ইরানে চলমান যুদ্ধ ইস্যুতে যুক্তরাষ্ট্রের জনগণের উদ্দেশ্যে দেওয়া যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ভাষণের কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে চীন। বুধবার (০১ এপ্রিল) এক টেলিভিশন ভাষণে ট্রাম্প আগামী দুই থেকে তিন সপ্তাহের মধ্যে ইরানে হামলা আরও জোরদার করার ঘোষণা দিয়েছেন। ট্রাম্পের এই ঘোষণার পরপরই জোরালো প্রতিবাদ এসেছে চীনের পক্ষ থেকে। খবর উইওন নিউজের।চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাও নিং জানায়, সামরিক শক্তি দিয়ে কোনো সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়। মধ্যপ্রাচ্যে চলমান এই সংঘাত কোনো পক্ষের জন্যই কল্যাণকর হবে না। চীন অবিলম্বে সব পক্ষকে সামরিক অভিযান বন্ধ করার আহ্বান জানাচ্ছে।বেইজিং মনে করে, চলমান অস্থিরতার মূলে রয়েছে ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ক্রমাগত হামলা। বিশেষ করে পারস্য উপসাগরের গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালীতে যে অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে, তার জন্য ওয়াশিংটন এবং তেল আবিবকেই সরাসরি দায়ী করছে চীন।এদিকে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তার ভাষণে অপারেশন এপিক ফিউরির পক্ষে সাফাই গেয়েছেন। তিনি বলেছেন, ইরানে শাসনব্যবস্থা পরিবর্তন করা তাদের লক্ষ্য নয়, বরং দেশটির সমরাস্ত্র তৈরির কারখানা ও সামরিক সক্ষমতা গুঁড়িয়ে দেওয়াই তাদের আসল উদ্দেশ্য।হরমুজ প্রণালী নিয়ে আত্মবিশ্বাসের সুরে ট্রাম্প দাবি করেন, এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ খুব শীঘ্রই স্বাভাবিক হয়ে যাবে। একই সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যে নিজেদের মিত্র দেশগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার অঙ্গীকারও করেছেন তিনি। ইসরায়েল, সৌদি আরব এবং কাতারসহ অন্যান্য উপসাগরীয় দেশগুলোর পাশে থাকার ঘোষণা দিয়ে ট্রাম্প স্পষ্ট করেছেন, এই যুদ্ধে তিনি কোনোভাবেই মিত্রদের বিপদে পড়তে দেবেন না।উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানে বিমান হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। ইরানি কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, এতে ১ হাজার ৩৪০ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়েছে। এর পাল্টা জবাবে ইরান ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। যার লক্ষ্যবস্তু ছিল ইসরায়েলের পাশাপাশি জর্ডান, ইরাক এবং উপসাগরীয় অঞ্চলের বিভিন্ন দেশ, যেখানে মার্কিন সামরিক ঘাঁটি রয়েছে।এমআর-২
Source: সময়ের কন্ঠস্বর
