ঈদে দেশের মানুষ কেবল স্বজনদের সঙ্গে সময় কাটাচ্ছেন না, বরং ঘুরতে আসছেন দেশের নতুন পর্যটন কেন্দ্রবিন্দু পদ্মাসেতুতে। ছুটির দিনে পদ্মা নদীর উপর নির্মিত এই স্থাপনার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও আধুনিক স্থাপত্যের সমন্বয় দর্শনার্থীদের মুগ্ধ করছে।সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত পদ্মাসেতুর চারপাশে ভ্রমণপিয়াসীদের উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে। বিভিন্ন জেলা থেকে আসা পরিবার, বন্ধু-বান্ধব ও পর্যটকরা সেতুর পাশের নির্ধারিত পর্যবেক্ষণ স্থানগুলোতে ভিড় জমাচ্ছেন। অনেকেই স্মৃতি ধরে রাখতে ছবি তুলছেন, কেউ নদীর তীর ধরে হাঁটছেন, আবার কেউ দিগন্তজুড়ে ছড়িয়ে থাকা সেতুর অপরূপ দৃশ্য উপভোগ করছেন।এদিকে দর্শনার্থীদের আগমনে খুশি স্থানীয় ব্যবসায়ীরা। পদ্মাসেতু এলাকায় ছোট ছোট চা-স্টল, খাবারের দোকান, ফুচকা ও ঝালমুড়ির স্টলগুলোতে ক্রেতাদের ভিড় দেখা গেছে। এছাড়া আকর্ষণীয় ডিজাইনের নৌকায় ভ্রমণ করতেও দেখা গেছে অনেক দর্শনার্থীকে।স্থানীয় এক দোকানি জানান, দর্শনার্থীদের আগমনে তাদের ব্যবসা দারুণভাবে বেড়েছে।তবে অতিরিক্ত ভিড়ের সঙ্গে নিরাপত্তা ব্যবস্থার বিষয়টিও গুরুত্ব পাচ্ছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পর্যটকদের সেতুর পাশে নির্ধারিত স্থান ব্যবহার করা এবং সেতুর মূল অংশে অপ্রয়োজনীয় ভিড় এড়িয়ে চলা জরুরি। সেতু পারাপারের জন্য নির্ধারিত যানপথ ও নিয়ম মেনে চলার আহ্বান জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে সন্ধ্যার পর দর্শনার্থীদের সেখানে অবস্থান না করার পরামর্শ দিয়েছে প্রশাসন।বিশেষজ্ঞদের মতে, পদ্মাসেতু শুধু দেশের যোগাযোগ ব্যবস্থার জন্য গুরুত্বপূর্ণ নয়, এটি দেশের পর্যটন খাতেও নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিয়েছে। নদীর বিশালতা, সেতুর নান্দনিক স্থাপত্য এবং চারপাশের প্রাকৃতিক পরিবেশ মিলিয়ে দর্শনার্থীদের জন্য এক অনন্য অভিজ্ঞতা তৈরি করছে।ইয়াসিন হাওলাদার নামের এক পর্যটক বলেন, ‘ঈদে পরিবার নিয়ে এখানে আসা সত্যিই আনন্দদায়ক। ছবি তোলা, নদীর দৃশ্য উপভোগ করা, সব মিলিয়ে সময়টা খুবই ভালো কাটছে।’এভাবে পদ্মাসেতু দেশীয় পর্যটকদের কাছে শুধু একটি দর্শনীয় স্থানই নয়, বরং আনন্দ ও স্মৃতির এক গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে। আগামী দিনগুলোতে ছুটি ও উৎসবের সময় এখানে দর্শনার্থীদের উপস্থিতি আরও বাড়তে পারে বলে মনে করছেন পর্যটন সংশ্লিষ্টরা।শিবচর (মাদারীপুর) উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এইচ. এম ইবনে মিজান বলেন, দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসন সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। পর্যটনকেন্দ্রে কোনো অনিয়ম বা হয়রানির ঘটনা ঘটলে সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।এসআর
Source: সময়ের কন্ঠস্বর
