পাবনার ঈশ্বরদীতে দলীয় কোন্দলের জের ধরে বসতবাড়িতে হামলা-ভাংচুরের ঘটনায় দায়েরকৃত মামলায় না জানিয়েই স্বাক্ষীর তালিকায় নাম অন্তর্ভূক্তির অভিযোগ উঠেছে। এমনকি অন্তুর্ভূক্তিকৃত স্বাক্ষীগণ মামলার কোন খবরই জানেন না বলে দাবি করেছেন।রবিবার (২৯ মার্চ) দুপুর ১২ টার দিকে ঈশ্বরদী প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে স্বাক্ষীর তালিকা থেকে নাম বাতিলের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।মামলায় স্বাক্ষীর তালিকা থেকে নাম বাতিলের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করা তিন ব্যক্তি হলেন- পৌর শহরের ফতেমোহাম্মাদপুর এলাকার মৃত হাদীসের ছেলে মোঃ কুদ্দুস ওরফে পাখি কুদ্দুস, একই এলাকার আসলাম খানের ছেলে মোঃ আরমান ও মৃত আক্তারের ছেলে মোঃ সোহেল।মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, গত ২১ মার্চ দিবাগত রাতে বিএনপির দলীয় কোন্দলের জের ধরে দুই পক্ষের ঝামেলা শুরু হয়। এতে আব্দুল রউফ আব্দুল নামে এক ওয়ার্ড স্বেচ্ছাসেবকদল নেতাকে কুপিয়ে যখমের ঘটনা ঘটে। পরবর্তীতে তারই সূত্র ধরে প্রতিপক্ষের কয়েকটি বসতবাড়িতে হামলা-ভাংচুর চালানো হয়। এর মধ্যে নিজ বাড়িতে হামলা ও ভাংচুরের অভিযোগে পৌর শহরের ফতেমোহাম্মাদপুর নিউ কলোনির মোঃ হারুনুর রশিদের স্ত্রী মোছাঃ রাবেয়া খাতুন বাদী হয়ে পৌর বিএনপি, স্বেচ্ছাসেবকদল, যুবদলসহ সহযোগী সংগঠনের ১৯ নেতাকর্মীর নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরো ৫০-৬০জনকে আসামি করে ঈশ্বরদী থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। সেই মামলায় রাবেয়া খাতুন তার তিন প্রতিবেশী মোঃ কুদ্দুস, মোঃ আরমান ও মোঃ সোহেলকে স্বাক্ষী হিসেবে উল্লেখ করেন।আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে ভুক্তভোগী মোঃ সোহেলসহ অন্য দুইজন জানান, ঘটনার সময় তারা কেউই ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন না। ঘটনা সম্পর্কে অবগতও না। তারপরও অজ্ঞাতকারণে প্রতিবেশী রাবেয়া খাতুন তাদের সঙ্গে কোনরুপ আলাপ আলোচনা না করেই তাদের নাম মামলায় স্বাক্ষী হিসেবে উল্লেখ করেছেন। এতে তারা সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন ও হয়রানির শিকার হচ্ছেন। তাদের সামাজিক ভাবমুর্তি ক্ষুন্ন হচ্ছে। তাই সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করে মামলার স্বাক্ষীর তালিকা থেকে তাদের তিনজনের নাম বাদ দেওয়ার দাবি জানান।এ বিষয়ে জানতে মামলার বাদী রাবেয়া খাতুনের সঙ্গে যোগাযোগ করতে তার বাড়িতে গিয়ে পাওয়া যায়নি। এমনকি মামলায় উল্লেখিত ফোন নম্বরে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়ায় বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।ঈশ্বরদী সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার প্রণব কুমার বলেন, ‘মামলার পূর্নাঙ্গ তদন্তে স্বাক্ষীদের এমন অভিযোগ বা মামলা সম্পর্কে তারা অবগত না থাকলে তাদের নাম বাতিলের সুযোগ থাকবে। স্বাক্ষীরা এ ব্যাপারে থানায় লিখিত অভিযোগও দিতে পারেন।’ইখা
Source: সময়ের কন্ঠস্বর
