“আমারে কেন এতিম বানাই গেলা বাপ? আব্বারে কত ভালোবাসি সেটি প্রকাশ করার সময়ও দিলা না।”—সাদা কাফনে মোড়ানো বাবার নিথর দেহের পাশে দাঁড়িয়ে এভাবেই বিলাপ করছিল ১২ বছরের শিশু রহিতুল ইসলাম সামিউল। তার এমন আর্তনাদে উপস্থিত শত শত মানুষের চোখ ভিজে ওঠে। কাতারপ্রবাসী বাবা সোলায়মানের অকাল মৃত্যুতে দিশেহারা সামিউল আর তার ৯ বছরের ছোট ভাই তাছিফুল।রবিবার (২২ মার্চ) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে নগরীর নতুন ফিশারিঘাট ব্রিজ সংলগ্ন এলাকায় দুটি মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে গুরুতর আহত হন আনোয়ারার বরুমছড়া এলাকার বাসিন্দা সোলায়মান। চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী রাজিয়া সুলতানা ডলি বাকলিয়া থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন। পুলিশ ঘাতক মোটরসাইকেল চালক ও নিহতের বন্ধু রফিকুল করিমকে (৩০) গ্রেপ্তার করে আদালতে সোপর্দ করেছে।নিহতের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায় এক হৃদয়বিদারক দৃশ্য। স্বামী হারানোর শোকে বারবার জ্ঞান হারাচ্ছেন স্ত্রী রাজিয়া সুলতানা। বড় ছেলে সামিউল জানায়, ঈদে বাবার সাথে কক্সবাজার যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু বাবা কথা দিয়েছিলেন তাকে ফুলতলী সমুদ্র সৈকতে নিয়ে যাবেন। সেই ইচ্ছা আর পূরণ হলো না। ছোট ছেলে তাছিফুল বলে, “আব্বু বলেছিল শহর থেকে ফিরে আমাদের নানুবাড়ি নিয়ে যাবে, কিন্তু রাতে খবর পেলাম আব্বু আর নেই।”নিহত সোলায়মান দীর্ঘ ১৮ বছর কাতারে প্রবাস জীবন কাটিয়েছেন। গত ২৫ জানুয়ারি এক মাসের ছুটিতে দেশে এসেছিলেন তিনি। মধ্যপ্রাচ্যের অস্থির পরিস্থিতির কারণে ছুটি বাড়িয়ে আগামী ২৬ মার্চ তাঁর কর্মস্থলে ফেরার কথা ছিল। কিন্তু ফেরার মাত্র ৪ দিন আগে এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনা তাঁর জীবনের সব পরিকল্পনা কেড়ে নিল। ভাইয়ের মৃত্যুর খবর শুনে আরব আমিরাত ও ওমান থেকে দুই ভাই সকালেই দেশে পৌঁছান।সোমবার সন্ধ্যা ৭টায় স্থানীয় সুলতানিয়া জামে মসজিদ প্রাঙ্গণে সোলায়মানের জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজায় স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও আত্মীয়স্বজনসহ শত শত মানুষ অংশ নেন। স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. শরীফ বলেন, “সোলায়মান অত্যন্ত ভদ্র ও পরোপকারী মানুষ ছিলেন। বিদেশে থাকলেও সবসময় এলাকার মানুষের খোঁজখবর নিতেন।এনআই
Source: সময়ের কন্ঠস্বর
