চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলায় এক নারীকে কৌশলে ডেকে নিয়ে দেশীয় অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের লোমহর্ষক ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে মূল পরিকল্পনাকারী এক নারীসহ মোট ৬ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। শনিবার (২৮ মার্চ) বিকেল ৪টায় পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে পুলিশ সুপার মোহাম্মদ রুহুল কবীর খান বিষয়টি নিশ্চিত করেন।গ্রেফতারকৃতরা হলেন—চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার সাতগাড়ী গ্রামের ফয়সালের স্ত্রী কবিতা (৩০), আলমডাঙ্গা উপজেলার খাদিমপুর গ্রামের মিজান, সামাদ আলী, আদম, শাহজাহান এবং শিয়ালমারি গ্রামের আব্দুস সালাম।মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ২৫ মার্চ রাত আনুমানিক ১০টার দিকে আলমডাঙ্গার খাদিমপুর বেলেদারী মাঠের পাশের একটি আমবাগানে এই পাশবিক নির্যাতনের ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী নারীর সঙ্গে সুসম্পর্ক গড়ে তুলেছিলেন একই এলাকার কবিতা। গত ২৫ মার্চ কবিতা ওই নারীকে বেড়াতে যাওয়ার কথা বলে চুয়াডাঙ্গা বড়বাজারে নিয়ে আসেন। সেখানে কবিতার খালাতো ভাই আব্দুস সালামের ইজিবাইকে করে তাঁদের আলমডাঙ্গার দিকে নিয়ে যাওয়া হয়।খাদিমপুর বেলেদারী ফাঁকা মাঠের কাছে পৌঁছালে অন্য সহযোগীরা দেশীয় অস্ত্রের মুখে ভুক্তভোগীকে জিম্মি করে পাশের একটি আমবাগানে নিয়ে যায়। সেখানে আব্দুস সালাম, শাহজাহান ও সামাদ আলীর সহযোগিতায় আদম আলী ও মিজান ওই নারীকে পালাক্রমে ধর্ষণ করে। ঘটনাটি কাউকে না জানানোর জন্য ভুক্তভোগীকে প্রাণনাশের হুমকিও দেওয়া হয়।বাড়ি ফেরার পর অসুস্থ হয়ে পড়া ওই নারী তাঁর স্বামীকে বিষয়টি খুলে বলেন। এরপর শনিবার (২৮ মার্চ) তিনি নিজে বাদী হয়ে আলমডাঙ্গা থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা (নং-৩৪) দায়ের করেন। মামলার পরপরই পুলিশ সুপার দ্রুত আসামিদের গ্রেফতারের নির্দেশ দেন। অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মোস্তাফিজুর রহমানের নেতৃত্বে একটি বিশেষ দল শুক্রবার দুপুরের পর থেকে বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে আসামিদের নিজ নিজ বাড়ি থেকে গ্রেফতার করে।চুয়াডাঙ্গা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ রুহুল কবীর খান বলেন, “ঘটনাটি অত্যন্ত ন্যাক্কারজনক। অভিযোগ পাওয়ার পরপরই আমাদের নিরবচ্ছিন্ন অভিযানের ফলে মাত্র কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে মূল পরিকল্পনাকারীসহ ৬ জনকেই গ্রেফতার করা সম্ভব হয়েছে। অপরাধীদের দ্রুত বিচারের মুখোমুখি করতে পুলিশ জিরো টলারেন্স নীতি বজায় রাখবে।”এনআই
Source: সময়ের কন্ঠস্বর
