ইরানকে আবারও ৪৮ ঘণ্টার আলটিমেটাম দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, অবিলম্বে হরমুজ প্রণালি খুলে দিতে হবে। বেঁধে দেয়া এই সময়ের মধ্যে হরমুজ না খুললে ইরানের ওপর ‘নরক নেমে আসবে’। নিজের সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ দেয়া এক পোস্টে ট্রাম্প লিখেছেন, ‘মনে আছে, আমি ইরানকে একটি চুক্তিতে পৌঁছাতে অথবা হরমুজ প্রণালি খুলে দেয়ার জন্য ১০ দিনের সময় দিয়েছিলাম? সময় শেষ হয়ে আসছে। এখন হাতে আছে মাত্র ৪৮ ঘণ্টা, এরপরই দেশটির ওপর চরম ধ্বংসযজ্ঞ নেমে আসবে।’এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের দেয়া ৪৮ ঘণ্টার যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব নাকচ করে দেয় ইরান। দেশটির আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা ফারস নিউজ এজেন্সি শুক্রবার (৩ এপ্রিল) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ‘বন্ধুত্বপূর্ণ’ একটি দেশের মাধ্যমে বৃহস্পতিবার ইরানের কাছে এ প্রস্তাব পাঠানো হয়। তবে ইরান লিখিতভাবে কোনো জবাব না দিয়ে রণক্ষেত্রে হামলা অব্যাহত রাখার মধ্য দিয়েই তাদের অবস্থান স্পষ্ট করেছে।এদিকে, ইরানের সাম্প্রতিক হামলায় কুয়েতের বুবিয়ান দ্বীপে অবস্থিত একটি মার্কিন সামরিক গুদাম লক্ষ্যবস্তু হওয়ার পর ওয়াশিংটন যুদ্ধবিরতির জন্য কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার করে। চীনের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা জিনহুয়া-এর বরাত দিয়ে এ তথ্য জানা গেছে। ফারস নিউজ এজেন্সি আরও দাবি করেছে, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের সামরিক সক্ষমতা ভুলভাবে মূল্যায়ন করায় তাদের বাহিনী ‘গুরুতর সমস্যার’ মুখে পড়েছে, আর সেই প্রেক্ষাপটেই যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব দেয়া হয়েছে।অন্যদিকে, ইরানের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দক্ষিণাঞ্চলের জলসীমায়, হরমুজ প্রণালির-এর কাছাকাছি একটি মার্কিন ‘এ-১০ ওয়ারথগ’ আক্রমণকারী বিমান ভূপাতিত করেছে, যা পরে পারস্য উপসাগরে বিধ্বস্ত হয়।একই দিনে ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী দাবি করে, তারা দেশটির আকাশসীমায় একটি মার্কিন ‘এফ-৩৫’ যুদ্ধবিমান ভুপাতিত করেছে। পরে মেহের নিউজ এজেন্সি জানায়, ভূপাতিত যুদ্ধবিমানের পাইলটকে খোঁজার সময় একটি মার্কিন ‘ব্ল্যাক হক’ হেলিকপ্টারও ইরানের হামলার শিকার হয়েছে।এদিকে, ইরানের কোহগিলুইয়ে ও বয়ার-আহমাদ প্রদেশের গভর্নর ইয়াদুল্লাহ রাহমানি স্থানীয় বাসিন্দাদের ‘শত্রু দেশের পাইলট’ খুঁজে বের করতে সহায়তার আহ্বান জানিয়েছেন।উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র যৌথভাবে তেহরানসহ ইরানের বিভিন্ন শহরে হামলা চালায়। এতে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিসহ, শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তা এবং বেসামরিক নাগরিক নিহত হন। এর প্রতিক্রিয়ায় ইরান ইসরায়েল ও মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন স্থাপনায় ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা শুরু করে, যা বর্তমানে পুরো অঞ্চলে উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে তুলেছে।এবি
Source: সময়ের কন্ঠস্বর
