সংসদের স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদকে গর্বিত বীর মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে উল্লেখ করে বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, ‘আমিও ক্ষুদ্র একটি শহীদ পরিবারের সন্তান। সেই মুক্তিযুদ্ধে যারা জীবন দিয়েছিলেন, আমাদের পরিবার কয়েক ফোঁটা রক্ত দিয়ে তাদের সঙ্গে শরিক হওয়ার সৌভাগ্য অর্জন করেছে। বাংলাদেশ আমাদের সকলের।’আজ মঙ্গলবার বিকেলে জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে ‘জুলাই সনদ’-এর ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এ কথা বলেন।বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, ‘পর্যায়ক্রমে কেউ না কেউ এ দেশের শাসনভার পরিচালনা করবেন, এটিই স্বাভাবিক। একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে যখন রাজতন্ত্র থাকে না, সেখানে বংশপরম্পরায় শাসনের অবস্থাও থাকে না। সেখানে জনগণের ভোটে গঠিত সরকার দেশ পরিচালনা করে। দুঃখের বিষয়, জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়েও জনগণের ভোটের অধিকার খর্ব করা হয়েছে, কোনো কোনো ক্ষেত্রে হত্যা করা হয়েছে।’সংবিধান নিয়ে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘প্রথম যে সরকার হয়েছিল, তারা জনগণের ভোট পেয়েই নির্বাচিত হয়েছিলেন। কিন্তু আমরা সেখানে লক্ষ করলাম, যারা বহুদলীয় গণতন্ত্রের কারণে এই সুযোগটা পেয়েছিলেন, তারাই এসে বহুদলীয় গণতন্ত্রকে হত্যা করে একদলীয় বাকশাল কায়েম করলেন। বাহাত্তরের যে সংবিধান, তার অনেকটুকু এখানে হারিয়ে ফেলে। যখন একদলীয় কোনো শাসনব্যবস্থা কোনো দেশে সাংবিধানিকভাবে স্বীকৃত হয়ে যায়, কার্যত সেই দেশে জনগণের ভোটের আর কোনো মূল্যায়ন থাকে না। এভাবে বারবার সরকার এসেছে, সরকার গিয়েছে।’জামায়াত আমির বলেন, ‘সর্বশেষ ২০০৯ সালে যারা সরকার গঠন করেছিলেন ২০০৮ সালের একটা বোঝাপড়া নির্বাচনের মধ্য দিয়ে, তারা দেশে কী করেছেন তার জ্বলন্ত সাক্ষী আজকের এই সংসদ। আমি সেই জন্য বলেছিলাম, আমার ধারণা, ফ্যাসিস্ট সরকারের হাতে নির্যাতনের শিকার হননি, বোধ হয় এমন কোনো সদস্য এখানে নেই। কেউ হয়েছেন বারবার, কেউ হয়েছেন হয়তো একবার। যারা সৌভাগ্যবান, অনেকেই দেশেই থাকতে পারেন। নির্যাতনের ভয়াবহতা এতটাই ভারী ছিল যে তারা নিজ জন্মস্থানের মাটি আঁকড়ে ধরে থাকতে পারেননি।’বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, ‘অসংখ্য মায়ের বুক খালি হয়েছে। বোনেরা বিধবা হয়েছেন, শিশুরা এতিম হয়েছে। অসংখ্য লোককে গুম করা হয়েছে। গুমের শিকার ২৩৫ জন লোক এখনো তাদের আপনজনের কাছে ফিরে আসেননি। তাদের আপনজন জানেন না আসলে তাদের বাস্তব অবস্থা কী হয়েছে! তারা কি বেঁচে আছেন নাকি দুনিয়া থেকে বিদায় নিয়েছেন?’ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘এই সময়ের ভেতরে এক্সট্রা জুডিশিয়াল কিলিংয়ের (বিচারবহির্ভূত হত্যা) শিকার হয়েছেন ২ হাজার ৬৬২ জন মানুষ, যারা মিনিমাম কোনো বিচারের আলো দেখার সুযোগ পাননি। তাদেরকে নির্মমভাবে খুন করা হয়েছে। কার্যত তখন যারা আমরা বিরোধী দলে ছিলাম, এর নির্মম ভিকটিম তারাই হয়েছিলেন। এ সমস্ত পরিবারের কাছে আজ আমাদের কোনো জবাব নেই। শুধু তা-ই নয়, রাষ্ট্রের সব সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানকে একে একে ধ্বংস করে ফেলা হয়েছিল এবং সবগুলোতে দলীয় কর্তৃত্ব এককভাবে কায়েম করা হয়েছিল দেশকে কুক্ষিগত করার জন্য।’ওই ফ্যাসিবাদ যাতে আর ফিরে না আসে, সেই আকাঙ্ক্ষার কথা তুলে ধরে তিনি আরও বলেন, ‘দেশ একটা ন্যায্যতার ভিত্তিতে, ন্যায়বিচারের ওপরে কায়েম হবে; যেখানে সবাই নাগরিক হিসেবে সমান অধিকার পাবে। তার পরিপ্রেক্ষিতে প্রধান প্রধান রাজনৈতিক দল এবং সমন্বয়কদের দীর্ঘ আলোচনার পর ইনটেরিম গভমেন্ট (অন্তর্বর্তীকালীন সরকার) যে জাতীয় ঐকমত্য কমিশন গঠন করে দিয়েছিল, তারা সংস্কারের কিছু প্রস্তাব চূড়ান্ত করেছেন। এরই আলোকে প্রেসিডেন্ট একটি আদেশ জারি করেছেন।’জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের বিষয়ে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘শেষ পর্যন্ত আমরা লড়ে গেছি সবাই। তাদের অপকর্মের শেষ পরিণতি হিসেবে ২০২৪ সালের জুলাই মাসে যে আন্দোলন তরুণ-যুব সমাজের দ্বারা দানা বেঁধে উঠেছিল, আগস্টের ৫ তারিখে তা পরিণতি লাভ করেছে। এ জন্য কোনো দেশের ক্যালেন্ডারে ৩৬ জুলাই বলে কিছু নেই, আমাদের দেশে তা প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।’জুলাই আন্দোলনে নেতৃত্বদানকারীদের অভিনন্দন জানিয়ে তিনি বলেন, ‘এই আন্দোলন শুধু মুষ্টিমেয় কিছু যুব সমাজ সম্পৃক্ত ছিলেন না; বরঞ্চ এই আন্দোলনে কৃষক, শ্রমিক, মেহনতি জনতা, মুটে-মজুর, ছাত্র-জনতা সবাই সম্পৃক্ত হয়েছিলেন। দুধের শিশু নিয়ে মা-ও রাস্তায় নেমে এসেছিলেন এবং চার বছরের শিশুও এই আন্দোলনে শহীদ হয়েছে।এফএস

Source: সময়ের কন্ঠস্বর

সম্পর্কিত সংবাদ
পরীক্ষা শেষের আনন্দ রূপ নিল বিষাদে, এখনো নিখোঁজ চবির দুই শিক্ষার্থী
পরীক্ষা শেষের আনন্দ রূপ নিল বিষাদে, এখনো নিখোঁজ চবির দুই শিক্ষার্থী

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম বর্ষের পরীক্ষা শেষ করে চার বন্ধু মিলে এসেছিলেন কক্সবাজারে। উদ্দেশ্য- সমুদ্রের ঢেউয়ে ডুবে খানিকটা প্রশান্তি খোঁজা। কিন্তু Read more

আইফোন ব্যবহারকারীদের জন্য বড় দুঃসংবাদ
আইফোন ব্যবহারকারীদের জন্য বড় দুঃসংবাদ

আইফোন পৃথিবীর সবচেয়ে দামি ও অন্যতম জনপ্রিয় ফোনগুলোর একটি। অনেকেই আবার এটিকে সামাজিক অবস্থান বা স্ট্যাটাসের প্রতীক মনে করেন। তবে Read more

নওগাঁয়ে ছুরিকাঘাতে নিহত ১
নওগাঁয়ে ছুরিকাঘাতে নিহত ১

নওগাঁয় জমিজমা নিয়ে বিরোধকে কেন্দ্র করে সালিশ বৈঠকে উপস্থিত থাকার জেরে প্রকাশ্যে ছুরিকাঘাতে গোলাম হোসেন (৫২) নামে একজনের মৃত্যু হয়েছে।  বুধবার Read more

ছাত্রদের ‘হেয়ার স্টাইল’ নির্ধারণ করে বিদ্যালয়ের নোটিশ জারি!
ছাত্রদের ‘হেয়ার স্টাইল’ নির্ধারণ করে বিদ্যালয়ের নোটিশ জারি!

পাবনার সাঁথিয়া উপজেলা পরিষদ উচ্চ বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের জন্য নির্দিষ্ট চুলের কাটিং বা ‘হেয়ার স্টাইল’ বাধ্যতামূলক করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কর্তৃপক্ষ। শুধু Read more

রাশিয়ার হয়ে যুদ্ধ করতে গিয়ে সিআইএ’র উপপরিচালকের ছেলের মৃত্যু
রাশিয়ার হয়ে যুদ্ধ করতে গিয়ে সিআইএ’র উপপরিচালকের ছেলের মৃত্যু

গাজাযুদ্ধে ইসরায়েলকে সমর্থন করায় যুক্তরাষ্ট্রের ওপর জমা ক্ষোভ থেকে রাশিয়ার সেনাবাহিনীতে যোগ দিয়েছিলেন মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএর উপপরিচালকের ছেলে মাইকেল Read more

হজে গিয়ে ৩৬ বাংলাদেশির মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ২৫
হজে গিয়ে ৩৬ বাংলাদেশির মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ২৫

চলতি বছর পবিত্র হজপালনে সৌদি আরবে গিয়ে এপর্যন্ত ৩৬ জন বাংলাদেশি হজযাত্রীর মৃত্যু হয়েছে।সর্বশেষ গতকাল ১৯ জুন মারা গেছেন গাজীপুরের Read more

আমরা নিরপেক্ষ নই ,    জনতার পক্ষে - অন্যায়ের বিপক্ষে ।    গণমাধ্যমের এ সংগ্রামে -    প্রকাশ্যে বলি ও লিখি ।   

NewsClub.in আমাদের ভারতীয় সহযোগী মাধ্যমটি দেখুন