টাঙ্গাইলের মধুপুর উপজেলায় নিজেকে পুলিশ পরিচয় দিয়ে প্রতারণার অভিযোগে মিজানুর রহমান (২৮) নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শুক্রবার টাঙ্গাইলের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ শামসুল আলম সরকার এক প্রেসবিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এ তথ্য নিশ্চিত করেন।পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তারকৃত মিজানুর রহমান কুড়িগ্রাম জেলার ভুরুঙ্গামারী উপজেলার বাগভান্ডার গ্রামের গোলাম মোস্তফার ছেলে। তিনি দীর্ঘদিন ধরে নিজেকে পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সে কর্মরত পরিচয় দিয়ে বিভিন্ন ব্যক্তির সঙ্গে প্রতারণা করে আসছিলেন।প্রেসবিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, দেলদুয়ার উপজেলার পাছএলাসিন গ্রামের তুলসী কর্মকারের ছেলে সাগর কর্মকারের আত্মীয় রূপলাল কর্মকারের মধুপুরের জলচ্ছত্র এলাকায় চার শতাংশ জমি নিয়ে স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এ সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দিয়ে মিজানুর রহমান ১৭ হাজার টাকা দাবি করেন। বৃহস্পতিবার (২৬ মার্চ) রূপলাল কর্মকার জলচ্ছত্র এলাকা থেকে তাকে ওই টাকা দেন।টাকা গ্রহণের পর মিজানুর রহমান সাগর কর্মকার ও রূপলাল কর্মকারকে আনারস বাগান ঘুরে দেখার কথা বলে স্থান ত্যাগ করেন। পরে দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হলেও তিনি ফিরে না আসায় যোগাযোগ করা হলে তাদের মধুপুর থানা মোড়ে যেতে বলেন। সেখানে বটগাছতলায় প্রায় এক ঘণ্টা অপেক্ষার পর তিনি উপস্থিত হয়ে আরও ৫ হাজার টাকা দাবি করেন। এতে সন্দেহ সৃষ্টি হলে সাগর কর্মকার মধুপুর থানা পুলিশকে বিষয়টি অবহিত করেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করে।মধুপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) একেএম ফজলুল হক জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে মিজানুর রহমান নিজেকে ভুয়া পুলিশ হিসেবে স্বীকার করেছেন। পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সে যাচাই-বাছাই করেও তার দাবির সত্যতা পাওয়া যায়নি।গ্রেপ্তারের সময় তার কাছ থেকে পুলিশের ব্যবহৃত একটি নেভি রঙের জ্যাকেট (ট্র্যাকসুট), ‘পুলিশ’ লেখা একটি প্রায় তিন লাখ টাকা মূল্যের মোটরসাইকেল এবং একটি লাল-নীল রঙের সোল্ডার লাইট জব্দ করা হয়েছে।এ ঘটনায় সাগর কর্মকার বাদী হয়ে মধুপুর থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন। পুলিশ সুপার মোহাম্মদ শামসুল আলম সরকার জানান, পুলিশ পরিচয় ব্যবহার করে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে অর্থ আদায়ের সময় তাকে হাতেনাতে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ঘটনার বিস্তারিত তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।এফএস
Source: সময়ের কন্ঠস্বর
