যুক্তরাষ্ট্রে ইহুদিবিদ্বেষ (অ্যান্টিসেমিটিজম) সংক্রান্ত তদন্তের অংশ হিসেবে পেনসিলভানিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (University of Pennsylvania) কাছ থেকে ইহুদি শিক্ষক-কর্মীদের তথ্য চাওয়ার সরকারি উদ্যোগকে বৈধ বলে রায় দিয়েছেন এক ফেডারেল বিচারক। এই সিদ্ধান্তকে ঘিরে দেশজুড়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে, বিশেষ করে ব্যক্তিগত গোপনীয়তা ও সাংবিধানিক অধিকারের প্রশ্নে।ফিলাডেলফিয়ার ফেডারেল ডিস্ট্রিক্ট কোর্টের বিচারক জেরাল্ড জে. প্যাপার্ট মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) তার রায়ে বলেন, সমতা কর্মসংস্থান সুযোগ কমিশন (EEOC)-এর জারি করা সাবপোনাটি আইনসম্মত এবং তদন্তের স্বার্থে এটি প্রয়োজনীয়। আদালত পেন বিশ্ববিদ্যালয়কে আগামী ১ মে’র মধ্যে তাদের কাছে থাকা প্রাসঙ্গিক তথ্য সরবরাহের নির্দেশ দিয়েছে।তবে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করার ঘোষণা দিয়েছে। এক বিবৃতিতে তারা জানায়, “আমরা অ্যান্টিসেমিটিজমসহ সব ধরনের বৈষম্যের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তবে কর্মীদের ধর্মীয় পরিচয়ভিত্তিক তালিকা তৈরি ও ব্যক্তিগত যোগাযোগের তথ্য প্রদান গোপনীয়তা ও প্রথম সংশোধনীর অধিকারের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।”এই মামলার সূত্রপাত ২০২৩ সালে, যখন EEOC পেন বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মক্ষেত্রে ইহুদিদের বিরুদ্ধে বৈষম্যের অভিযোগ তদন্ত শুরু করে। তদন্তের অংশ হিসেবে কমিশন বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে ইহুদি সংগঠনের সদস্যদের নাম, ফোন নম্বর, অভিযোগকারীদের তথ্য এবং সংশ্লিষ্ট কর্মসূচির বিবরণ চায়।বিশ্ববিদ্যালয় ও ক্যাম্পাসের বিভিন্ন ইহুদি সংগঠন এই পদক্ষেপের বিরোধিতা করে জানায়, এতে ধর্মীয় পরিচয়ের ভিত্তিতে তালিকা তৈরি করা হতে পারে, যা মানুষের ব্যক্তিগত নিরাপত্তা ও ধর্মীয় স্বাধীনতার জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। কেউ কেউ এই পদক্ষেপকে নাৎসি জার্মানির সময়কার পদ্ধতির সঙ্গে তুলনা করেন।তবে বিচারক প্যাপার্ট এই তুলনাকে “অযৌক্তিক ও অপ্রাসঙ্গিক” বলে মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, সরকারের উদ্দেশ্য ছিল সীমিত পরিসরে সম্ভাব্য ভুক্তভোগী বা সাক্ষীদের খুঁজে বের করা, এবং এতে কোনো প্রমাণ নেই যে এতে কারও নিরাপত্তা ঝুঁকিতে পড়বে।রায়ে আরও বলা হয়, বিশ্ববিদ্যালয় তাদের কাছে থাকা তথ্যই কেবল দিতে বাধ্য থাকবে; কোনো নির্দিষ্ট ইহুদি সংগঠনের সঙ্গে ব্যক্তির সম্পৃক্ততা প্রকাশ করতে হবে না।এই সিদ্ধান্ত যুক্তরাষ্ট্রে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ওপর সরকারের তদন্ত ক্ষমতার সীমা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। সমালোচকদের মতে, এই ধরনের পদক্ষেপ সংখ্যালঘু গোষ্ঠীগুলোর ওপর নজরদারি বাড়াতে পারে এবং ভবিষ্যতে অন্যান্য ধর্মীয় বা সামাজিক গোষ্ঠীর ক্ষেত্রেও একই ধরনের নজির তৈরি করতে পারে।অন্যদিকে, সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, বৈষম্য তদন্তে সম্ভাব্য ভুক্তভোগীদের শনাক্ত করতে এ ধরনের তথ্য চাওয়া একটি প্রচলিত ও বৈধ প্রক্রিয়া।বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই মামলার চূড়ান্ত নিষ্পত্তি যুক্তরাষ্ট্রে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর সরকারি তদন্তের ধরন ও সীমা নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।ইখা
Source: সময়ের কন্ঠস্বর
