আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় বরগুনার তালতলীতে তরমুজ চাষে বাম্পার ফলন হয়েছে। মৌসুমের শুরুতেই ক্ষেত থেকে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে চলে যাচ্ছে এখানকার উৎপাদিত তরমুজ। চলতি বছরে এই উপজেলা থেকে ১০০ কোটি টাকার তরমুজ বিক্রি হবে বলে জানিয়েছেন কৃষি বিভাগ।উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, এ কৃষি বিভাগের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ ছিলো ৯২৫ হেক্টর জমি। কিন্তু লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে ১২৬৪ হেক্টর জমিতে তরমুজ আবাদ হয়েছে। এ বছর এই উপজেলা থেকে প্রায় ১০০ কোটি টাকার তরমুজ বিক্রি হবে বলে জানিয়েছেন কৃষি বিভাগ। এতে কৃষি খাতে নতুন সম্ভাবনার দুয়ার উন্মোচিত হচ্ছে। অনুকূল আবহাওয়া ও বাজারে ভালো দামের প্রত্যাশায় কৃষকদের আগ্রহ দিনদিন বাড়ছে।সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, উপকূলীয় এই এলাকায় এখন যেদিকেই চোখ যায়, শুধুই মাঠের পর মাঠ তরমুজের সবুজ খেত। আগাম চাষে বাম্পার ফলনে হাসি ফুটেছে কৃষকের মুখে, যেখানে একসময় আমন ধানের পর জমি অনাবাদি পড়ে থাকত, এখন সেখানে তরমুজের চাষে বাম্পার ফলন হয়েছে। আস্থা, সুইট ড্রাগন, ড্রাগন কিং, এশিয়ান প্লাস, ভার্জিনিয়া রেড জাতের তরমুজ চাষে কৃষকরা বিনিয়োগের তুলনায় দ্বিগুণ থেকে তিনগুণ পর্যন্ত লাভ হওয়ায় কৃষকের মুখে ফুটেছে হাসি। অল্প খরচ আর স্বল্প সময়ে অধিক মুনাফার সুযোগ তৈরি হওয়ায় সাধারণ কৃষকদের মাঝে আগাম তরমুজ চাষে আগ্রহ বাড়ছে। স্থানীয় বাজারের চাহিদা মিটিয়ে এখানকার তরমুজ এখন চলে যাচ্ছে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে।উপজেলার পচাকোড়ালিয়া ইউনিয়নের উলাটানা গ্রামের চাষি রতন কুমার বলেন, ‘এবছর ১.২০ একর জমিতে আগাম তরমুজ চাষ করেছিলাম। এতে খরচ হয়েছিল ৪ লাখ টাকা। এবছর তরমুজের বাম্পার ফলন আর বাজারে চাহিদা থাকায় ১৫ লাখ টাকা বিক্রি করেছি।’উপজেলার নিশানবাড়িয়া ইউনিয়নের নলবুনিয়া গ্রামের চাষি বাবুল মিয়া বলেন, ‘আমি পায়রা নদীর তীরে ৩ একর জমিতে তরমুজ চাষ করেছি। ফলন হয়েছে এবং বাজারে চাহিদা রয়েছে। আশা করি, ৩০ লাখ টাকা বিক্রি করতে পারব।’ তিনি আরও বলেন, ‘সরকারের যদি আমাদের প্রশিক্ষণ এবং সার্বিক সহযোগিতা প্রদান করে তাহলে আগামী বছর আরও বেশি চাষাবাদ করব।’তালতলী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আবু জাফর মোঃ ইলিয়াস বলেন, ‘সঠিক পরিচর্যা ও অনুকূল আবহাওয়া থাকলে এ বছর বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা রয়েছে। খাল পুনঃখনন ও টেকসই পানি ব্যবস্থাপনার উদ্যোগ নেওয়া গেলে ভবিষ্যতে তরমুজসহ অন্যান্য ফসলের আবাদ আরও বাড়ানো সম্ভব হবে।’তিনি আরও বলেন, ‘তরমুজ চাষে কৃষকদের সার্বিক পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে কিছু চাষিদের প্রণোদনার মাধ্যমে বিজ ও সার দেওয়া হয়েছে।’এসআর
Source: সময়ের কন্ঠস্বর
