দক্ষিণ চট্টগ্রামে তেল সংকটকে পুঁজি করে গ্যাস চালিত অটোরিকশা সিএনজি, বাস ও তেলের রাইড শেয়ারিং সেবার ভাড়া অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গেছে। চালকরা ইচ্ছেমতো ভাড়া দাবি করছেন বলে অভিযোগ তুলেছেন যাত্রীরা। ফলে ভোগান্তিতে পড়েছেন চট্টগ্রাম দক্ষিণের প্রায় লক্ষাধিক মানুষ।পবিত্র ঈদুল ফিতরের ছুটি শেষে সারা দেশের মানুষ যখন কর্মক্ষেত্রে ফিরছে, তখন তাদের ফিরতি যাত্রার চাকা থমকে পড়েছে জ্বালানি তেলের তীব্র সংকটে। শহর থেকে শুরু করে প্রান্তিক জনপদ সবখানেই জ্বালানি তেল এখন যেন দুষ্প্রাপ্য ‘সোনার হরিণ’। সব মিলিয়ে তেল সংকটের প্রভাব সরাসরি পড়েছে দক্ষিণ চট্টগ্রামের আনোয়ারা, কর্ণফুলী, পটিয়া, বাঁশখালী, পেকুয়া, চকরিয়া, কক্সবাজারসহ বিভিন্ন জেলার মানুষের মধ্যে। শুক্রবার (২৭ মার্চ) বিকেলে সরেজমিনে দেখা যায়, কর্ণফুলীর মইজ্জ্যেরটেক, ক্রসিং ও বড়উঠানের পেট্রল পাম্পে বন্ধ থাকায় ডিজেলচালিত বাস, গ্যাস চালিত অটোরিকশা সিএনজি ও তেলের রাইড শেয়ারিং সেবার ভাড়া অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে গেছে। গ্যাস চালিত চালকদের এমন অরাজকতায় সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন স্বল্প আয়ের মানুষ ও কর্মক্ষেত্রে ফেরা শ্রমজীবিরা। প্রয়োজনের তাগিদে বাড়তি ভাড়া দিয়ে তাদের গন্তব্যে যেতে হচ্ছে।কথা হয় আনোয়ারার চাতরী চৌমুহনী বাজার ট্রাফিক পুলিশ বক্সের সামনে দাঁড়ানো গ্যাস চালিত সিএনজি অটোরিকশার চালক হাফিজুর রহমানসহ বেশ কয়েকজন চালকের সঙ্গে। তাদের প্রশ্ন করা হয়, গ্যাসচালিত গাড়ি হওয়া সত্ত্বেও তারা বাড়তি ভাড়া নিচ্ছেন কেন। উত্তরে তারা বলেন, গ্যাসের গাড়িতে গ্যাসের ভাড়া আর অনেক সিএনজি তেলের গাড়ি, এসব গাড়িতে তেলের ভাড়া নেয়া হচ্ছে। এছাড়াও দেশে তেল সংকট এবং ঈদ বোনাস হিসেবে অনেকে বাড়তি ভাড়া নিচ্ছেন বলেও স্বীকার করেন।চট্টগ্রাম আদালতে চাকরিজীবী মো. ওসমান শাহ্ বলেন, ’চাতরী চৌমুহনী থেকে মইজ্জ্যেরটেক ভাড়া ২০ টাকা হলেও ঈদের আগে এবং আজ পর্যন্ত ভাড়া নিচ্ছে ৪০ থেকে ৫০ টাকা। আমরা যাত্রীরা তো অসহায়। তারা যা বলবে, তা মেনে নেয়া ছাড়া উপায় নাই আমাদের। কারণ আমাদের তো রাস্তায় চলতে হবে।’ব্যাংকার দিদারুল ইসলাম জানান, তেল সংকটের অজুহাতে বাইক রাইডের ভাড়া প্রায় দ্বিগুণ করে নেওয়া হচ্ছে। তিনি জানান, যেখানে আগে ১৫০ থেকে ২০০ টাকায় যাওয়া যেত, এখন সেখানে ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকা দিতে হচ্ছে। সময় বাঁচাতে অনেকেই বাইকের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছেন। তবে সাম্প্রতিক তেল সংকটে সেই সুবিধা এখন ব্যয়বহুল হয়ে উঠেছে।একরামুল হক নামে এক রাইড শেয়ারিংয়ের চালক বলেন, পুরো চট্টগ্রামে কিউসি ছাড়া কোন পাম্পে তেল দিচ্ছে না। তেল নিতে গেলে অর্ধেক দিন চলে যায়, আবার ঠিকমতো তেলও পাওয়া যায় না। তাই বাধ্য হয়ে বেশি ভাড়া নিতে হচ্ছে।যাত্রীরা অভিযোগ করে বলেছেন, বেশির ভাগ সিএনজি অটোরিকশা, গণপরিবহন গ্যাসে চলে। অথচ কোনো এসব পরিবহন নাকি এখন গ্যাসে চলে না। অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের জন্য তেলের অজুহাতে চালকরা ইচ্ছেমতো ভাড়া দাবি করছেন। যা সাধারণ যাত্রীদের চরম ভোগান্তিতে ফেলেছে।খোঁজ নিয়ে জানা যায়, চাতরী চৌমুহনী বাজার, আনোয়ারা সদর, কর্ণফুলীর ফকিনীর হাট, ক্রসিং, মইজ্জ্যেরটেক, শাহ আমানত সেতুসহ বিভিন্নস্থানে রাইড শেয়ারিং চালক, গ্যাস চালিত সিএনজি অটোরিকশা ও বাস চালকরা বাড়তি ভাড়া আদায় করছেন। ভুক্তভোগী যাত্রীরা বলছেন, পরিবারের সঙ্গে ঈদ কাটিয়ে স্বস্তিতেই ফিরছেন শহরে। আর এবারের ফিরতি যাত্রায় সড়কে বড় ধরনের যানজট না থাকায় তেমন কোনো ভোগান্তি বা জটলা পোহাতে না হলেও শুক্রবার বন্ধের দিনেও তেল সংকটের অযুহাতে বেশি ভাড়া আদায় করা হচ্ছে। অন্যদিকে চালকদের দাবি, তেলের মূল্য না বাড়লেও সরবরাহ সংকটের কারণে দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে তেল সংগ্রহ করতে হচ্ছে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে আনোয়ারা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট দীপক ত্রিপুরা বলেন, ’বাড়তি ভাড়া আদায়ের কোনো সুযোগ নেই। যেসব চালক অতিরিক্ত ভাড়া আদায় করছেন তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য ট্রাফিক পুলিশকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এছাড়াও ঈদে নিরাপদ ও স্বস্তিদায়ক ভ্রমণ নিশ্চিত করতে প্রশাসনের অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলেও জানান তিনি।’ এসআর
Source: সময়ের কন্ঠস্বর
