ইরানের নবনিযুক্ত তৃতীয় সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনিকে ঘিরে রহস্য ঘনীভূত হচ্ছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইসরায়েলি হামলায় সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আলী খামেনি নিহত হওয়ার পর থেকে মোজতবা খামেনি দাপ্তরিকভাবে স্থলাভিষিক্ত হলেও এখন পর্যন্ত তাঁকে জনসমক্ষে বা রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেখা যায়নি। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, মোজতবা খামেনি হয় মারা গেছেন নতুবা অত্যন্ত সংকটাপন্ন অবস্থায় রয়েছেন।সম্প্রতি ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমগুলোতে মোজতবা খামেনির একটি বার্তা প্রকাশিত হয়েছে। সেখানে তিনি ইরানের ওপর চলা আগ্রাসনের বিরুদ্ধে ‘সুস্পষ্ট অবস্থান’ নেওয়ার জন্য ইরাকি ধর্মগুরু ও জনগণকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন। জানা গেছে, সুপ্রিম ইসলামিক অ্যাসেম্বলি অব ইরাকের স্পিকার এবং বাগদাদে নিযুক্ত ইরানি রাষ্ট্রদূতের মধ্যে বৈঠকের পর এই বার্তাটি হস্তান্তরিত হয়। গত মার্চের শুরু থেকে মোজতবা খামেনির নামে বেশ কিছু লিখিত বার্তা প্রকাশিত হলেও তাঁর কোনো শারীরিক উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়নি।মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এক বিবৃতিতে বলেন, “মোজতবা খামেনি হয় মৃত, না হয় খুব খারাপ অবস্থায় আছেন; কারণ কেউ তাঁর কোনো খবর পাচ্ছে না।” তবে জেনেভায় জাতিসংঘের ইরানি রাষ্ট্রদূত এই অনুপস্থিতিকে ‘নিরাপত্তা জনিত সতর্কতা’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন। ইসরায়েল ইতিপূর্বেই মোজতবা খামেনিকে লক্ষ্যবস্তু করার ঘোষণা দিয়েছিল, যা তাঁর দীর্ঘমেয়াদী আত্মগোপনের অন্যতম কারণ হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।এদিকে মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্ট মোজতবা খামেনিসহ ইরানের শীর্ষ ১০ নেতার মাথার দাম ১০ মিলিয়ন ডলার (১ কোটি ডলার) ঘোষণা করেছে। অন্যদিকে, ২৮ ফেব্রুয়ারি নিহত হওয়া আলী খামেনির মরদেহ এখনো সমাহিত করা হয়নি, যা ইরানের অভ্যন্তরীণ ও ধর্মীয় মহলে নানা প্রশ্নের জন্ম দিচ্ছে।বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের এই ক্রান্তিকালে সর্বোচ্চ নেতার দীর্ঘ অনুপস্থিতি দেশটির শাসনব্যবস্থায় অস্থিরতা তৈরি করতে পারে। একদিকে ইসরায়েলি হামলার হুমকি এবং অন্যদিকে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা ও পুরস্কার ঘোষণা—সব মিলিয়ে মোজতবা খামেনির নেতৃত্ব এক চরম পরীক্ষার মুখে দাঁড়িয়েছে।এনআই
Source: সময়ের কন্ঠস্বর
