পটুয়াখালীর পর্যটন কেন্দ্র কুয়াকাটায় মহান স্বাধীনতা দিবস যথাযথ মর্যাদা ও আয়োজনের মধ্য দিয়ে উদযাপিত হয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে। এই দিবসে সাধারণত সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, স্থানীয় প্রশাসন ও বিভিন্ন সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনের উদ্যোগে নানা কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। তবে এ বছর কুয়াকাটায় তেমন কোনো দৃশ্যমান আয়োজন লক্ষ্য করা যায়নি।স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দিবসটি উপলক্ষে বড় ধরনের আনুষ্ঠানিকতা, শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন কিংবা উল্লেখযোগ্য সাংস্কৃতিক কর্মসূচি চোখে পড়েনি। এতে এলাকাবাসী ও আগত পর্যটকদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। অনেকেই বিষয়টিকে দুঃখজনক হিসেবে উল্লেখ করেছেন।পর্যটন ব্যবসায়ী জহিরুল ইসলাম মিরন বলেন, “মহান স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে কুয়াকাটায় তেমন কোনো আয়োজন নেই। তবে উপজেলা পর্যায়ে দিবসটি যথাযথভাবে উদযাপিত হচ্ছে। কুয়াকাটা পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে সামাজিক, রাজনৈতিক ও ব্যবসায়ীদের সম্মিলিতভাবে দিবসটি উদযাপন করা উচিত ছিল। আয়োজন না হওয়ায় আমি দুঃখ প্রকাশ করছি। ভবিষ্যতে এ বিষয়ে সর্বোচ্চ সহযোগিতা করবো।”কুয়াকাটা শিল্পী গোষ্ঠীর সভাপতি হোসাইন আমির জানান, “এত গুরুত্বপূর্ণ একটি দিনে কুয়াকাটায় রাজনৈতিক বা প্রশাসনিক তেমন কোনো কার্যক্রম চোখে পড়েনি। এটি অত্যন্ত দুঃখজনক বিষয়। তবে আমাদের সংগঠনের পক্ষ থেকে সন্ধ্যায় একটি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে।”কুয়াকাটা হোটেল-মোটেল ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মোতালেব শরীফ বলেন, “কুয়াকাটায় আলাদা করে কোনো আয়োজন নেই। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে, আমরা সেখানে অংশগ্রহণ করবো।”অন্যদিকে কুয়াকাটা পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মতিউর রহমান জানান, “স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে বাদ আসর দলীয় কার্যালয়ে দোয়া ও মোনাজাতের আয়োজন করা হয়েছে।”এ বিষয়ে কুয়াকাটা পৌর প্রশাসক ইয়াসিন সাদেক বলেন, “মহান স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে পৌরসভার পক্ষ থেকে আলাদা কোনো আয়োজন নেই। আমরা জেলা প্রশাসনের নির্দেশনা অনুযায়ী কাজ করে থাকি। সকালবেলা উপজেলা পর্যায়ে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেছি এবং বাকি কর্মসূচিগুলোতেও অংশগ্রহণ করবো।”এদিকে, পর্যটকদের মতে, দেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে কুয়াকাটায় জাতীয় দিবসগুলো আরও জাঁকজমকপূর্ণভাবে পালন করা উচিত। এতে দেশপ্রেমের চেতনা জাগ্রত হওয়ার পাশাপাশি পর্যটকদের কাছেও ইতিবাচক বার্তা পৌঁছাবে।ইখা
Source: সময়ের কন্ঠস্বর
