জ্বালানি তেলের তীব্র সংকটের কারণে ময়মনসিংহের নান্দাইলে বেশ কয়েকদিন বন্ধ থাকার পর অবশেষে পুলিশ পাহারায় পেট্রল বিক্রি শুরু হয়েছে।শনিবার (২৮ মার্চ) ভোর থেকে উপজেলার নান্দাইল চৌরাস্তায় অবস্থিত ‘মেসার্স হাজী ফিলিং স্টেশনে’ তেল বিক্রি শুরু করে কর্তৃপক্ষ। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর তেল মেলায় উপজেলার শত শত মোটরসাইকেল চালক স্টেশনের সামনে ভিড় জমান।গত দশ দিন ধরে নান্দাইল উপজেলার কানুরামপুর এলাকার ‘চৌধুরী ফিলিং স্টেশন’ এবং নান্দাইল চৌরাস্তার ‘মেসার্স হাজী ফিলিং স্টেশন’—এই দুটি প্রধান পাম্প বন্ধ ছিল। এতে উপজেলার মোটরসাইকেলসহ বিভিন্ন হালকা যানবাহন চলাচলে চরম বিপর্যয় দেখা দেয়। অবশেষে মেসার্স হাজী ফিলিং স্টেশন যমুনা ওয়েল কোম্পানি থেকে ১০ হাজার লিটার তেল সংগ্রহ করায় শনিবার থেকে পুনরায় সরবরাহ শুরু হয়েছে।তেল সংগ্রহের খবর পেয়ে ভোররাত থেকেই স্টেশনের সামনে সহস্রাধিক মোটরসাইকেল লাইনে দাঁড়ায়। তবে মজুত সীমিত থাকায় ফিলিং স্টেশন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, প্রতিটি মোটরসাইকেলকে সর্বোচ্চ ৩০০ টাকার তেল দেওয়া হচ্ছে। অতিরিক্ত ভিড় এবং বিশৃঙ্খলা এড়াতে পাম্প এলাকায় নান্দাইল থানা পুলিশের বিশেষ টহল ও উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে।লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা গ্রাহক সিরাজুল ইসলাম ও আরিফুল হক জানান, প্রায় দুই ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থাকার পর তাঁরা কাঙ্ক্ষিত তেল পেয়েছেন। তাঁদের মতো আরও শত শত গ্রাহক দীর্ঘ সময় ধরে রোদে পুড়ে তেলের জন্য অপেক্ষা করছেন।মেসার্স হাজী ফিলিং স্টেশনের মালিক শেখ সেলিম জানান, “১০ হাজার লিটার তেল পেয়েছি যা চাহিদার তুলনায় কম। তাই সবাইকে সুযোগ দিতে ৩০০ টাকার বেশি তেল দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। ভিড় সামলাতে আমরা পুলিশের সহায়তা নিয়েছি।”উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সালাহ উদ্দিন মাহমুদ জানান, “তেল দেওয়াকে কেন্দ্র করে যাতে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা বা বিশৃঙ্খলা না ঘটে, সে জন্য পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। জনস্বার্থে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে রাখা হচ্ছে।”এনআই
Source: সময়ের কন্ঠস্বর
