্তি (ভেস্টেড অ্যান্ড নন-রেসিডেন্ট প্রপার্টি)। এতে বলা হয়, বাংলাদেশ সরকারের পক্ষে সম্পত্তিটির ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে রয়েছেন রাজশাহী জেলা প্রশাসক ও কালেক্টর।জেলা প্রশাসনের টাঙ্গানো সাইনবোর্ডে সম্পত্তিটির বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। সেখান উল্লেখ রয়েছে, সম্পত্তিটি রাজশাহী জেলার বোয়ালিয়া থানার রামপুর মৌজায় অবস্থিত। এর জেএল নম্বর-১০, খতিয়ান নম্বর-১৮ ও দাগ নম্বর-২৮১। জমির শ্রেণি ‘বাড়ি’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে এবং মোট পরিমাণ ০.৪৯৫৬ একর। এছাড়া ভিপি কেস নম্বর হিসেবে উল্লেখ রয়েছে ২/৭৬।জেলা প্রশাসনের এই উদ্যোগের ফলে কুমারপাড়ায় অবস্থিত মহানগর আওয়ামী লীগের পরিত্যক্ত ওই জায়গাটি আনুষ্ঠানিকভাবে সরকারি সম্পত্তি হিসেবে জেলা প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণে এসেছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।আওয়ামী লীগের গুড়িয়ে দেওয়া ওই জায়গাটিতে ওয়ারিশ সূত্রে জমিটির মালিক বলে একটি সাইবোর্ড টাঙ্গিয়ে ছিলেন আওয়ামী লীগের মহিলা বিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট পূর্ণিমা ভট্টাচার্যের ছেলে ডা. দুর্জয় মৈত্র। গত ২৪ মার্চে আ.লীগের ভাঙ্গা কার্যালয়ের ওপর বসানো সাইনবোর্ডটি দু’দিন পর হঠাৎ গায়েব হয়ে যায়। এ ব্যাপারে জমির মালিকানা দাবি করা অ্যাডভোকেট পূর্ণিমা ভট্টাচার্য প্রতিবেদককে বলেন, ‘নওগাঁ জেলার রাণীনগর উপজেলার কাশিমপুর রাজবাড়ির বা জমিদার বাড়ির শেষ রাজা ছিলেন অন্নদা প্রসন্ন লাহিড়ী বাহাদুর। উনি হচ্ছেন আমার শ্বাশুড়ীর বাবা। রায় বাহাদুর ধরনী মোহন মৈত্রের শ্বশুড়। হীনা মৈত্রীর বাবা। সেই পারিবারিক সূত্রেই আমরা এই জমির মালিক’। তিনি বলেন, ‘যখন ২০১২ সালে হিন্দুদের জমির বিষয়ে আদালতে আইন হলো, তখন এই জমির মালিকানা দাবি করে আমি প্রথম ক্লেইম করি; যার মামলা নম্বর ১৬৮/১৩। সেই মামলায় সরকার হেরে যায়, আমি জিতে যায়। পার্টি আইনে ডিসি কখনও পার্টি হয় না। তারা পার্টি আইনে হেরে যায়। আবার তারা মামলা করে। ২০১৮ সালে আবার পার্টি আইনে মামলা হয়, কিন্তু তারা হেরে যায়। ২০২০ সালে হাইকোর্টের আপিলের রায় আমার পক্ষে আসে। কিন্তু আমি তখনও দখল পায় না। তখন আমি হাইকোর্টে একটি রিট করি। ২০২৩ সালে হাইকোর্টের রিটের রায় আমার পক্ষে আসে। সেই রিট নাম্বার হলো- ৯৮৪৭/২১। কিন্তু তারপরও আমি ওই জমির দখল পায় না’। তার অভিযোগ, এর মধ্যে তিনজন ডিসি এলো, গ্যালো কিন্তু কেউ আমার দখল বুঝিয়ে দিলো না। আমার পাশে দাঁড়ালো না।’ তবে ২০২৪ সালে ৫ আগস্টে পার্টি অফিস গুড়িয়ে দেওয়া হয়। দেশে তো আইন নেই। সে কারণে এক বছর পর ২০২৫ সালের জুলাইয়ে আবারও সেই জায়গা একেবারে ভেঙ্গে মাটিতে মিশিয়ে দেওয়া হয়। এরপর ২৪ মার্চে আমার ছেলেকে দিয়ে ওই জমির মালাকানা সাইনবোর্ড আমি বসায়। কিন্তু দু’দিন পর সেই সাইনবোর্ড কে বা কাহারা সরিয়ে ফেলে। আজ (সোমবার) হঠাৎ শুনছি, জেলা প্রশাসক মহোদয় নাকি সেখানে সাইনবোর্ড বসিয়েছেন; সেটিকে অর্পিত সম্পত্তি দেখিয়ে। ‘এটা আমি বুঝতে পারছি না। এটা কেমন করে হলো। আমি তো রেগুলার কোর্ট করি। ডিসি অফিসের ভিপি সেকশন এই বিষয়টি সম্পর্কে পুরোপুরি ওয়াকিবহাল। তারা অন্তত একবার আমাকে জানাতে পারতো বা আমার সঙ্গে বসতে পারতো। কিন্তু তারা কিছুই করেনি। উল্টো তারা হাইকোর্টের আদেশ অমান্য করে আইন ভঙ্গ করেছেন’ বলেন পূর্ণিমা ভট্টাচার্য। জমির ওপর মালিকানা প্রাপ্তির ব্যাপারে আইনি লড়ার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, এখন কাগজপত্রগুলো সব গোছগাছ করছি। এরপর আপনার সঙ্গে বসে একটা সংবাদ সম্মেলন করবো। এরপর ডিসি যদি নরম হয়ে আমাকে আমার পাওনা বুঝিয়ে দেন তাহলে ভালো, নাহলে আমি কোর্টে ইনজাংশান জারি করে আবার মামলা করবো। এদিকে হঠাৎ করেই ১৪ পর আবারও ওই জায়গায় রাজশাহী জেলা প্রশাসকের পক্ষ থেকে জায়গাটির মালিকানা সরকারি হিসেবে দাবি করা হচ্ছে। এ প্রসঙ্গে রাজশাহী জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলাম এ প্রতিবেদককে বলেন, ‘আমি এই ঘটনাটি জানি না এখনো। ঘটনাটি আমি আগে জেনে নেয়। এরপর আপনাকে জানাতে পারবো। আপনি আমাকে পরে ফোন দিয়েন’। পুণরায় জেলা প্রশাসককের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘আমি খোঁজ নিলাম। ঘটনাটি জানলাম। সেটি আসলে ‘ক’ তফসিলভুক্ত অর্পিত সম্পত্তি (ভেস্টেড অ্যান্ড নন-রেসিডেন্ট প্রপার্টি)। সুতরাং ওই জায়গাটি সরকারি জায়গা হিসেবে বিবেচ্য।’ অ্যাডভোকেট পূর্ণিমার দাবি প্রসঙ্গে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমরা আমাদের কাগজপত্রে যা পেয়েছি, সেভাবেই সেখানে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। এখন তিনি যদি ওই জায়গার মালিকানা দাবি করেন; তবে তাকে আদালতের মাধ্যমে সঠিক কাগজাদি উপস্থাপনপূর্বক প্রমাণ করে নিতে নিবেন।’ইখা
Source: সময়ের কন্ঠস্বর
