দীর্ঘ পচিঁশ বছর ধরে শিকলে বাধাঁ অবস্থায় মানবেতর দিন কাটছে মানসিক ভারসাম্যহীন হারুনের (৪২)। অর্থাভাবে চিকিৎসা করাতে না পারায় দিনদিন হারুনের স্বাস্থ্যের অবনতি হচ্ছে।স্বামী পরিত্যক্তা রেজিয়া খাতুন ছেলের সেবা শুশ্রুষা করে অসহ্য হয়ে পড়েছেন। তাই ক্ষোভে-দুঃখে নিজের এবং পাগল ছেলের মৃত্যু কামনা করে বলেন, ‘আমিও মরি না, পাগল ছেড়াডাও মরে না’।ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলার রাজগাতী ইউনিয়নের পূর্বদরিল্যা গ্রামের স্বামী পরিত্যক্তা রেজিয়া খাতুনের একমাত্র পুত্র হারুন।সরেজমিন দেখা যায়, আধাভাঙ্গা একটি ঘরের নোংরা বারান্দায় শিকলে বাঁধা হারুণ দাঁড়িয়ে আছেন। মাথা এবং মূখে আধাপাকা চুল দাড়ি। পরনে ছেঁড়া নোংরা একটি জিন্সের প্যান্ট, গায়ে ছেঁড়া ও নোংরা একটি নীল রংয়ের কম্বল। ২০০০ সালে নান্দাইল শহীদ স্মৃতি আদর্শ কলেজ থেকে বিএ পরীক্ষা দেবার জন্য ফরমও পূরণ করেন। কিন্তু এরপরই মানসিক সমস্যা দেখা দেয় হারুনের। যা বর্তমানে শিকল বন্দী অবস্থায় হারুন দিন কাটাচ্ছে।মা রেজিয়া খাতুন প্রতিদিন থালায় করে ভাত নিয়ে হারুনকে নিজ হাতে খাইয়ে দিয়ে আসেন। এতদিন কিছু না করলেও এখন ভাত নিয়ে গেলে হারুন প্রায়ই তার মাকে মারধর করাসহ কাপড় চোপড় ছিঁড়ে ফেলছেন।প্রতিবেশী কাছুম আলী জানান, হারুনের ভালো চিকিৎসা করাতে পারলে হয়তো সে ভালো হয়ে যেত। তাই সরকার ও সমাজের বিত্তবানদের সাহায্য কামনা করেন তিনি। তিনি বলেন, মাঝে মধ্যে সে এমন কথা বলে যা শুনে কেউ বলবেনা হারুনের মাথায় সমস্যা আছে।মা রেজিয়া বলেন, ‘ছেলে হারুনকে নিয়ে আর কষ্ট সহ্য হচ্ছেনা। আমি মারা গেলে হারুনকে কে দেখবে। আমিও মরিনা পাগল ছেড়াডাও মরে না।’ ছেলের চিকিৎসার জন্য সরকার ও সমাজের বিত্তবানদের সাহায্য কামনা করেন মা রেজিয়া।নান্দাইল উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ শামীমা সুলতানা জানান, বিস্তারিত শুনে মনে হচ্ছে যথাযথ চিকিৎসা পেলে হারুনও সুস্থ হবে। এক্ষেত্রে ময়মনসিংহ নয় ঢাকায় মানসিক চিকিৎসা হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসা করাতে হবে।ইখা
Source: সময়ের কন্ঠস্বর
