যশোরের শার্শা উপজেলার সীমান্তবর্তী গোগা বাজারে কামাল হোসেন নামে এক ব্যবসায়ীকে নির্মমভাবে মারধর, তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ভাংচুর এবং নগদ টাকা লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় পুরো এলাকায় চরম আতঙ্ক ও উদ্বেগ বিরাজ করছে।স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন, দীর্ঘদিন ধরে প্রভাব খাটিয়ে নানা অপকর্মে জড়িত হযরত আলীর নেতৃত্বে একটি সন্ত্রাসী চক্র এ ঘটনার সাথে জড়িত।জানা যায়, বুধবার রাতে ও পরদিন বৃহস্পতিবার সকালে মোট দুই দফায় এ হামলার ঘটনা ঘটে। বিষয়টি নিয়ে কেউ মুখ না খোলায় জানা যায়নি। শুক্রবার (২৭ মার্চ) বিষয়টি সংবাদকর্মীরা জানতে পারেন। গুরুতর আহত ব্যবসায়ী কামাল হোসেন বর্তমানে শার্শা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্ত হজরত আলী ও তার অনুসারীদের বিরুদ্ধে এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে প্রভাব বিস্তার, চাঁদাবাজি, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং নানা সন্ত্রাসী কর্মকান্ডের অভিযোগ রয়েছে। এলাকাবাসীর ভাষ্য, তাদের দাপটে কেউ মুখ খুলতে সাহস পায় না।ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী কামাল হোসেন জানান, প্রতিবেশী হজরত আলীর সঙ্গে পূর্ব থেকেই কৃষি জমিতে সেচ (পানি দেওয়া) নিয়ে বিরোধ চলছিল। ডিপ টিউবওয়েল আমার, জমিও আমার তবুও সে জোর করে পানি দিতে বাধা দিত। ঘটনার দিন সকালে হজরত আলী তাকে বাড়িতে ডেকে নিয়ে ৪০০ মণ রড ও ৩ হাজার বস্তা সিমেন্ট বাকিতে দাবি করেন। এতে অস্বীকৃতি জানিয়ে তিনি চলে আসেন। এরপর বিকালে হজরত আলীর সহযোগীরা তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে গিয়ে প্রকাশ্যে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে এবং ব্যবসা পরিচালনা করতে হলে ওই টাকা দিতে হবে বলে হুমকি দেয়।কামাল হোসেন আরো অভিযোগ করেন, সন্ধ্যায় আমি পাশের দোকানে চা খাচ্ছিলাম। এ সময় হজরত আলী তার ২০-২৫ জন সন্ত্রাসী বাহিনী নিয়ে আমার দোকানে হামলা চালায়। আমাকে না পেয়ে তারা আমার বৃদ্ধ পিতা ও ছেলেকে বেধড়ক মারধর করে। এতে তার পিতা গুরুতর আহত হন।তিনি আরও জানান, এরপর আবারও তারা ফিরে এসে আমার ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ব্যাপক ভাংচুর চালায়। ক্যাশ টেবিল, গ্লাস, চেয়ারসহ বিভিন্ন আসবাবপত্র ভেঙে ফেলে এবং ক্যাশ ড্রয়ারে থাকা প্রায় ৩ লাখ টাকা লুট করে নিয়ে যায়। অভিযুক্ত হজরত আলী পূর্বেও পরিকল্পিতভাবে তার বিরুদ্ধে অন্তত ৬টি মিথ্যা মামলা দায়ের করেছে।অভিযুক্ত হজরত আলী তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, কামাল হোসেন অতীতে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে আমাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা করতে সহযোগিতা করেছে। ওই মামলায় আমার প্রায় ২৬ লাখ টাকা খরচ হয়েছে। সেই টাকা চাইতে গিয়ে সামান্য হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছে।এ বিষয়ে শার্শা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মারুফ হোসেন বলেন, এ বিষয়ে থানায় কেউ কোন অভিযোগ করেনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত পূর্বক আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পিএম
Source: সময়ের কন্ঠস্বর
