গাজীপুরের কাশিমপুরে পুলিশের এক অভিযানে ৪৫ জন নারী-পুরুষ আটক হলেও, পুরো ঘটনাকে ঘিরে উঠেছে গুরুতর অভিযোগ- আয়নাবাজি করে প্রকৃত অপরাধীদের আড়াল করার চেষ্টা চলছে। মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) গভীর রাতে মহানগরীর কাশিমপুরের জিরানি বাজার এলাকায় ড্রিমল্যান্ড আবাসিক হোটেলে অভিযান চালায় পুলিশ। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পরিচালিত এই অভিযানে হোটেলের বিভিন্ন কক্ষ থেকে নারী-পুরুষদের আটক করা হয়। পুলিশের ভাষ্য, তারা অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিলেন। কিন্তু অভিযানের পরপরই সামনে আসে ভিন্ন চিত্র।অভিযোগ উঠেছে, দীর্ঘদিন ধরে এই হোটেলকে অবৈধ দেহব্যবসার কেন্দ্র হিসেবে পরিচালনা করছিলেন মালিক মোতালেব ও ম্যানেজার শামীম। দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে তরুণীদের এনে টাকার বিনিময়ে গ্রাহকদের কাছে সরবরাহ করা হতো বলেও জানা গেছে।তবে সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর অভিযোগ এসেছে স্থানীয়দের কাছ থেকে। তাদের দাবি, অভিযানের সময় কৌশলে প্রকৃত মালিককে খদ্দের হিসেবে দেখানো হয় এবং একজন কর্মচারীকে মালিক বানিয়ে পুরো ঘটনায় ‘আয়নাবাজি’ করা হয়েছে। এর ফলে প্রকৃত মালিক সহজেই আইনের ফাঁক গলে বেরিয়ে যাওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন।শুধু তাই নয়, পুলিশের দেওয়া চার্জশিট নিয়েও উঠেছে বড় প্রশ্ন। অভিযোগ রয়েছে, সেখানে প্রকৃত মালিককে ৩ নম্বর আসামি দেখিয়ে মামলার গুরুত্ব কমিয়ে দেওয়া হয়েছে এবং ঘটনাকে ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা চলছে।অভিযানে আটক মনির গাজীসহ আরও কয়েকজনের বিরুদ্ধে সংঘবদ্ধভাবে এই অপরাধ পরিচালনার অভিযোগ আনা হলেও, স্থানীয়দের প্রশ্ন—বড় রাঘব বোয়ালরা কি ধরা-ছোঁয়ার বাইরে থেকেই যাচ্ছে?স্থানীয়দের অভিযোগ আরও গুরুতর। তাদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরেই এই হোটেলে এমন অবৈধ কার্যক্রম চললেও প্রশাসনের দৃশ্যমান কোনো কঠোর পদক্ষেপ ছিল না। মাঝেমধ্যে অভিযান চালানো হলেও, কিছুদিন পরই আবার আগের মতো চালু হয়ে যায় সবকিছু। এতে করে অভিযানের স্বচ্ছতা নিয়েই উঠছে প্রশ্ন।এমনকি অভিযোগ রয়েছে, নিয়মিত আর্থিক সুবিধার বিনিময়ে এই ধরনের ‘নামকাওয়াস্তে’ অভিযান পরিচালিত হয়, যার ফলে অপরাধ বন্ধ না হয়ে বরং আরও শক্তিশালী হয়ে ফিরে আসে। এ ঘটনায় মামলা দায়ের করে আটকদের আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে।এ ব্যাপারে অভিযোগকারী ও কাশিমপুর থানার এসআই মোঃ আরিফ হোসেন জানান, এ রকম কিছুই করা হয়নি। এটা সত্য নয়, মিথ্যা। কে মালিক আর কে মালিক নয় এটা তদন্তকারী কর্মকর্তা দেখবেন- বলেই ফোন কেটে দেন। এরপর একাধিকবার ফোন দেয়া হলেও তিনি ফোন বন্ধ করে রাখেন।এ বিষয়ে কাশিমপুর থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত ওসি) ও তদন্তকারী কর্মকর্তা (আইও) তারিকুল ইসলাম জানান, পরবর্তীতে তদন্ত করে বিষয়টি দেখা হবে। মালিককে খদ্দের বানানোর বিষয়টি অভিযোগকারী পুলিশ সদস্যের কাছেই জিজ্ঞেস করেন তিনিই ভালো বলতে পারবেন। এ ঘটনার বিষয়ে গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার (অপরাধ উত্তর) এস এম শফিকুল ইসলাম বলেন, নাম যেখানেই দেয়া হোক না কেন, এটা মামলার প্রাথমিক পর্যায়, তদন্তের পর পূর্ণ চিত্র ফুটে উঠবে। চূড়ান্ত পর্যায়ে কে অপরাধী সেটা আসবে। এ ক্ষেত্রে নতুন কেউ যোগ হতে পারে, যাদের ধরা হয়েছে তাদের কেউ ছাড়া পড়তে পারে। আর যে নিরপরাধ সে ছাড়া পাবে।তবে পুরো ঘটনায় এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন—এই অভিযান কি সত্যিই অপরাধ দমনের জন্য, নাকি এর আড়ালে লুকিয়ে আছে আরও বড় কোনো স্বার্থের খেলা?স্থানীয়দের স্পষ্ট দাবি—আর কোনো ‘আয়নাবাজি’ নয়, প্রকৃত অপরাধীদের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান ও স্থায়ী ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। না হলে এমন অভিযান কেবলই লোক দেখানো নাটক হিসেবেই থেকে যাবে।ইখা
Source: সময়ের কন্ঠস্বর
