কুপি বাতির নিভু-নিভু আলো। অন্ধকারে আধো-আধো ভেসে ওঠে দুই বৃদ্ধ মানুষের মুখ। রাস্তার পাশে পলিথিনে মোড়ানো জীর্ণ একটি ছোট্ট দোকানে বসে কাজ করছিলেন গিয়াস উদ্দিন (৭০)। পাশে নিশ্চুপ হয়ে বসে ছিলেন তার স্ত্রী জোসনা (৫৫)। আশপাশে বিদ্যুতের ঝলমলে আলো থাকলেও তাদের জীবনে যেন শুধু অন্ধকার আর অনিশ্চয়তা।কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া উপজেলার এগারসিন্দুর ইউনিয়নের চর-দেউকান্দি গ্রামের বাসিন্দা এই দম্পতি এখন থানাঘাট সংলগ্ন পুলিশ চেকপোস্ট ভবনের নিচে আশ্রয় নিয়েছেন। পলিথিনে ঘেরা একটি ছোট্ট ঝুপড়ি দোকান—এটাই তাদের শেষ সম্বল, বেঁচে থাকার শেষ আশ্রয়।দারিদ্র্য, ক্ষুধা আর ভালোবাসার এক মর্মস্পর্শী গল্প যেন তাদের জীবন। শত কষ্টের মধ্যেও একে অপরের হাত ছাড়েননি কখনো। স্বামীর পাশে বসে থেকে প্রতিটি মুহূর্তে মানসিক শক্তি জোগান জোসনা বেগম। অভাবের আঁধারে তাদের ভালোবাসাই যেন একমাত্র আলো।কথা বলে জানা যায়, তাদের তিন ছেলে ও তিন মেয়ে রয়েছেন। সবার বিয়ে হয়ে গেছে। ছেলেরাও আলাদা সংসার নিয়ে ব্যস্ত। দিনমজুরির কাজ করে তারা নিজেরাই টিকে থাকার লড়াই করছেন। ফলে বৃদ্ধ মা-বাবার পাশে দাঁড়ানোর সামর্থ্য তাদের নেই।কয়েক বছর আগে একটি ছোট দোকান ছিল গিয়াস উদ্দিনের। সেই দোকান থেকেই কোনোমতে সংসার চলত। কিন্তু অগ্নিকাণ্ডে সব পুঁজি হারিয়ে এখন পথে বসেছেন তারা। বর্তমানে বাঁশ দিয়ে মাছ ধরার চাঁই তৈরি করে সামান্য আয়ের চেষ্টা করেন গিয়াস উদ্দিন। তবে মৌসুম না থাকায় সেই আয়ও বন্ধ প্রায়।স্থানীয় বাসিন্দা রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘এই বৃদ্ধ দম্পতির কষ্টের শেষ নেই। তাদের একটি থাকার ঘর খুব প্রয়োজন। পাশাপাশি ছোট একটি দোকান করে দিলে তারা নিজেরা চলতে পারবে। খাবারের জন্যও তাদের অনেক কষ্ট করতে হয়।’গিয়াস উদ্দিন বলেন, ‘৫০ বছর ধরে কষ্ট করেই জীবন কাটছে। আগে মুদির দোকান চালাতাম। আগুনে পুড়ে সব শেষ হয়ে গেছে। এখন না খেয়ে-খেয়ে কোনোভাবে বেঁচে আছি।’কান্নাজড়িত কণ্ঠে জোসনা বেগম বলেন, ‘এই ঈদে একটা নতুন কাপড়ও কিনতে পারিনি। ভালো কিছু খেতে ইচ্ছে করে, কিন্তু কোথায় পাব? যদি কেউ একটু সাহায্য করত, তাদের জন্য দোয়া করতাম।’অভাব আর অনিশ্চয়তায় ঘেরা এই বৃদ্ধ দম্পতি এখন সহায়তার আশায় দিন গুনছেন। স্থানীয়দের মতে, একটু সহায়তা পেলেই হয়তো আবার নতুন করে বাঁচার স্বপ্ন দেখতে পারবেন তারা।ইখা
Source: সময়ের কন্ঠস্বর
