রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে বাসডুবির ঘটনায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ২০ জনে দাঁড়িয়েছে। এর মধ্যে মহিলা ১৪ জন ও পুরুষ ৬ জন। সকল মরদেহ রাজবাড়ী সদর হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়েছে। অধিকাংশ মরদেহের পরিচয় শনাক্ত করা হয়েছে। মরদেহগুলো স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হচ্ছে।এরআগে রাত ১টার দিকে সাংবাদিকদের ব্রিফকালে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় এবং সেতু বিভাগের প্রতিমন্ত্রী রাজিব আহসান রাত ১টা পর্যন্ত ১৬ জনের মরদেহ উদ্ধারের কথা জানিয়েছিলেন। নৌপ্রতিমন্ত্রী বলেন, বুধবার (২৫ মার্চ) কুষ্টিয়ার কুমারখালী থেকে আসা ‘সৌহার্দ্য পরিবহনের একটি বাস বিকেল সোয়া ৫টার দিকে দৌলতদিয়ার ৩ নম্বর ফেরিঘাটে পন্টুনে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে নদীতে পড়ে ডুবে যায়। ঘটনার খবর পাওয়ার পর বিকেল ৫টা ৪০ মিনিটের মধ্যে বিআইডব্লিউটিএর উদ্ধারকারী জাহাজ ‘হামজা’ এবং ডুবুরি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার কার্যক্রম শুরু করে। প্রতিকূল আবহাওয়া ও ঝড়ো পরিস্থিতির কারণে উদ্ধার কাজে কিছুটা বিঘ্ন ঘটলেও শেষ পর্যন্ত বুধবার (২৫ মার্চ) দিবাগত রাত সাড়ে ১২ টার দিকে তলিয়ে যাওয়া বাসটি উদ্ধার করে ওপরে নিয়ে আসে উদ্ধারকারী জাহাজ হামজা। ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স সূত্র জানায়, বাসটি নদীর ৮০-৯০ ফুট গভীরে তলিয়ে যায়। এক পর্যায়ে বাসটি পন্টুনের নিচে আটকে যায়। উদ্ধারকারী জাহাজ হামজার বাসটি ধীরে ধীরে ওপরে তুলে আনে।বাসটিতে ৫০ জনের মতো যাত্রী ছিলেন বলে জানা গেছে। তবে দুর্ঘটনার সময় তাৎক্ষণিক ১১ জনের মতো যাত্রী বাস থেকে বেরিয়ে যেতে সক্ষম হন। ঘটনার পরপর দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে নদীতে পড়ে যাওয়া বাসটি উদ্ধারে জোরালো অভিযান শুরু করে কর্তৃপক্ষ।নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা কাজী আরিফ বিল্লাহ জানান, উদ্ধারকারী জাহাজ ‘হামজা’ এবং বিআইডব্লিউটিএর ডুবুরি দলের সহযোগিতায় বাসটি উদ্ধার করা হয়। এ কাজে ফায়ার সার্ভিস, বিআইডব্লিউটিসি, নৌপুলিশ, সেনাবাহিনী ও স্থানীয় প্রশাসনসহ বিভিন্ন সংস্থা যুক্ত রয়েছে। স্থানীয় ডুবুরিরাও উদ্ধার তৎপরতায় অংশ নেয়।নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী রাজিব আহসান বলেন, বাসডুবির ঘটনায় পৃথক দুটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। একটি কমিটি নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মহিদুল ইসলামকে প্রধান করে ও অপরটি অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট উছেন মেকে প্রধান করে কমিটি গঠন করা হয়েছে। অতিরিক্ত সচিব তিন দিনের মধ্যে ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ৩-৪ কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিবেন।তিনি আরও জানান, সরকারের পক্ষ থেকে নিহত প্রত্যেক পরিবারকে ২৫ হাজার ও আহতদের ১৫ হাজার টাকা করে দেওয়া হবে।প্রতিমন্ত্রী রাজিব আহসান বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সার্বক্ষণিক খোঁজ-খবর রাখছেন এবং স্থানীয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ করছেন; তিনি প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনাও দিচ্ছেন।নিখোঁজদের স্বজনদের স্থানীয় ইউএনও কার্যালয় বা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে যোগাযোগ করার আহ্বান জানানো হয়েছে।প্রতিমন্ত্রী ব্রিফকালে রাত ১টা পর্যন্ত মোট ১৬ জনের মরদেহ উদ্ধারের কথা জানালেও পরে ভোর সাড়ে ৪টা পর্যন্ত এনডিসি জানায়, মোট ২০ জনের মরদেহ উদ্ধার করেছে উদ্ধারকারী দল। উদ্ধারকৃত মরদেহের মধ্যে ১৪ জন নারী ও ৬ জন পুরুষ রয়েছেন। নিহতদের মধ্যে দুজন হাসপাতালে মারা গেছেন, যাদের আহত অবস্থায় সেখানে নেওয়া হয়েছিল। আরও কয়েকজন হাসপাতালে রয়েছে।এর আগে, বুধবার বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে সৌহার্দ্য পরিবহনের একটি বাস ৩ নম্বর ফেরিঘাট এলাকায় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ৫০ জন যাত্রী নিয়ে পদ্মায় পড়ে যায়। এবি
Source: সময়ের কন্ঠস্বর
